গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সরকারি খালে বাঁধ নির্মাণ এবং এক যুবককে ডিবি পরিচয়ে আটকে রেখে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বান্ধাবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মোল্লা ও প্রস্তাবিত দপ্তর সম্পাদক নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী এসব অভিযোগ করেছেন। বান্ধাবাড়ী গ্রামের সরওয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, তুলাতলা এলাকায় সরকারি একটি খালের অংশে বাঁধ দিয়ে আটকে দিয়েছেন সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লা। খালের পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি খাল এভাবে বাঁধ দিয়ে আটকে রাখার কোনো যুক্তি নেই। দ্রুত বাঁধ অপসারণ চাই। এ বিষয়ে সুজন মোল্লা বলেন, খালের সঙ্গে তাদের প্রায় ২০ বিঘা জমি রয়েছে।
জমিগুলো পতিত থাকায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সরকারি জায়গা আটকে রাখা ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি। এদিকে সম্প্রতি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামের কামাল বিশ্বাসের ছেলে রিফাত বিশ্বাসকে আটকে ১০ হাজার টাকা আদায়ের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে রিফাতকে আটকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বাচ্চু হাওলাদার বলেন, রিফাতের বাবা তার ছেলেকে ডিবি পুলিশ আটক করেছে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে যান।
সেখানে সুজন মোল্লাসহ কয়েকজন রিফাতকে আটকে রাখতে দেখেন বলে দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকা দিয়ে রিফাতকে ছাড়িয়ে আনেন এবং পরে ওই টাকা তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন বলে জানান বাচ্চু। তবে সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার দাবি, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কাউকে আটক করা হয়নি। তাদের ভাষ্য, মাদকসহ রিফাতকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে সুজন মোল্লাকে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ৪ এপ্রিল সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনর্বহাল করা হয়। পুনর্বহালের পর নতুন করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। কোটালীপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মান্নান শেখ বলেন, ‘সুজন মোল্লা ও নাজমুল মোল্লার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে।
আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



















