পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি এবং দেশে সংবিধান ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। রোববার (৪ অক্টোবর) করাচির বিভিন্ন এলাকায় এই কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ বেশ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করে এবং দলটির নেতাকর্মীদের আটক করে।
পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে করাচির সাতটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। দলটির ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধান ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা, জনগণের দেওয়া রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান এবং মূল্যস্ফীতি ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সংকট কমানো। বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে করাচির নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিভিন্ন সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। এর ফলে নগরীর কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পুলিশের বাধা সত্ত্বেও করাঙ্গি, করাচি ইস্ট ও করাচি ওয়েস্টসহ একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ করেন পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা। করাঙ্গির কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন পিটিআই করাচির সভাপতি ফাহিম খান, পিটিআই সিন্ধুর অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক রিজওয়ান নিয়াজি এবং সিন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ওভাইস চৌধুরী।
পরে সেখানে একটি মিছিলও বের করেন দলটির কর্মীরা। এদিকে এমপ্রেস মার্কেটের কাছেও পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে পিটিআই। সেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী কর্মীও অংশ নেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে করাচি প্রেস ক্লাব ও ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত আশপাশের এলাকাতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
এতে এসব এলাকার সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়িচালকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। পিটিআইয়ের দাবি, করাচির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৭৫ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আটক করে বিভিন্ন থানায় নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। সিন্ধুর অন্যান্য এলাকাতেও আটকের অভিযোগ করেছে পিটিআই। বিশেষ করে সুক্কুরে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে দলটির দাবি।
সব মিলিয়ে পুরো সিন্ধু প্রদেশে আটক পিটিআই নেতাকর্মীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে দলটি। পুলিশের অভিযানের নিন্দা জানিয়েছেন পিটিআই-সিন্ধুর মুখপাত্র মুহাম্মদ আলী বেলুচ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে গ্রেপ্তার ও বিধিনিষেধ আরোপ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক মতপ্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা।
সিন্ধুর ক্ষমতাসীন পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা, জনগণের ম্যান্ডেটের প্রতি সম্মান এবং মূল্যস্ফীতি থেকে মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার মতো দাবির জন্য রাজনৈতিক কর্মীদের গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। পিটিআই মুখপাত্র আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের অধিকার সংবিধান স্বীকৃত।
আটক সব নেতাকর্মীকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি। করাচি প্রেস ক্লাব বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনা করেন মুহাম্মদ আলী বেলুচ। তার মতে, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের বিধিনিষেধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যেই দলের রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে পিটিআইয়ের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।






















