আজ শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৪%

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:24:26 pm, Saturday, 26 September 2026
  • 9

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, শিউলি ও কাশফুল জানান দিচ্ছে শরৎ এসেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। তাই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

দিন-রাত কাজ করেও দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। দেওয়ানগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ২৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জাসহ আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার কয়েকটি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি দিয়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা।

২৬টি মণ্ডপেই চলছে জোড় প্রস্তুতি। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে পোশাক পরানো, অলংকার সংযোজন ও রং করার কাজ। প্রতিমা শিল্পী আনন্দ পাল বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে তারা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুধু দেওয়ানগঞ্জ নয়, জামালপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মণ্ডপেও প্রতিমা গড়ার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে এবার তার হাতে রয়েছে ৩০টি প্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রতিমা শিল্পি গণেশ পালের ভাষ্য একসময় প্রতিমা তৈরিতে কাপড় ও অলংকারের ব্যবহার বেশি ছিল। এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন মাটি দিয়েই প্রতিমার অধিকাংশ সাজসজ্জা তৈরি করা হচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনে প্রতিমার গড়ন ও সাজসজ্জাতেও এসেছে পরিবর্তন। শিল্পি সঞ্জয় দাস বলেন, উপকরণ সরবরাহ করা হলে প্রতিটি প্রতিমার জন্য মজুরি হিসেবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা প্রণামী নেন তিনি।

দুর্গাপূজার সময়টাতে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতে হলেও বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। তাই প্রতিমা তৈরির এ পেশা অনেকটাই মৌসুমি। পূজার কয়েক মাসের আয় দিয়েই বছরের বাকি সময়ের খরচ সামলাতে হয় তাদের। এদিকে পূজার আনন্দ নিয়ে কথা হয় স্বাগতম দাস, নিপেন বর্মণ ও পূজা রায়ের সঙ্গে। তারা জানান, ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাঁসর ও মন্দিরার তালে তালে হবে আরতি।

থাকবে গীতাপাঠ ও ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান। নতুন পোশাক ও সাজসজ্জায় ভক্তরা সেজেগুজে ঘুরে বেড়াবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। বাড়িতে আসবেন আত্মীয়স্বজন। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোদন মোহন ঘোষ বলেন, গত বছর উপজেলায় ২৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবার দুটি বেড়ে মোট ২৬টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে। তিনি আরও বলেন, পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা থাকে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের অবগত করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সাইবার সুরক্ষা আইন এখনো চূড়ান্ত নয়, সংশোধনের সুযোগ রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

Update Time : 04:24:26 pm, Saturday, 26 September 2026

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, শিউলি ও কাশফুল জানান দিচ্ছে শরৎ এসেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। তাই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এখন প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

দিন-রাত কাজ করেও দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের। দেওয়ানগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ২৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা তৈরি, মণ্ডপ সাজানো ও আলোকসজ্জাসহ আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন মণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা। উপজেলার কয়েকটি মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি দিয়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা।

২৬টি মণ্ডপেই চলছে জোড় প্রস্তুতি। অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন চলছে পোশাক পরানো, অলংকার সংযোজন ও রং করার কাজ। প্রতিমা শিল্পী আনন্দ পাল বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে তারা খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুধু দেওয়ানগঞ্জ নয়, জামালপুর ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মণ্ডপেও প্রতিমা গড়ার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে এবার তার হাতে রয়েছে ৩০টি প্রতিমা তৈরির কাজ।

প্রতিমা শিল্পি গণেশ পালের ভাষ্য একসময় প্রতিমা তৈরিতে কাপড় ও অলংকারের ব্যবহার বেশি ছিল। এসব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন মাটি দিয়েই প্রতিমার অধিকাংশ সাজসজ্জা তৈরি করা হচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনে প্রতিমার গড়ন ও সাজসজ্জাতেও এসেছে পরিবর্তন। শিল্পি সঞ্জয় দাস বলেন, উপকরণ সরবরাহ করা হলে প্রতিটি প্রতিমার জন্য মজুরি হিসেবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা প্রণামী নেন তিনি।

দুর্গাপূজার সময়টাতে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতে হলেও বছরের অন্য সময় তেমন কাজ থাকে না। তাই প্রতিমা তৈরির এ পেশা অনেকটাই মৌসুমি। পূজার কয়েক মাসের আয় দিয়েই বছরের বাকি সময়ের খরচ সামলাতে হয় তাদের। এদিকে পূজার আনন্দ নিয়ে কথা হয় স্বাগতম দাস, নিপেন বর্মণ ও পূজা রায়ের সঙ্গে। তারা জানান, ঢাক-ঢোল, বাঁশি, কাঁসর ও মন্দিরার তালে তালে হবে আরতি।

থাকবে গীতাপাঠ ও ধর্মীয় সংগীতানুষ্ঠান। নতুন পোশাক ও সাজসজ্জায় ভক্তরা সেজেগুজে ঘুরে বেড়াবেন মণ্ডপে মণ্ডপে। বাড়িতে আসবেন আত্মীয়স্বজন। সব মিলিয়ে দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন থেকেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোদন মোহন ঘোষ বলেন, গত বছর উপজেলায় ২৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবার দুটি বেড়ে মোট ২৬টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হবে। তিনি আরও বলেন, পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা থাকে। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের অবগত করা হয়েছে।