চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ানের নতুন কমিটির অভিষেক ও দশম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল শনিবার বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যান্ড পার্টির তালে তালে বিকেল ৩টায় নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড় থেকে এই আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু হয়।
মোমিন রোড, আন্দরকিল্লা চত্বর হয়ে সিরাজউদৌলা রোডে গিয়ে তা শেষ হয়। এরপর সিরাজউদৌলা রোডে একটি কনভেনশন সেন্টারে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ানের সভাপতি জামাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসানের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। অতিথি ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম।
বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান। বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক লায়ন এম এ মুসা বাবলু, সদস্য সচিব লায়ন হাজী মোহাম্মদ ইসলাম, সংগঠনের সহসভাপতি দোস্ত মোহাম্মদ, মো. ইলিয়াছ উলু, আশরাফ উদ্দিন মাহমুদ, আবু তাহের চৌধুরী প্রমুখ। সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে আটজন গুণীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন সাংবাদিকতায় একুশে পদকপ্রাপ্ত দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, শিক্ষাবিদ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম, লায়ন রূপম কিশোর বড়ুয়া, শিক্ষাবিদ হাসিনা জাকারিয়া বেলা, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংবাদিকতায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান ও ভান্ডারী গানের শিল্পী আহমদ নুর আমিরী।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ান চাটগাঁর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা এবং অধিকার রক্ষার এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এক দশকে সংগঠনটি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। মানবিক সেবা, যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং চট্টগামের ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এই সংগঠনের ভূমিকা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক রাজধানী চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও গৌরবকে ধারণ করতে হবে। চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ানের তরুণদের মেলবন্ধনে চট্টগ্রামের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের শিকড় ও ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরি। বক্তারা বলেন, অনুষ্ঠানের তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল গুণীজন সম্মাননা। চট্টগ্রাম সব সময় বীর ও গুণীদের চারণভূমি।
নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ানের পক্ষ থেকে আজকে যাদেরকে সম্মানিত করা হয়েছে, তাদেরকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। এই সম্মাননা তরুণ প্রজন্মকে আলোর পথ দেখাবে।






















