আজ বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

সিলেট বিএনপি ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সফর: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:12:32 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 8

সিলেট বিএনপি ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সফর: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্বাগত জানানো এবং হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত কর্মসূচিতে অংশ নিলেও নগরভবনের অনুষ্ঠান বর্জন করেন তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরভবনে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকলেও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা ছিলেন না। মহানগর বিএনপি আগেই অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। মহানগর বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনের আগে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন এবং তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়নি।

তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা নিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে দুই দফা সভা হয়। সভাগুলোতে নাগরিক কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর একক কর্তৃত্বে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। নাগরিক সংবর্ধনা বর্জন বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ই মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী যৌথ বিবৃতি দেন।

এতে তারা বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজনে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নাগরিক কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি এবং মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে উপেক্ষা করে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে রাষ্ট্রপতির সফর বা রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে মহানগর বিএনপি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা সার্কিট হাউসে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি ও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা। জেলা-মহানগর নেতৃত্বে কর্তৃত্বের প্রশ্ন : স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি অনুষ্ঠান বর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্য দিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্তৃত্বের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি। ফলে জেলা বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকায় নগর রাজনীতিতে জেলা ও মহানগরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মহানগর বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জেলা নেতৃত্বের প্রভাব বাড়লেও নগর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই। জেলা ও মহানগরের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সংসদ সদস্য বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কার ভূমিকা কতটা সক্রিয়, তা নিয়েও তৃণমূলে আলোচনা রয়েছে। এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রবেশপথে মহানগর বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক এবং বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদির সমছুর মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির অভিযোগও উঠেছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার নির্দেশনায় আব্দুল মালেক অনুষ্ঠান বর্জনের বিষয়ে নেতাকর্মীদের অবহিত করছিলেন। এ সময় আব্দুল কাদির সমছুকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তিনি আব্দুল মালেককে চড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মালেককে সরিয়ে নেন। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সিটি নির্বাচনেও প্রভাবের আলোচনা : জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন, তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

সংবর্ধনা ঘিরে বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ, ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, প্রচার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে মহানগর বিএনপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের প্রভাবও দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে। ফলে দুই কাঠামোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে নির্বাচনি প্রস্তুতি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মঙ্গলবারের ঘটনা সিটি নির্বাচন ও নির্বাচনি ফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে গতকাল বুধবার সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলার ১৩ উপজেলা ও পাঁচ পৌরসভা বিএনপির ‘সুপার ফাইভ’ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিবরাও সভায় অংশ নেন। সংবর্ধনা নিয়ে জেলা ও মহানগরের বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পরদিন সভাটি হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। সভায় অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, কেউ কেউ সংবর্ধনায় মহানগর বিএনপির অনুপস্থিতি ও বর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করা এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো অনুষ্ঠান বর্জন করেছে।

তার ভাষ্য, অনুষ্ঠানটিকে নাগরিক সংবর্ধনা বলা হলেও প্রকৃত অর্থে এটি কোনো নাগরিক কমিটির মাধ্যমে আয়োজিত হয়নি; এটি সিটি করপোরেশনের একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক আয়োজন। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাড়া পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্তদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে: শামা ওবায়েদ

সিলেট বিএনপি ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সফর: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র

Update Time : 10:12:32 pm, Wednesday, 16 September 2026

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সিলেট সফর ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিল মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্বাগত জানানো এবং হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহপরান (র.)-এর মাজার জিয়ারত কর্মসূচিতে অংশ নিলেও নগরভবনের অনুষ্ঠান বর্জন করেন তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগর বিএনপির দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট নগরভবনে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত থাকলেও মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ শীর্ষ নেতারা ছিলেন না। মহানগর বিএনপি আগেই অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। মহানগর বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ আয়োজনের আগে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন এবং তাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়নি।

তাদের দাবি, রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা নিয়ে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে দুই দফা সভা হয়। সভাগুলোতে নাগরিক কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর একক কর্তৃত্বে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। নাগরিক সংবর্ধনা বর্জন বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ই মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী যৌথ বিবৃতি দেন।

এতে তারা বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি আয়োজনে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না করায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসকের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নাগরিক কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি এবং মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনকে উপেক্ষা করে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তবে রাষ্ট্রপতির সফর বা রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে মহানগর বিএনপি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মহানগর বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা সার্কিট হাউসে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি ও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন তারা। জেলা-মহানগর নেতৃত্বে কর্তৃত্বের প্রশ্ন : স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের মতে, ঘটনাটি শুধু একটি অনুষ্ঠান বর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মধ্য দিয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্তৃত্বের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি। ফলে জেলা বিএনপির রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্ব একই ব্যক্তির হাতে থাকায় নগর রাজনীতিতে জেলা ও মহানগরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মহানগর বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে জেলা নেতৃত্বের প্রভাব বাড়লেও নগর বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে কোনো সরকারি বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই। জেলা ও মহানগরের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সংসদ সদস্য বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কার ভূমিকা কতটা সক্রিয়, তা নিয়েও তৃণমূলে আলোচনা রয়েছে। এদিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রবেশপথে মহানগর বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক এবং বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল কাদির সমছুর মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির অভিযোগও উঠেছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতার নির্দেশনায় আব্দুল মালেক অনুষ্ঠান বর্জনের বিষয়ে নেতাকর্মীদের অবহিত করছিলেন। এ সময় আব্দুল কাদির সমছুকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তিনি আব্দুল মালেককে চড় মারেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা মালেককে সরিয়ে নেন। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সিটি নির্বাচনেও প্রভাবের আলোচনা : জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠন, তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার এবং নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে।

সংবর্ধনা ঘিরে বিরোধ প্রকাশ্যে আসায় এসব প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ, ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, প্রচার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে মহানগর বিএনপির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের প্রভাবও দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে রয়েছে। ফলে দুই কাঠামোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে নির্বাচনি প্রস্তুতি ও দলীয় কর্মকাণ্ডে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মঙ্গলবারের ঘটনা সিটি নির্বাচন ও নির্বাচনি ফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে গতকাল বুধবার সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় জেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলার ১৩ উপজেলা ও পাঁচ পৌরসভা বিএনপির ‘সুপার ফাইভ’ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি বা আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিবরাও সভায় অংশ নেন। সংবর্ধনা নিয়ে জেলা ও মহানগরের বিরোধ প্রকাশ্যে আসার পরদিন সভাটি হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। সভায় অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, কেউ কেউ সংবর্ধনায় মহানগর বিএনপির অনুপস্থিতি ও বর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করা এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো অনুষ্ঠান বর্জন করেছে।

তার ভাষ্য, অনুষ্ঠানটিকে নাগরিক সংবর্ধনা বলা হলেও প্রকৃত অর্থে এটি কোনো নাগরিক কমিটির মাধ্যমে আয়োজিত হয়নি; এটি সিটি করপোরেশনের একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক আয়োজন। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সাড়া পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।