স্মার্টফোনের পাঁচ ইঞ্চির গণ্ডি ছেড়ে ফের পানি-কাদার ফুটবল মাঠে ভিড় করছে পনেরো থেকে বিশ বছরের তরুণরা ও যুবকরা। সাইডলাইনের পাশে পানির বোতল তোয়ালে নিয়ে অপেক্ষায় থাকছেন সুন্দর পোষাক পড়া অভিভাবকের দল।
মাঠ আছে, আছে ক্লাবও স্থানীয় পর্যায়ে লিগ থেকে ছোটবড় টুর্নামেন্ট অগুন্তি। অথচ পৌর এলাকা কিংবা গ্রামের অনেক ফাঁকা ফুটবল মাঠের চিত্র এতটা প্রাণবন্ত নয়। কোথাও দিনের বেলায় মাঠে শুকানো হয় মৌসুমি ফসল, কোথাও পড়ে থাকে নানা সামগ্রী। কোনো কোনো মাঠে অবাধে চড়ে বেড়ায় গরু-ছাগল। সন্ধ্যা নামলেই নেশার ঠেক। কোন মাঠে নতুন দুই-চার চাকায় হাত পাকান সদ্য কেনা গাড়ির মালিক।
‎ফুটবল মাঠ ঘিরে আজ কিছুটা হলেও বদল ঘটেছে। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় মাঠ বিমুখ ছেলেদের মাঠে ফেরাতে এক উদ্যোগ নিয়েছে এইচ.টি.এইচ স্পোর্টস্ ক্লাব। সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন প্রান্তের অনুর্ধ বিশ বছর বয়সীদের নিয়ে ধারাবাহিক ফুটবল খেলার আয়োজন করেছে এই ক্রীড়া সংস্থা। এলাকার ক্লাব, স্থানীয় পৌরসভা কিংবা আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা গুলিকে নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে বড় মাপের ফুটবল প্রতিযোগিতার।
‎তাতেই ফলেছে মেওয়া। স্থানীয় ফুটবলের বন্ধ্যা দশা অনেকটাই কেটেছে। ফুটবলার তৈরির আঁতুড়ঘরে নিয়মিত নজরদারি ফলে ফের ফুটবলে বাড়ছে আগ্রহ। হলহলিয়া রেলব্রিজ সংলগ্ন মাঠে আবার ছেলেরা ভিড় জমাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের পরে আক্কেলপুর এইচ.টি.এইচ স্পোর্টস্ ক্লাবের আয়োজনে উপজেলা জুড়ে বসছে তরুনদের ফুটবলের বড়মাপের আসর। এ খেলায় আটটি দলে প্রায় ৭ টি ম্যাচ।
খেলছে কমবেশি একশো চার খেলোয়াড় বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নওগাঁ, বগুড়া ও পাঁচবিবি এই মাঠে খেলা চলে, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ সোহেল রানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোঃ কামরুজ্জামান কমল, বিশেষ অতিথি সাবেক প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম চপল সহ প্রমুখ। ফাইনালে ট্রাইবেকারে প্রবাসী কল্যাণ সমিতি কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন অনন্তপুর ফুটবল একাদশ।
চ্যাম্পিয়ন দলটিকে একটি খাসি ছাগল ও রানাস্ আপ দলকে একটি ভেড়া দেওয়া হয়। ‎এইচ.টি.এইচ স্পোর্টস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান পাপ্পু জানান, এই কয়েক দিনে শুধু মাঠে ছেলেদের ভিড় বেড়েছে বা অভিভাবকেরা ফুটবলের প্রতি আগ্রহী হয়েছেন, তা নয়। আগে অনেক তরুণ ও যুবকরা অবসর সময়ে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকত। এখন তারা বিকেল হলেই মাঠে আসছে, খেলাধুলায় সময় দিচ্ছে।
সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, অভিভাবকেরাও সন্তানদের মাঠে পাঠাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের সুযোগ তৈরি করা গেলে এই আগ্রহ আরও বাড়বে। ‎জেলা ক্রীড়া অফিসার গৌতম কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে তরুণদের বড় একটি অংশ মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটাচ্ছে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহও কমছে।
তবে মাঠে তরুণদের উপস্থিতি আবার বাড়ছে। মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি করতে ক্রীড়া সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সংগঠনগুলো আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রয়োজনীয় খেলাধুলার সামগ্রী দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।



















