আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

গঙ্গা চুক্তি দ্রুত নবায়নের আহ্বান নদী গবেষকদের

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:02:46 am, Friday, 2 October 2026
  • 8

গঙ্গা চুক্তি দ্রুত নবায়নের আহ্বান নদী গবেষকদের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি নবায়ন না করে, নতুন চুক্তির আলোচনা মানেই সময় অপচয়। এতে পদ্মা নদীর পরিণতিও তিস্তার মতোই হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছেন গবেষকরা। তাই কালক্ষেপণ না করে বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত গঙ্গা চুক্তি নবায়নের পরামর্শ তাদের।

হিমালয়ের গাঙ্গেয়ত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা। আড়াই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে পদ্মা নামে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে মিশেছে এ নদী।

তবে শীতে এই নদীর চিত্র পাল্টে যায়। উজানে গঙ্গার ওপর ২৯টি বাঁধ ও জলবিদ্যুত কেন্দ্র গড়েছে ভারত। পানি অপসারণ ছাড়াও পলি জমায় ভাটিতে থাকা বাংলাদেশ অংশে পানির প্রবাহ কমে যায়। ফলে, শুকনো মৌসুমে জলহীন থাকে পদ্মা।

কৃষিকাজ স্বাভাবিক রাখতে, ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি হয়। সেখানে শুকনো মৌসুমে ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল। ১৪ বছর পর ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় দফায় ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তি হয়। সেখানে প্রতিবছর ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত উভয় দেশ ১০ দিন পরপর ৫০ ভাগ পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল।

নদী ও জলবায়ু গবেষক মালিক ফিদা এ খান বলেন, ‘২টা চুক্তির মধ্যে যদি আমরা পার্থক্য করি তবে আমি বলব ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি একটু শক্তিশালী। ১৯৯৬ সালেরটা একটু কম শক্তিশালী। এখন এটা বিভিন্ন প্রেক্ষিতে সময়ের সাথে সাথে নিশ্চয়তার পার্থক্য হতেই পারে।’

নদী গবেষক শেখ রোকন বলেন, ‘এ চুক্তির ৮ ও ৯ নম্বর ধারায় বলা রয়েছে যে, দুই দেশ মিলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করবে। এটা একটা অদ্ভুত ধারা।’

চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর। সেটি নবায়ন না করে, নতুন শর্তে পানিবন্টন চুক্তি করতে চায় সরকার। তবে, এর বিপক্ষে গবেষকরা।

নদী গবেষক শেখ রোকন বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তিতে অধিকারের বিষয় তো আছেই। এগুলো আমরা যাছাই করব। পর্যালোচনা করব। কিন্তু সেটা চুক্তি নবায়নের পরে। নতুন চুক্তি করতে গেলে গঙ্গা ও তিস্তার অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। এমনটা নতুন গঙ্গা চুক্তির ক্ষেত্রেও হতে পারে বলে আমার আশঙ্কা। নতুন চুক্তি করাটা একটা ফাঁদ। এটা বিভ্রান্তি। বিপজ্জনক।’

নদী ও জলবায়ু গবেষক মালিক ফিদা এ খান বলেন, ‘চুক্তিটা মাসখানেকের মধ্যে হতে পারে। যদি আমরা ধরেই নিই– ডিসেম্বরে চুক্তিটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি ভারতের স্বদিচ্ছা থাকে তবে জানুয়ারির মধ্যেও এ চুক্তি হতে পারে।’

নেপালকে সঙ্গে নিয়ে, ভারতের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিকভাবে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির পরামর্শ গবেষকদের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২ সশস্ত্র যোদ্ধা

গঙ্গা চুক্তি দ্রুত নবায়নের আহ্বান নদী গবেষকদের

Update Time : 03:02:46 am, Friday, 2 October 2026

গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি নবায়ন না করে, নতুন চুক্তির আলোচনা মানেই সময় অপচয়। এতে পদ্মা নদীর পরিণতিও তিস্তার মতোই হওয়ার শঙ্কা জানিয়েছেন গবেষকরা। তাই কালক্ষেপণ না করে বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত গঙ্গা চুক্তি নবায়নের পরামর্শ তাদের।

হিমালয়ের গাঙ্গেয়ত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা। আড়াই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে পদ্মা নামে বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে মিশেছে এ নদী।

তবে শীতে এই নদীর চিত্র পাল্টে যায়। উজানে গঙ্গার ওপর ২৯টি বাঁধ ও জলবিদ্যুত কেন্দ্র গড়েছে ভারত। পানি অপসারণ ছাড়াও পলি জমায় ভাটিতে থাকা বাংলাদেশ অংশে পানির প্রবাহ কমে যায়। ফলে, শুকনো মৌসুমে জলহীন থাকে পদ্মা।

কৃষিকাজ স্বাভাবিক রাখতে, ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি হয়। সেখানে শুকনো মৌসুমে ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল। ১৪ বছর পর ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় দফায় ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তি হয়। সেখানে প্রতিবছর ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত উভয় দেশ ১০ দিন পরপর ৫০ ভাগ পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল।

নদী ও জলবায়ু গবেষক মালিক ফিদা এ খান বলেন, ‘২টা চুক্তির মধ্যে যদি আমরা পার্থক্য করি তবে আমি বলব ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি একটু শক্তিশালী। ১৯৯৬ সালেরটা একটু কম শক্তিশালী। এখন এটা বিভিন্ন প্রেক্ষিতে সময়ের সাথে সাথে নিশ্চয়তার পার্থক্য হতেই পারে।’

নদী গবেষক শেখ রোকন বলেন, ‘এ চুক্তির ৮ ও ৯ নম্বর ধারায় বলা রয়েছে যে, দুই দেশ মিলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করবে। এটা একটা অদ্ভুত ধারা।’

চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১২ ডিসেম্বর। সেটি নবায়ন না করে, নতুন শর্তে পানিবন্টন চুক্তি করতে চায় সরকার। তবে, এর বিপক্ষে গবেষকরা।

নদী গবেষক শেখ রোকন বলেন, ‘গঙ্গা চুক্তিতে অধিকারের বিষয় তো আছেই। এগুলো আমরা যাছাই করব। পর্যালোচনা করব। কিন্তু সেটা চুক্তি নবায়নের পরে। নতুন চুক্তি করতে গেলে গঙ্গা ও তিস্তার অতীত অভিজ্ঞতা ভালো নয়। এমনটা নতুন গঙ্গা চুক্তির ক্ষেত্রেও হতে পারে বলে আমার আশঙ্কা। নতুন চুক্তি করাটা একটা ফাঁদ। এটা বিভ্রান্তি। বিপজ্জনক।’

নদী ও জলবায়ু গবেষক মালিক ফিদা এ খান বলেন, ‘চুক্তিটা মাসখানেকের মধ্যে হতে পারে। যদি আমরা ধরেই নিই– ডিসেম্বরে চুক্তিটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। যদি ভারতের স্বদিচ্ছা থাকে তবে জানুয়ারির মধ্যেও এ চুক্তি হতে পারে।’

নেপালকে সঙ্গে নিয়ে, ভারতের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিকভাবে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির পরামর্শ গবেষকদের।