আজ সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৪%

বিলাতি ধনেপাতা চাষ করে বদলে গেছে কৃষক মোহাম্মদ আলীর ভাগ্য

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:26:47 pm, Monday, 5 October 2026
  • 11

বিলাতি ধনেপাতা চাষ করে বদলে গেছে কৃষক মোহাম্মদ আলীর ভাগ্য

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একসময় নিজের কোনো জমিজমা ছিল না। অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে সংসার চালাতেন কৃষক মোহাম্মদ আলী (৫৫)। ভাগ্য বদলের আশায় প্রায় ১৫ বছর আগে অন্যের জমি চুক্তিতে নিয়ে শুরু করেন বিলাতি ধনেপাতা চাষ।

সেই ধনেপাতা চাষই এখন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নিজের জমি কিনেছেন, বাড়িতে নতুন ঘর তুলেছেন। একসময় যিনি অন্যের জমিতে কাজ করতেন, এখন তার জমিতে নিয়মিত কাজ করছেন ৮-১০ জন শ্রমিক। তার এই সাফল্য এখন কুরাটি গ্রামের অন্য কৃষকদের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার গল্প। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কুরাটি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলীর এমন সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের অনেক কৃষকও এখন বিলাতি ধনেপাতা চাষে ঝুঁকেছেন।

জমি থেকে পাতা তুলে বাজারে নেওয়ার পর দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কুরাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোহাম্মদ আলী ও তার ভাই হেলাল উদ্দিন কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে জমি থেকে তোলা ধনেপাতা জড়ো করছেন। পরে সেগুলো পানিতে ধুয়ে বাছাই করে আঁটি বাঁধছেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন বিকেলে এসব ধনেপাতা দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয়।

মোহাম্মদ আলী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি অন্যের জমি প্রতি কাঠা (১০ শতক) বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়ে বিলাতি ধনেপাতা চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে অল্প জমিতে চাষ করলেও ধীরে ধীরে পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তিনি ১৮ কাঠা জমিতে ধনেপাতা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি ধনেপাতা বিক্রি করতে পারি।

দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে আমার কাছ থেকে পাতা কিনে নিয়ে যান। এ বছর সব খরচ বাদ দিয়ে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। ’ মোহাম্মদ আলী জানান, ধনেপাতার চাহিদা সারা বছরই রয়েছে। রমজান মাসে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেড়ে গেলে প্রতি কেজি ধনেপাতা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্য সময় দাম কিছুটা কম থাকলেও শহরের বিভিন্ন বাজার ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় এর চাহিদা থাকায় বিক্রিতে সমস্যা হয় না।

ধনেপাতা চাষ ও পরিচর্যা, পাতা উত্তোলন, ধোয়া, বাছাই এবং আঁটি বাঁধার কাজে প্রতিদিন ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করেন তার সঙ্গে। এতে একদিকে যেমন তার নিজের কর্মসংস্থান হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিকেরও নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কুরাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাদির বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী এই এলাকায় ধনেপাতা চাষের পথিকৃৎ।

তার সাফল্য দেখে গ্রামের অনেক কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ধনেপাতা চাষ করে তিনি নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাইমা সুলতানা বলেন, ‘ধনেপাতা মূলত দুই ধরনের। একটি দেশি জাতের, যা সাধারণত শীতকালে চাষ করা হয়। অন্যটি গাঢ় সবুজ রঙের বিলাতি ধনেপাতা, যা সারা বছরই পাওয়া যায়। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ আলীকেও বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আইনের শাসনে বিশ্বাসী বিএনপি সরকার: এস এম ফয়সল

বিলাতি ধনেপাতা চাষ করে বদলে গেছে কৃষক মোহাম্মদ আলীর ভাগ্য

Update Time : 05:26:47 pm, Monday, 5 October 2026

একসময় নিজের কোনো জমিজমা ছিল না। অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে সংসার চালাতেন কৃষক মোহাম্মদ আলী (৫৫)। ভাগ্য বদলের আশায় প্রায় ১৫ বছর আগে অন্যের জমি চুক্তিতে নিয়ে শুরু করেন বিলাতি ধনেপাতা চাষ।

সেই ধনেপাতা চাষই এখন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। নিজের জমি কিনেছেন, বাড়িতে নতুন ঘর তুলেছেন। একসময় যিনি অন্যের জমিতে কাজ করতেন, এখন তার জমিতে নিয়মিত কাজ করছেন ৮-১০ জন শ্রমিক। তার এই সাফল্য এখন কুরাটি গ্রামের অন্য কৃষকদের কাছেও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার গল্প। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কুরাটি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলীর এমন সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের অনেক কৃষকও এখন বিলাতি ধনেপাতা চাষে ঝুঁকেছেন।

জমি থেকে পাতা তুলে বাজারে নেওয়ার পর দ্রুত বিক্রি হয়ে যাওয়ায় এ ফসল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কুরাটি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মোহাম্মদ আলী ও তার ভাই হেলাল উদ্দিন কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে জমি থেকে তোলা ধনেপাতা জড়ো করছেন। পরে সেগুলো পানিতে ধুয়ে বাছাই করে আঁটি বাঁধছেন শ্রমিকরা। প্রতিদিন বিকেলে এসব ধনেপাতা দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয়।

মোহাম্মদ আলী জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে তিনি অন্যের জমি প্রতি কাঠা (১০ শতক) বছরে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়ে বিলাতি ধনেপাতা চাষ শুরু করেন। প্রথম দিকে অল্প জমিতে চাষ করলেও ধীরে ধীরে পরিধি বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে তিনি ১৮ কাঠা জমিতে ধনেপাতা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি ধনেপাতা বিক্রি করতে পারি।

দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এসে আমার কাছ থেকে পাতা কিনে নিয়ে যান। এ বছর সব খরচ বাদ দিয়ে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। ’ মোহাম্মদ আলী জানান, ধনেপাতার চাহিদা সারা বছরই রয়েছে। রমজান মাসে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বেড়ে গেলে প্রতি কেজি ধনেপাতা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। অন্য সময় দাম কিছুটা কম থাকলেও শহরের বিভিন্ন বাজার ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় এর চাহিদা থাকায় বিক্রিতে সমস্যা হয় না।

ধনেপাতা চাষ ও পরিচর্যা, পাতা উত্তোলন, ধোয়া, বাছাই এবং আঁটি বাঁধার কাজে প্রতিদিন ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করেন তার সঙ্গে। এতে একদিকে যেমন তার নিজের কর্মসংস্থান হয়েছে, অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিকেরও নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কুরাটি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাদির বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী এই এলাকায় ধনেপাতা চাষের পথিকৃৎ।

তার সাফল্য দেখে গ্রামের অনেক কৃষক এখন এই চাষে আগ্রহী হয়েছেন। ধনেপাতা চাষ করে তিনি নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাইমা সুলতানা বলেন, ‘ধনেপাতা মূলত দুই ধরনের। একটি দেশি জাতের, যা সাধারণত শীতকালে চাষ করা হয়। অন্যটি গাঢ় সবুজ রঙের বিলাতি ধনেপাতা, যা সারা বছরই পাওয়া যায়। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদ আলীকেও বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।