আজ সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮০%

এক প্রবাসজীবনের গল্প: রাজ্জাক আলী বিশ্বাস রাশেদের যুক্তরাজ্য যাত্রা

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:41:05 am, Monday, 28 September 2026
  • 10

এক প্রবাসজীবনের গল্প: রাজ্জাক আলী বিশ্বাস রাশেদের যুক্তরাজ্য যাত্রা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্বপ্নের দেশ, নতুন জীবন, অচেনা পথ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পা রাখার সময় রাজ্জাক আলী বিশ্বাস রাশেদের চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরি করবেন, নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন, ধীরে ধীরে প্রবাসের মাটিতে নিজের একটি জায়গা তৈরি করবেনÑ পরিকল্পনাটা ছিল সহজ।

কিন্তু বাস্তবতার পথটি ছিল বেশ কঠিন। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর প্রথম ধাক্কা আসে চাকরি খোঁজার সময়। চেষ্টা করেও যখন কাজ মিলছিল না, তখন একসময় হতাশ হয়ে পড়েন রাশেদ। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, পরিচিত মানুষও হাতে গোনা। সব মিলিয়ে শুরুটা ছিল একেবারেই অনিশ্চিত। একজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন রাশেদ। প্রথমদিকে উঠেছিলেন মারুফ ভাইয়ের কাছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূরে হওয়ায় লন্ডনে চলে যেতে হয়। খরচ কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে সাগর ভাইয়ের বাসায় ওঠেন। সেখান থেকেই যেন তার প্রবাসজীবনের গল্পে নতুন মোড় আসে। সাগর ভাই শুধু থাকার জায়গাই দেননি, নতুন দেশে কীভাবে চলতে হয়, মানুষের সঙ্গে কীভাবে পরিচিত হতে হয়, কোথায় কী সুযোগ রয়েছেÑ এসবও বুঝতে সাহায্য করেছেন।

বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তার মাধ্যমেই আনোয়ার ভাইয়ের চাইনিজ রেস্তোরাঁয় কাজের সুযোগ পান রাশেদ। শুরুটা ছিল সপ্তাহে মাত্র দুই দিনÑশুক্রবার ও শনিবার। নতুন দেশে নতুন কাজ; অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। কীভাবে কাজ করতে হয়, কীভাবে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়Ñ অনেক কিছুই তখন অজানা। সেই সময়ে লিংকন ভাই হয়ে ওঠেন তার অন্যতম সহায়ক।

ধৈর্য ধরে হাতে-কলমে কাজ শিখিয়েছেন, ভুল হলে শুধরে দিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করেছেন। এরপর জীবনে আসে আরেকটি সুযোগ। রাশেদ চাকরি পান সেইন্সবারিজে। পরে আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সাবওয়েতেও কাজ শুরু করেন। সেখানেও আন্তু ভাইয়ের সহযোগিতা পান। নতুন কর্মস্থলে কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয়, কীভাবে নিজের দায়িত্ব বুঝে এগিয়ে যেতে হয়Ñ এসব শেখার ক্ষেত্রে তার সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রবাসের এই যাত্রায় কাজের পাশাপাশি বন্ধুত্বও ছিল বড় শক্তি। রাশেদের বন্ধু রুম্মান সুখে-দুঃখে সবসময় তার পাশে ছিলেন। ভালো সময় কিংবা কঠিন সময়Ñদুজনের বন্ধুত্ব তাকে মানসিকভাবে শক্তি দিয়েছে। বিদেশের মাটিতে পরিবার ও পরিচিতজনদের দূরে রেখে পথ চলার সময়ে এমন একজন বন্ধুর পাশে থাকা রাশেদের কাছে ছিল বড় পাওয়া। ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে তার পরিস্থিতি।

