নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১০ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও বাধা দেওয়ায় প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে ব্যবসায়ী মো. রাসেল হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং উল্টো তারাই হুমকির শিকার হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. রাসেল হোসেন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, পাইনাদি তেরা মার্কেট এলাকার মৃত মনসুর আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন (৮০) এবং তার তিন ছেলে মো. শাহাবুদ্দিন (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৪০) ও মো. সৈকত আলী (৩৬)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিআইখোলা এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী রাসেল হোসেন পাইনাদি নতুন মহল্লা এলাকায় ক্রয়সূত্রে ১০ শতাংশ জমির (সি.এস ও এস.এ দাগ নং ২০৫, ২০৬ এবং আর.এস দাগ নং ৪২২, ৪২৩) মালিক বলে দাবি করেন।
তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খাজনা-খারিজ সম্পন্ন করে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তার অভিযোগ, অভিযুক্তরা ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাসেল হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন জমিতে গেলে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের বাধা দেন এবং মারমুখী আচরণ করেন।
এরপর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় সংঘর্ষ ও প্রাণহানির আশঙ্কা প্রকাশ করে তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মো. শাহাবুদ্দিন তা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ১৯৫৮ সাল থেকে তার দাদা ও বাবার ভোগদখলে থাকা পৈতৃক সম্পত্তি একটি প্রভাবশালী মহল দখলের চেষ্টা করছে এবং এই চক্র তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।
তার দাবি, আদালত ও হাইকোর্টের রায় তাদের পক্ষে থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ তা উপেক্ষা করে লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক জমিতে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি জেলা প্রশাসক ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সম্পত্তি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে একটি মামলা (নং ১১৩৬/২২) বর্তমানে বিচারাধীন।
বাদীপক্ষের দাবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন, তবে তা সফল হয়নি। দুই পক্ষের দাবি ও কাগজপত্র যাচাইয়ের দায়িত্ব আদালত ও তদন্ত সংস্থার। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রাজ্জাক জানান, অভিযোগটি হাতে পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















