আজ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৪%

বগুড়ায় রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:38:25 pm, Thursday, 1 October 2026
  • 9

বগুড়ায় রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের ধূসর খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ পায় মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নত মানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে ছয় ইঞ্চি পুরুত্বের ভিত্তি তৈরি করে পিচ ঢালাই করার কথা রয়েছে।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কাজে ধূসর ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করলে তারা ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দেন। কিন্তু তাদের আপত্তি আমলে না নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ হয়নি।

নতুন অর্থবছরে এসে আবার কাজ শুরু করা হলেও শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরো সড়ক নির্মাণকাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজের শুরু থেকেই কঠোর তদারকি থাকলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতো না। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্যারিস ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে ভালো মানের খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এ কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ভালো ও খারাপ মানের খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গাবতলী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রুম্মন ইসলাম বলেন, ঠিকাদার খোয়া রাস্তায় ফেলার সময় আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি ঘটনাস্থলে যাইনি। তাকে ভালো মানের খোয়া ব্যবহারের কথা বলেছি। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্যারিস ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে ভালো মানের খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এ কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ভালো ও উজ্জ্বল বর্নের খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা পরিদর্শন করছি। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলব। নিম্নমানের খোয়াগুলো অপসারণ করা হবে। এ ধরনের খোয়া ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে চিঠিও দেওয়া হবে। এরপরও অনিয়ম হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে হাইকোর্টের রুল জারি

বগুড়ায় রাস্তা সংস্কারের কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে

Update Time : 07:38:25 pm, Thursday, 1 October 2026

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের ধূসর খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ পায় মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নত মানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে ছয় ইঞ্চি পুরুত্বের ভিত্তি তৈরি করে পিচ ঢালাই করার কথা রয়েছে।

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কাজে ধূসর ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করলে তারা ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দেন। কিন্তু তাদের আপত্তি আমলে না নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাজের নির্ধারিত মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ হয়নি।

নতুন অর্থবছরে এসে আবার কাজ শুরু করা হলেও শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পুরো সড়ক নির্মাণকাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজের শুরু থেকেই কঠোর তদারকি থাকলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতো না। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্যারিস ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে ভালো মানের খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এ কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ভালো ও খারাপ মানের খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গাবতলী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রুম্মন ইসলাম বলেন, ঠিকাদার খোয়া রাস্তায় ফেলার সময় আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি ঘটনাস্থলে যাইনি। তাকে ভালো মানের খোয়া ব্যবহারের কথা বলেছি। অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্যারিস ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে ভালো মানের খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না।

এ কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ভালো ও উজ্জ্বল বর্নের খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে। গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা পরিদর্শন করছি। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলব। নিম্নমানের খোয়াগুলো অপসারণ করা হবে। এ ধরনের খোয়া ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে চিঠিও দেওয়া হবে। এরপরও অনিয়ম হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।