আজ বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:33:53 pm, Wednesday, 7 October 2026
  • 24
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় মধ্য তাহিরপুর গ্রামের চারটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং একটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে তাহিরপুর সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বীরজয়-লক্ষ্মী-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল মধ্য তাহিরপুর গ্রামের টোরিকশাচালক জালাল মিয়ার অটোরিকশায় গিয়ে পড়ে।

এ নিয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ওই দিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হাফিজ মিয়াকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পক্ষের লোকজন।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দিকে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মধ্য তাহিরপুর গ্রামের চারটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়।

একটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে চার গ্রামের লোকজন ফিরে যাওয়ার সময়ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন বীরনগর গ্রামের ওয়াজ আলীর ছেলে মাইনুদ্দিন (৩৫), সুবাহানের ছেলে আশিষ মিয়া (৪০), আলীমের ছেলে রেজাউল (৩৫) ও নবী হোসেনের ছেলে খোকন মিয়া (৩৬)। তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দোকানদার দুলু মিয়া বলেন, চার গ্রামের লোকজন এসে আমাদের দোকানপাটে হামলা চালায়। দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং ভাঙচুর করা হয়। পরে একটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই। মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা তানিম আহমদ লিংকন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে হামলার ঘোষণা দেয়।

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তারা তা মানেননি। পরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। নারী-শিশুরাও হামলার শিকার হয়েছেন। গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মধ্য তাহিরপুর গ্রামের খাদিজা বেগম বলেন, দেশীয় অস্ত্র ও দলবল নিয়ে লোকজন আমাদের বাড়ির দিকে আসার সময় ইউএনও, ওসি ও স্থানীয় নেতারা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু তারা কারও কথা না শুনে হামলা চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। স্থানীয় এক গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মসজিদের মাইক ব্যবহার করে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তাহিরপুর থানার ইনচার্জ ফারুক আহমদ বলেন, মসজিদে মাইকিংয়ের পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মামলা বা আটকের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

শিশু ধর্ষণ: দুই মামলায় নুর ইসলামের ৬০ বছরের কারাদণ্ড

তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে আহত ২০

Update Time : 07:33:53 pm, Wednesday, 7 October 2026

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় মধ্য তাহিরপুর গ্রামের চারটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং একটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে তাহিরপুর সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে বীরজয়-লক্ষ্মী-ধুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল মধ্য তাহিরপুর গ্রামের টোরিকশাচালক জালাল মিয়ার অটোরিকশায় গিয়ে পড়ে।

এ নিয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের হাফিজ মিয়ার সঙ্গে ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে ওই দিন বিকেলে তাহিরপুর বাজারে ধুতমা গ্রামের জসিম উদ্দিনকে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হাফিজ মিয়াকেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তার পক্ষের লোকজন।

এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর বুধবার সকালে বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ও ধুতমা গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দিকে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় মধ্য তাহিরপুর গ্রামের চারটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়।

একটি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে চার গ্রামের লোকজন ফিরে যাওয়ার সময়ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন বীরনগর গ্রামের ওয়াজ আলীর ছেলে মাইনুদ্দিন (৩৫), সুবাহানের ছেলে আশিষ মিয়া (৪০), আলীমের ছেলে রেজাউল (৩৫) ও নবী হোসেনের ছেলে খোকন মিয়া (৩৬)। তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দোকানদার দুলু মিয়া বলেন, চার গ্রামের লোকজন এসে আমাদের দোকানপাটে হামলা চালায়। দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং ভাঙচুর করা হয়। পরে একটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই। মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা তানিম আহমদ লিংকন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে হামলার ঘোষণা দেয়।

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও তারা তা মানেননি। পরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আমাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। নারী-শিশুরাও হামলার শিকার হয়েছেন। গরু-ছাগল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। মধ্য তাহিরপুর গ্রামের খাদিজা বেগম বলেন, দেশীয় অস্ত্র ও দলবল নিয়ে লোকজন আমাদের বাড়ির দিকে আসার সময় ইউএনও, ওসি ও স্থানীয় নেতারা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু তারা কারও কথা না শুনে হামলা চালায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। স্থানীয় এক গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মসজিদের মাইক ব্যবহার করে লোকজন জড়ো করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তাহিরপুর থানার ইনচার্জ ফারুক আহমদ বলেন, মসজিদে মাইকিংয়ের পর থেকেই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিল। ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় মামলা বা আটকের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।