আজ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৫%

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রাধ্যক্ষ অব্যাহতি পেলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:50:17 am, Tuesday, 6 October 2026
  • 16

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রাধ্যক্ষ অব্যাহতি পেলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনার মধ্যে প্রশাসন একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি হামলার ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের আন্দোলন-অবস্থান চলার পর প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এরপর সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন। ’ এর আগে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।

একপর্যায়ে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। এরপর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে স্থায়ী বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নয়, অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের হামলার ঘটনায় দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরান বলেন, প্রশাসন তাদের দাবির একটি অংশ মেনে নিয়েছে এবং বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি রোডম্যাপ দিয়েছে।

প্রশাসন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করলে শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করবেন। তবে কোনো গাফিলতি হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রশাসনের সংবাদ বয়কট সাংবাদিকদের এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ক্যাম্পাসে কর্মরত তিনটি সাংবাদিক সংগঠন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কর্মসূচি বয়কট অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, প্রশাসন তাদের কিছু দাবি মেনে নিয়েছে। তবে কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নে সময় চাওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো সংবাদ কভার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। পরে আহত সাংবাদিকদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মেসির বিদায়ী ম্যাচে এনসোর কান্না ও স্কালোনির আবেগের বহিঃপ্রকাশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: হল প্রাধ্যক্ষ অব্যাহতি পেলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা

Update Time : 10:50:17 am, Tuesday, 6 October 2026

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তেজনার মধ্যে প্রশাসন একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হামলার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি হামলার ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের আন্দোলন-অবস্থান চলার পর প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। এরপর সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন। ’ এর আগে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।

একপর্যায়ে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। এরপর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১৫ দিনের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে স্থায়ী বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নয়, অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের হামলার ঘটনায় দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থী শাহ পরান বলেন, প্রশাসন তাদের দাবির একটি অংশ মেনে নিয়েছে এবং বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে একটি রোডম্যাপ দিয়েছে।

প্রশাসন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করলে শিক্ষার্থীরা সহযোগিতা করবেন। তবে কোনো গাফিলতি হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রশাসনের সংবাদ বয়কট সাংবাদিকদের এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে ক্যাম্পাসে কর্মরত তিনটি সাংবাদিক সংগঠন। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের কর্মসূচি বয়কট অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে প্রশাসনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির বলেন, প্রশাসন তাদের কিছু দাবি মেনে নিয়েছে। তবে কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নে সময় চাওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো সংবাদ কভার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, হামলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। পরে আহত সাংবাদিকদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।