আজ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৫৪%

মায়ের পাঁচতলা বাড়ি লিখে নিয়ে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না অতিরিক্ত সচিবের স্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:32:58 pm, Sunday, 4 October 2026
  • 8

মায়ের পাঁচতলা বাড়ি লিখে নিয়ে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না অতিরিক্ত সচিবের স্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ময়মনসিংহ নগরীর ভাটিকাশর এলাকায় মায়ের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ের বিরুদ্ধে। এমন কি বাড়ির ভাড়া থেকেও মাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রহিমা খাতুন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন। তিনি ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার কোনো ছেলে নেই। তার মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি। ফারজানার স্বামী সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তার মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি ও মেয়ের স্বামী হায়দার জাহান ফারাশ অতিরিক্ত সচিব (বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়িটি তার কাছ থেকে নিজেদের নামে লিখে নেন। বাড়িটি লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের আচরণে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি ওই বাড়ির একটি অংশে বসবাস করলেও বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

ভাড়া বাবদ পাওয়া অর্থের বেশির ভাগই তার মেয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। রহিমা খাতুন বলেন, বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না তিনি। মেয়ের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তার পক্ষে কেউ কথা বললেও তাকেও নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েও তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

রহিমা খাতুন বলেন, জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে লিখে নেওয়া বাড়িটি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণ আইনে মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা সুলতানা কাবেরি বলেন, আমার মায়ের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

আমি নিয়মিত ঢাকায় বসবাস করি। বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা মাকে দেওয়া হয়। ফারজানা আরও বলেন, বাকি টাকা আমরা দুই বোন মিলে নিই। মাকে ফোন করলে তিনি ভালোভাবে কথা বলেন না। এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে যোগাযোগ খুব কম হয়। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী ওয়ারিশদার না। এ ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

যে কারণে উনার সাথে কথা বলারও কোন প্রয়োজন নেই। মায়ের স্বজনদের ইন্ধনে তিনি আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছেন। এ বিষয়ে জানতে অপর মেয়ে ফারহানা সুলতানা সুমির নাম্বারে একাধিবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলার পর সারজিস-হাসনাতের পোস্ট

মায়ের পাঁচতলা বাড়ি লিখে নিয়ে ভরণপোষণ দিচ্ছেন না অতিরিক্ত সচিবের স্ত্রী

Update Time : 09:32:58 pm, Sunday, 4 October 2026

ময়মনসিংহ নগরীর ভাটিকাশর এলাকায় মায়ের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ের বিরুদ্ধে। এমন কি বাড়ির ভাড়া থেকেও মাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রহিমা খাতুন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন। তিনি ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার কোনো ছেলে নেই। তার মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি। ফারজানার স্বামী সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তার মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি ও মেয়ের স্বামী হায়দার জাহান ফারাশ অতিরিক্ত সচিব (বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়িটি তার কাছ থেকে নিজেদের নামে লিখে নেন। বাড়িটি লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের আচরণে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি ওই বাড়ির একটি অংশে বসবাস করলেও বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

ভাড়া বাবদ পাওয়া অর্থের বেশির ভাগই তার মেয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি। রহিমা খাতুন বলেন, বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না তিনি। মেয়ের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তার পক্ষে কেউ কথা বললেও তাকেও নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েও তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

রহিমা খাতুন বলেন, জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে লিখে নেওয়া বাড়িটি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণ আইনে মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা সুলতানা কাবেরি বলেন, আমার মায়ের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন।

আমি নিয়মিত ঢাকায় বসবাস করি। বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা মাকে দেওয়া হয়। ফারজানা আরও বলেন, বাকি টাকা আমরা দুই বোন মিলে নিই। মাকে ফোন করলে তিনি ভালোভাবে কথা বলেন না। এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে যোগাযোগ খুব কম হয়। তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী ওয়ারিশদার না। এ ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

যে কারণে উনার সাথে কথা বলারও কোন প্রয়োজন নেই। মায়ের স্বজনদের ইন্ধনে তিনি আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছেন। এ বিষয়ে জানতে অপর মেয়ে ফারহানা সুলতানা সুমির নাম্বারে একাধিবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি।