বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পর এবার আনসার সদস্যদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে চার আনসার সদস্য আহত হয়েছেন।
আহত আনসার সদস্যরা হলেন—শাহিনুর (শাহীন), মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ার হোসেন ও আজাদ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করে। আনসার সদস্যদের আহত করার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার কলেজ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক চারজন হলেন—বোরহান উদ্দিন (১৮), তানভীর আহমেদ (১৭), সামির আহম্মেদ (১৮) ও রিশাদ (১৭)।
তারা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। জানা যায়, বুধবার রাতে মহানগরের বৌ-বাজার এলাকায় একটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এক তরুণ আহত হন। তার বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে ট্রলি বহনের দায়িত্বে থাকা ‘নাহিদ’ নামের এক আনসার সদস্যের সঙ্গে ওই তরুণের বন্ধুদের তর্কবিতর্ক ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা নাহিদকে মারধর করতে শুরু করেন। এ সময় চারজন আনসার সদস্য আহত হন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এক তরুণ চিকিৎসার জন্য রাতে শজিমেক হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগের সামনে রোগীকে ওয়ার্ডে নেওয়ার জন্য ট্রলি সংগ্রহ করা নিয়ে ওই তরুণের বন্ধুদের সঙ্গে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
তর্কের একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবকেরা সংঘবদ্ধভাবে আনসার সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। বগুড়া জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট গোলাম মাওলা তুহিন জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত এক তরুণকে কয়েকজন যুবক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। রোগীকে ট্রলিতে নেওয়ার সময় ট্রলিম্যানদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা এক ট্রলিম্যানকে মারধর করেন।
খবর পেয়ে টহলরত আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রলিম্যানকে উদ্ধার করেন। পরে আহত তরুণকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর ওই যুবকেরা আবার ট্রলিম্যানকে খুঁজে মারধর শুরু করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আনসার সদস্যদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন। বগুড়া ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, হামলা চাকু দিয়ে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে আনসার সদস্যদের মারধর করা হয়েছে এবং তারা আহত। ইতিমধ্যে ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে শজিমেক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে কর্মবিরতির ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।



















