লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরির অভিযোগে ১৭ বছরের এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল কাইয়ুম ও রাকিব হোসেন নামে দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের দিঘলদি গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। মারধরের শিকার কিশোর শান্ত মজুমদার একই গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেওড়াডুগি এলাকায় সম্প্রতি কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার পর চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শান্তকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক ও তার ভাই অন্তর মজুমদার আটক করেন বলে অভিযোগ। পরে তাকে হাত-পা বেঁধে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির হাত ও পা বাঁধা। তার পরনের কাপড়ও অবিন্যস্ত অবস্থায় দেখা যায়। কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন এবং বিভিন্নভাবে মারধর ও গালাগাল করছেন।
ভিডিওতে উত্তপ্ত পরিবেশ ও সহিংসতার দৃশ্য দেখা যায়। শান্ত মজুমদার চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, চুরির সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুধু সন্দেহের কারণে আমাকে ধরে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। পরে সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমি সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, একজন কিশোরকে এভাবে হাত-পা বেঁধে মারধর করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
অপরাধের অভিযোগ থাকলে পুলিশকে জানানো উচিত ছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, কেওড়াডুগি এলাকায় চুরির ঘটনার বিষয়ে তারা তথ্য পেয়েছে। কিন্তু শান্ত মজুমদারের কাছ থেকে কোনো চোরাই মালামাল উদ্ধারের তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য, চুরির অভিযোগের পাশাপাশি কিশোরকে মারধরের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে শারীরিকভাবে নির্যাতন বা অপমান করার সুযোগ নেই। রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দীন ভূঁইয়া বলেন, কিশোরকে বেঁধে মারধরের ভিডিওটি আমরা দেখেছি। চুরির অভিযোগ তুলে তার ভাইসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















