বাংলাদেশের নাটক, সিনেমা ও মঞ্চের দাপুটে এবং ভার্সেটাইল অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার। বিটিভির কোন কাননের ফুল, কোথাও কেউ নেই, সারাবেলা নাটকে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান।
আবার ‘অন্য জীবন’ নামের এক সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। সেই সময়টাতেই বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি নাট্যাভিনেতা, নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক মামুনুর রশীদ তমালিকাকে ডেকে তার নাট্যদল ‘আরণ্যক’-এর সঙ্গে যুক্ত করেন। আর এরপর থেকেই মঞ্চে অভিনয়ের যাত্রা শুরু হলোÑ তমালিকার। একে একে মঞ্চে অভিনয় করে সরাসরি দর্শকের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে যেন মঞ্চেরই প্রেমে পড়ে গেলেন তিনি।
নাটক সিনেমায় অভিনয়ের চেয়ে মঞ্চে অভিনয় করাই যেন, তার কাছে হয়ে উঠলো সবচেয়ে বেশি ভালোলাগার। ১৯৯২ সালে তমালিকা আরণ্যকের হয়ে মঞ্চে প্রথম অভিনয় করেন মামুনুর রশীদ রচিত আজিজুল হাকিম পরিচালিত ‘পাথর’ নাটকে। এরপর একে একে তাকে দেখা যায় ‘ময়ূর সিংহাসন’, ‘জয় জয়ন্তী’, ‘রাঢ়াং’, ‘শত্রুগণ’, ‘উপরওয়ালা’, ‘ভঙ্গবঙ্গ’, ‘দ্য জুবিলি হোটেল’, ‘ইবলিশ’, ‘হেলাখেলা’, ‘প্রাকৃতজন কথা’সহ আরও বেশ কিছু নাটকে।
এরইমধ্যে তমালিকা দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেনÑ যুক্তরাষ্ট্রে। অর্ধযুগে এবারই প্রথম তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো মঞ্চে, মঞ্চ নাটকে অভিনয় করতে যাচ্ছেন। তমালিকা জানান, আগামী ৪ অক্টোবর বিকেল ৫.৩০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আলেকজেন্দ্রিয়ার জেফারসন স্ট্রিটের ‘সিটি অব আলেকজেন্দ্রিয়া-লি সেন্টার’-এ মঞ্চস্থ হবে তমালিকা অভিনীত মঞ্চ নাটক ‘অমানুষ’।
প্রযোজনায় আছ ‘সূচনা থিয়েটার’। যে নাটকটি আজ থেকে ৩১ বছর আগে মামুনুর রশীদ রচনা করেছিলেন। এই ‘অমানুষ’ নিয়ে মঞ্চে উঠবেন এবং সবার বিশ^াস মঞ্চে আবারও দুর্দান্তরূপে দেখা যাবে তমালিকাকে। ‘অমানুষ’-এর মূল বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে তমালিকা জানালেন, আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে একজন মামুনুর রশীদ আমাদের (বাংলাদেশের) সমাজের নানান অবক্ষয় নিয়ে এই নাটক রচনা করেছেন।
তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘অমানুষের শো হবে, অথচ আমার পাশে শ্রদ্ধেয় মামুন আঙ্কেল নেই, যে কারণে কিছুটা ভয় পাচ্ছি। আমি জানি তিনি আমার মাথার ওপর আশীর্বাদ হয়ে আছেন। তারপরও অমানুষÑ করতে গিয়ে নিজের ওপর অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেছে। আমাকে হাজার প্রতিকূলতার মাঝেই ভালো করতে হবে। যতই আমি মঞ্চে পরীক্ষিত একজন অভিনেত্রী হই না কেন, যতবার মঞ্চে পারফর্ম করতে যাব ততোবারই আমাকে দর্শকের সামনে পরীক্ষা দিতে হবে।
আর মঞ্চ নাটক শুধুই বিনোদন নয়, শ্রেণি সংগ্রামের সুতীক্ষè হাতিয়ার। মঞ্চে অভিনয় করে দর্শকের কাছ থেকে যে রি-অ্যাকশানটা পাওয়া যায় ওটাই আমার প্রবল এক নেশা। আমি এই নেশায় বারবার ডুবে যেতে চাই।


















