ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, জমে থাকা পানি ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি করে।
তাই রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকায় রাজশাহীর জুটমিলে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলায় প্রতি শনিবার ৭৮টি স্থানে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম চলছে। তিনি আরও বলেন, বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
অভিযানে জেলা প্রশাসক নিজ হাতে হাসুয়া ও ফগার মেশিন দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ ও আশপাশ পরিষ্কার করা হয়। কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাটাখালী পৌরসভার প্রশাসক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানসহ জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা ও টিএন্ডটি কলোনিতে এসব কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। একই দিন রেলগেট এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন তিনি।
উদ্বোধনকালে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ড্রেনে লার্ভিসাইড ও ফগার স্প্রে এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব। এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগমসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



















