দীর্ঘ পাঁচ যুগেরও বেশি সময় ধরে আটটি ভবনের ২০০ বর্গফুটের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাটগুলোকে স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে আসা বাসিন্দারা পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের ঠিকানা ওই কলোনিতেই হলেও তারা বর্তমানে পরিচয়পত্রহীন হয়ে দেশের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
’ মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেট ডি-টাইপ কলোনি কল্যাণ সমিতির ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এমন আক্ষেপ করা হয়। সমিতির সভাপতি মরগুমব আহমেদ নাজিম উদ্দিন বলেন, ১৯৬০ সালে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এবং একটি জার্মান এনজিওর সহায়তায় মোহাম্মদপুর ডি-টাইপ কলোনিতে ২৮৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়। কলোনিতে ২৮৮টি পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ‘কনকচাঁপা’ ও ‘দোলনচাঁপা’ নামে ৪৩০টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়।
তখন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) তাদের আশ্বাস দিয়েছিল—এই আটটি ভবনে নির্মাণাধীন নতুন বহুতল ভবনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৮টি পরিবারকেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসিত করা হবে। তাদের চাহিদা মেটানোর পর বাকি ফ্ল্যাট বিক্রি করা হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, মোহাম্মদপুরের এই মূল্যবান জমির ওপর চোখ পড়েছে এক শ্রেণির সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সেই আশ্বাস প্রতারণায় পরিণত হয়েছে। হাইকোর্টের স্পষ্ট রায় (রিট পিটিশন নং ৭৬৪১/২০২১ ও ১৮৩২৮/২০২৫) উপেক্ষা করে বারবার শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। বকেয়া ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া এবং জামানতসহ প্রতিটি পরিবার ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করা সত্ত্বেও ২৫৭টি আবেদনের মধ্যে ১২৭টি আবেদনকে অন্যায়ভাবে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এমনকি মূল ২৮৮টি নথির মধ্যে ১১৫টি নথি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। সাবেক সরকারের আমলে সুচতুর কর্মকর্তারা নিজেদের ফ্ল্যাট হালাল করতে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাট বিলিয়ে দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ফ্ল্যাটের দাম ধরা হয়েছে নতুন আবেদনকারীদের সমান—বর্গফুট প্রতি ৬ হাজার ৫৫৫ টাকা। কিস্তি পরিশোধের সময় ৮ বছর থেকে কমিয়ে মাত্র ৪ বছর করা হয়েছে।
অন্যদের সন্তুষ্ট করতে সংরক্ষিত কোটায় ৫২টি, গ্রেডেশনে ৫৬টি এবং বিতর্কিত লটারির মাধ্যমে ৫৬টিসহ মোট ১৬৫টি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি জাগৃকের তৎকালীন চেয়ারম্যান নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের নামে ফ্ল্যাট নিয়েছেন এবং চার কর্মকর্তা লটারি ছাড়াই একাধিক ফ্ল্যাট ও গ্যারেজ দখলে নিয়েছেন। ভবন ভাঙার সময় আনুমানিক ২ কোটি টাকার সরঞ্জাম আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি আগস্টের শেষে মানববন্ধনের পর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সাতটি দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হলো— আদালতের রায়/আদেশ বাস্তবায়ন ও বিতর্কিত কমিটি বাতিল করে নতুন স্বাধীন যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন; ২৮৮টি পরিবারের জন্য ২৮৮টি ফ্ল্যাটের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন; মানবিক কিস্তি সুবিধা (৫০ শতাংশ ৮ বছরে, ৫০ শতাংশ ১৬ বছরে) ও দ্রুত ফ্ল্যাট হস্তান্তর; আবেদনের সুযোগ থেকে বাদ পড়া ৩৫টি পরিবারকে পুনরায় আবেদনের সুযোগ; ‘দোলনচাঁপা’ প্রকল্পে ভবনভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ; ‘কনকচাঁপা’য় অতিরিক্ত তিনটি লিফট স্থাপন; বাইতুস সুজুদ জামে মসজিদকে প্রকল্পের স্থায়ী অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আনোয়ার কামাল। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফ্ল্যাট মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।





