যে তরুণ একসময় একটি চাকরির আশায় হতাশ হয়ে ঘুরছিলেন, তিনিই একসময় তিনটি জায়গায় কাজ করার সুযোগ পান। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে সেই চাইনিজ রেস্তোরাঁয়, যেখানে শুক্রবার-শনিবার দিয়ে তার কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই রেস্তোরাঁরই ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পান তিনি। কর্মজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও থেমে থাকেননি রাশেদ।

হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ ও তথ্য প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। তার গবেষণা প্রকল্পের বিষয় ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে বর্ধিত বাস্তবতার মাধ্যমে বস্তু শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক যোগাযোগ। প্রকল্প ও অভিসন্দর্ভে নিজের ব্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন তিনি। একদিকে কাজ, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষাÑ দুই পথকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না।

কর্মস্থলের দায়িত্ব, পড়াশোনার চাপ, গবেষণা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি রাশেদ। এখন তার সামনে নতুন অধ্যায়। শিক্ষার্থীজীবন শেষ হয়েছে। এবার পূর্ণকালীন পেশাজীবন শুরু করার পালা। সফটওয়্যার প্রকৌশল, সফটওয়্যার উন্নয়ন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, গবেষণা এবং যুক্তরাজ্যের কর্মঅভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান তিনি।

সফটওয়্যার উন্নয়ন, সম্মুখভাগের সফটওয়্যার উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক প্রকৌশল, কারিগরি সহায়তাসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোন চাকরি দিয়ে পূর্ণকালীন ক্যারিয়ার শুরু হবে, কোথায় গিয়ে নিজের পেশাগত অবস্থান তৈরি হবে কিংবা ভবিষ্যতে পিএইচডি করবেন কি নাÑ এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো সময়ের হাতে।

রাশেদের কাছে তাই অর্জনের সংজ্ঞা শুধু একটি চাকরি, একটি ডিগ্রি কিংবা একটি পদ নয়। তার সবচেয়ে বড় অর্জন হলোÑ অচেনা একটি দেশে শূন্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের জন্য একটি জায়গা তৈরি করতে পারা। ২০২৪ সালে যে তরুণ একটি চাকরির জন্য হতাশ হয়ে ঘুরছিলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনিই স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, গবেষণা প্রকল্প ও অভিসন্দর্ভে নিজের ব্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন, তিন জায়গায় কাজ করেছেন এবং যে রেস্তোরাঁয় কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন, সেই রেস্তোরাঁরই ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নিয়েছেন।

এই গল্প শুধু রাশেদের একার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা। মারুফ ভাই, সাগর ভাই, আনোয়ার ভাই, লিংকন ভাই, আন্তু ভাই এবং বন্ধু রুম্মানÑ যারা বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের অবদান তার প্রবাসজীবনের গল্পের একটি করে অধ্যায়। প্রবাসজীবন তাকে শিখিয়েছেÑ শুরুটা যত কঠিনই হোক, পথ যত অচেনাই হোক, চেষ্টা থামিয়ে দিলে চলবে না।

কারণ সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়, সুযোগ আসে, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে একদিন অচেনা মাটিতেও তৈরি হয় নিজের পরিচয়। আজও সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা জানেন না রাশেদ। জানেন না তার পরবর্তী কর্মস্থল কোথায় হবে, ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবেন কিংবা আবার কখনো গবেষণার জগতে ফিরবেন কি না। তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিতÑ চেষ্টা থামাবেন না।

‘কপালে কী আছে জানি না। আল্লাহ যা রেখেছেন, সেটাই হবে। আমি শুধু চেষ্টা করে যেতে চাই। ’ এই বিশ্বাস নিয়েই যুক্তরাজ্যের মাটিতে নিজের গল্প লিখে চলেছেন রাজ্জাক আলী বিশ্বাস রাশেদÑ শূন্য থেকে নিজের জায়গা তৈরির এক নীরব যাত্রায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে স্থলবন্দরে বাড়ল ট্রাক ভাড়া

