আজ শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৫%

বন্দর রক্ষা কমিটির ৫ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:49:55 pm, Saturday, 3 October 2026
  • 11

বন্দর রক্ষা কমিটির ৫ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দল নেতা আব্দুর রউফ লিটন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত এই অবকাঠামো নিয়ে প্রস্তাবটি ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় উপস্থাপন করা হয়েছে-এমন তথ্য উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কেন মূল এজেন্ডায় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হলো না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এনসিটি বন্দরের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল। ফলে এটিকে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার বিষয়টি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়।

এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কনসেশনে দিলে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা-এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। বন্দর রক্ষা কমিটি জানায়, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধিতা করে না।

তবে জাতীয় কৌশলগত অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত স্বাধীনতা যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আগে পর্যালোচনা করার দাবি জানানো হয়।

কমিটির সদস্যসচিব বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের সময়ে এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে এত তাড়াহুড়োর প্রয়োজন কেন-তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা দরকার।

এ ধরনের চুক্তি দেশের অর্থনীতি, রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও জাতীয় কৌশলগত স্বার্থে কী ধরনের সুবিধা ও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে তাদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন, প্রতীকী অনশন, কালো ও লাল পতাকা মিছিল, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।

এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংলাপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে কমিটি জানায়। বন্দর রক্ষা কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের উদ্বেগ তুলে ধরা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য।

এ কারণে এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল, সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

একই সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের হয়রানিমূলক বদলি বা অন্য কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি না করার দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়, আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বন্দর রক্ষা কমিটি। ওই তারিখের মধ্যে সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারা প্রদানের উদ্যোগ বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একই সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত সকল প্ল্যাটফরম, সংগঠন ও জোটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে জাতীয় সম্পদ রক্ষার এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানায় কমিটি। বন্দর রক্ষা কমিটি বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের সম্পদ নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ।

বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজস্ব, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই এনসিটি ও সিসিটি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামত, শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, দেশে মোট প্রাণহানি বেড়ে ২৫৬

বন্দর রক্ষা কমিটির ৫ অক্টোবর অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা

Update Time : 04:49:55 pm, Saturday, 3 October 2026

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিল এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজী, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দল নেতা আব্দুর রউফ লিটন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত এই অবকাঠামো নিয়ে প্রস্তাবটি ‘বিবিধ’ এজেন্ডায় উপস্থাপন করা হয়েছে-এমন তথ্য উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় কেন মূল এজেন্ডায় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন ও আলোচনা করা হলো না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, রাজস্ব, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এনসিটি বন্দরের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল। ফলে এটিকে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার বিষয়টি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়।

এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কনসেশনে দিলে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা-এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন। বন্দর রক্ষা কমিটি জানায়, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বা আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধিতা করে না।

তবে জাতীয় কৌশলগত অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা, রাজস্ব, কর্মসংস্থান, শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত স্বাধীনতা যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালের সঙ্গে ২২ বছরের চুক্তির অভিজ্ঞতাও নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আগে পর্যালোচনা করার দাবি জানানো হয়।

কমিটির সদস্যসচিব বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের সময়ে এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি কনসেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে এত তাড়াহুড়োর প্রয়োজন কেন-তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা দরকার।

এ ধরনের চুক্তি দেশের অর্থনীতি, রাজস্ব, কর্মসংস্থান ও জাতীয় কৌশলগত স্বার্থে কী ধরনের সুবিধা ও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, বন্দর রক্ষা কমিটি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে তাদের উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরছে। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন, প্রতীকী অনশন, কালো ও লাল পতাকা মিছিল, মশাল মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে।

এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান এবং প্রয়োজনে জাতীয় সংলাপের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে কমিটি জানায়। বন্দর রক্ষা কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের উদ্বেগ তুলে ধরা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য।

এ কারণে এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল, সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বন্দর শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

একই সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের হয়রানিমূলক বদলি বা অন্য কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি না করার দাবি জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়, আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে বন্দর রক্ষা কমিটি। ওই তারিখের মধ্যে সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারা প্রদানের উদ্যোগ বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

একই সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারাবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত সকল প্ল্যাটফরম, সংগঠন ও জোটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে জাতীয় সম্পদ রক্ষার এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ারও আহ্বান জানায় কমিটি। বন্দর রক্ষা কমিটি বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট অঞ্চলের সম্পদ নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ।

বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজস্ব, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই এনসিটি ও সিসিটি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামত, শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।