গ্রেপ্তার হওয়া চার নেতার নিঃশর্ত মুক্তি, ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ এবং পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে চালকদের ‘ভাত দে, কাপড় দে, নইলে অটো চলতে দে’ স্লোগান দিতে এবং এ সংক্রান্ত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
ওই বিক্ষোভ থেকে সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন রিকশা ও ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা। তাদের প্রধান অভিযোগ, অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার গ্যারেজগুলোতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ প্রতিনিয়ত চালকদের হয়রানি করছে এবং অটোরিকশা আটক করে ডাম্পিংয়ে পাঠাচ্ছে। চালকদের দাবি, একটি রিকশা আটক করলে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধের পর বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে পৌঁছান চালকরা। সেখানে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা দেশ পরিচালনায় সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। কিন্তু আগামী তিন কার্যদিবস বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিনা দোষে শাস্তি পাওয়া আমাদের চার নেতাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে এবং অন্যায়ভাবে রিকশা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ না হলে আমরা আরও কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন ঘোষণা করব।
’ দাবি না মানলে যে কর্মসূচি দেওয়া হবে, তা ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাহীন বেপারী নামের এক রিকশাচালক বর্তমান দ্রব্যমূল্য ও নাগরিক সুবিধা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে গ্যাস, তেল, পানি নাই—সবই কি অটোতে খেয়েছে? আগের সরকারের সময় পানি, গ্যাস, কারেন্ট সব ছিল, জিনিসের দামও কম ছিল।
আর এখন সব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ’ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না বলেও জানান। প্রসঙ্গত, গত ১ অক্টোবর দুপুরে ব্যাটারিচালিত রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চার নেতাকে আটক করে গ্রেপ্তার দেখায় সবুজবাগ থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—সবুজবাগ থানা কমিটির সভাপতি আকবর, তার ছেলে ইয়াসিন, সেন্টু এবং রহিম মহাজন।
মূলত এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদেই রাস্তায় নামেন চালক ও শ্রমিকরা। এদিকে চালকদের এই অবরোধের কারণে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চলাচল মারাত্মকভাবে কমে যায়। রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় অটোরিকশার সংখ্যা ছিল একেবারেই নগণ্য, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।






