এক প্রবাসজীবনের গল্প: রাজ্জাক আলী বিশ্বাস রাশেদের যুক্তরাজ্য যাত্রা

Update Time : 09:41:05 am, Monday, 28 September 2026

স্বপ্নের দেশ, নতুন জীবন, অচেনা পথ। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পা রাখার সময় রাজ্জাক আলী বিশ্বাস রাশেদের চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরি করবেন, নিজের ক্যারিয়ার গড়বেন, ধীরে ধীরে প্রবাসের মাটিতে নিজের একটি জায়গা তৈরি করবেনÑ পরিকল্পনাটা ছিল সহজ।

কিন্তু বাস্তবতার পথটি ছিল বেশ কঠিন। যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর প্রথম ধাক্কা আসে চাকরি খোঁজার সময়। চেষ্টা করেও যখন কাজ মিলছিল না, তখন একসময় হতাশ হয়ে পড়েন রাশেদ। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, পরিচিত মানুষও হাতে গোনা। সব মিলিয়ে শুরুটা ছিল একেবারেই অনিশ্চিত। একজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন রাশেদ। প্রথমদিকে উঠেছিলেন মারুফ ভাইয়ের কাছে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দূরে হওয়ায় লন্ডনে চলে যেতে হয়। খরচ কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে সাগর ভাইয়ের বাসায় ওঠেন। সেখান থেকেই যেন তার প্রবাসজীবনের গল্পে নতুন মোড় আসে। সাগর ভাই শুধু থাকার জায়গাই দেননি, নতুন দেশে কীভাবে চলতে হয়, মানুষের সঙ্গে কীভাবে পরিচিত হতে হয়, কোথায় কী সুযোগ রয়েছেÑ এসবও বুঝতে সাহায্য করেছেন।

বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তার মাধ্যমেই আনোয়ার ভাইয়ের চাইনিজ রেস্তোরাঁয় কাজের সুযোগ পান রাশেদ। শুরুটা ছিল সপ্তাহে মাত্র দুই দিনÑশুক্রবার ও শনিবার। নতুন দেশে নতুন কাজ; অভিজ্ঞতা ছিল সীমিত। কীভাবে কাজ করতে হয়, কীভাবে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়Ñ অনেক কিছুই তখন অজানা। সেই সময়ে লিংকন ভাই হয়ে ওঠেন তার অন্যতম সহায়ক।

ধৈর্য ধরে হাতে-কলমে কাজ শিখিয়েছেন, ভুল হলে শুধরে দিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে সাহায্য করেছেন। এরপর জীবনে আসে আরেকটি সুযোগ। রাশেদ চাকরি পান সেইন্সবারিজে। পরে আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সাবওয়েতেও কাজ শুরু করেন। সেখানেও আন্তু ভাইয়ের সহযোগিতা পান। নতুন কর্মস্থলে কীভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হয়, কীভাবে নিজের দায়িত্ব বুঝে এগিয়ে যেতে হয়Ñ এসব শেখার ক্ষেত্রে তার সহযোগিতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

তবে প্রবাসের এই যাত্রায় কাজের পাশাপাশি বন্ধুত্বও ছিল বড় শক্তি। রাশেদের বন্ধু রুম্মান সুখে-দুঃখে সবসময় তার পাশে ছিলেন। ভালো সময় কিংবা কঠিন সময়Ñদুজনের বন্ধুত্ব তাকে মানসিকভাবে শক্তি দিয়েছে। বিদেশের মাটিতে পরিবার ও পরিচিতজনদের দূরে রেখে পথ চলার সময়ে এমন একজন বন্ধুর পাশে থাকা রাশেদের কাছে ছিল বড় পাওয়া। ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে তার পরিস্থিতি।

যে তরুণ একসময় একটি চাকরির আশায় হতাশ হয়ে ঘুরছিলেন, তিনিই একসময় তিনটি জায়গায় কাজ করার সুযোগ পান। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে সেই চাইনিজ রেস্তোরাঁয়, যেখানে শুক্রবার-শনিবার দিয়ে তার কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেই রেস্তোরাঁরই ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পান তিনি। কর্মজীবনের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও থেমে থাকেননি রাশেদ।

হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ ও তথ্য প্রকৌশলে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। তার গবেষণা প্রকল্পের বিষয় ছিল শিক্ষাক্ষেত্রে বর্ধিত বাস্তবতার মাধ্যমে বস্তু শনাক্তকরণ ও পারস্পরিক যোগাযোগ। প্রকল্প ও অভিসন্দর্ভে নিজের ব্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর অর্জন করেন তিনি। একদিকে কাজ, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষাÑ দুই পথকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না।

কর্মস্থলের দায়িত্ব, পড়াশোনার চাপ, গবেষণা ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি রাশেদ। এখন তার সামনে নতুন অধ্যায়। শিক্ষার্থীজীবন শেষ হয়েছে। এবার পূর্ণকালীন পেশাজীবন শুরু করার পালা। সফটওয়্যার প্রকৌশল, সফটওয়্যার উন্নয়ন, স্নাতকোত্তর ডিগ্রি, গবেষণা এবং যুক্তরাজ্যের কর্মঅভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান তিনি।

সফটওয়্যার উন্নয়ন, সম্মুখভাগের সফটওয়্যার উন্নয়ন, নেটওয়ার্ক প্রকৌশল, কারিগরি সহায়তাসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন পেশায় নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোন চাকরি দিয়ে পূর্ণকালীন ক্যারিয়ার শুরু হবে, কোথায় গিয়ে নিজের পেশাগত অবস্থান তৈরি হবে কিংবা ভবিষ্যতে পিএইচডি করবেন কি নাÑ এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো সময়ের হাতে।

রাশেদের কাছে তাই অর্জনের সংজ্ঞা শুধু একটি চাকরি, একটি ডিগ্রি কিংবা একটি পদ নয়। তার সবচেয়ে বড় অর্জন হলোÑ অচেনা একটি দেশে শূন্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে নিজের জন্য একটি জায়গা তৈরি করতে পারা। ২০২৪ সালে যে তরুণ একটি চাকরির জন্য হতাশ হয়ে ঘুরছিলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে তিনিই স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, গবেষণা প্রকল্প ও অভিসন্দর্ভে নিজের ব্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছেন, তিন জায়গায় কাজ করেছেন এবং যে রেস্তোরাঁয় কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন, সেই রেস্তোরাঁরই ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব নিয়েছেন।

এই গল্প শুধু রাশেদের একার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা। মারুফ ভাই, সাগর ভাই, আনোয়ার ভাই, লিংকন ভাই, আন্তু ভাই এবং বন্ধু রুম্মানÑ যারা বিভিন্ন সময়ে তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের অবদান তার প্রবাসজীবনের গল্পের একটি করে অধ্যায়। প্রবাসজীবন তাকে শিখিয়েছেÑ শুরুটা যত কঠিনই হোক, পথ যত অচেনাই হোক, চেষ্টা থামিয়ে দিলে চলবে না।

কারণ সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলায়, সুযোগ আসে, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে পারলে একদিন অচেনা মাটিতেও তৈরি হয় নিজের পরিচয়। আজও সামনে কী অপেক্ষা করছে, তা জানেন না রাশেদ। জানেন না তার পরবর্তী কর্মস্থল কোথায় হবে, ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবেন কিংবা আবার কখনো গবেষণার জগতে ফিরবেন কি না। তবে একটি বিষয়ে তিনি নিশ্চিতÑ চেষ্টা থামাবেন না।

‘কপালে কী আছে জানি না। আল্লাহ যা রেখেছেন, সেটাই হবে। আমি শুধু চেষ্টা করে যেতে চাই। ’ এই বিশ্বাস নিয়েই যুক্তরাজ্যের মাটিতে নিজের গল্প লিখে চলেছেন রাজ্জাক আলী বিশ্বাস রাশেদÑ শূন্য থেকে নিজের জায়গা তৈরির এক নীরব যাত্রায়।