আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৯%

ইয়েমেনে সংঘাতে লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:21:33 pm, Wednesday, 16 September 2026
  • 22

ইয়েমেনে সংঘাতে লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েক হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি। বাস্তুচ্যুতরা বলছেন, লোহিত সাগর উপকূলে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন, আর অনেকে স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকা পড়েছেন।

ইয়েমেনের মোখা বন্দরের আশপাশের গ্রামগুলো মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় জনশূন্য। যুদ্ধের ভয়ে কেউ ছেড়েছেন মাছ ধরার নৌকা, কেউ ফেলে এসেছেন কৃষিজমি, আবার কেউ বন্ধ করে দিয়েছেন নিজেদের ব্যবসা।

ঘর ছেড়ে পালানো এসব মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া নিরাপত্তা। কিন্তু অনেকের কাছেই সেই নিরাপত্তার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। তেমনি একজন আয়েশা মুহাম্মদ।

আয়েশা মুহাম্মদ নামের এক বাস্তুচ্যুত নারী বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে, তিন ছেলে এখনো সেখানে আটকা আছে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়, কিন্তু বের হতে পারছে না। খাবার ও পানীয় আনতে বাজারেও যেতে পারছে না। তাদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, গুলি চালানো হচ্ছে। তাই তারা ঘরের ভেতরেই আটকে আছে।’

স্বজনদের কাছে ফিরতে না পারার এই অসহায়ত্বই এখন বহু পরিবারের বাস্তবতা।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘যুদ্ধ থেকে বাঁচতে আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছি। শেষ পর্যন্ত শুধু প্রাণটুকু নিয়ে বের হতে পেরেছি, সবকিছু পেছনে ফেলে এসেছি। এখন আমাদের অবস্থা দেখুন, আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছি।’

বারবার জায়গা বদলালেও মিলছে না নিরাপত্তা। অনিশ্চয়তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে খাবার, আশ্রয় ও জীবিকার সংকট। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, আল-মাআফির জেলায় সোমবার পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

বাস্তুচ্যুত শিবির ইউনিটের স্থানীয় কর্মকর্তা বাসসাম আল-হাদ্দাদ বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ সম্পদ প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার অনেক বাইরে চলে গেছে। তার ওপর, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এত মানুষ এখানে এসে পৌঁছেছেন। আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করছি।’

শুধু দেশের ভেতরেই নয়, নিরাপত্তার আশায় ইয়েমেন ছেড়ে প্রতিবেশী জিবুতিতেও পৌঁছাচ্ছেন অনেকে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর পেরিয়ে সেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।

নতুন শরণার্থীদের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা। তবে ইয়েমেনে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের এই স্রোত আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা ও আওয়ামী লীগের তৎপরতা: ডিসেম্বর ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

ইয়েমেনে সংঘাতে লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত

Update Time : 09:21:33 pm, Wednesday, 16 September 2026

ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ দেশের ভেতরেই বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েক হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য দিয়েছে সংস্থাটি। বাস্তুচ্যুতরা বলছেন, লোহিত সাগর উপকূলে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন, আর অনেকে স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আটকা পড়েছেন।

ইয়েমেনের মোখা বন্দরের আশপাশের গ্রামগুলো মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় জনশূন্য। যুদ্ধের ভয়ে কেউ ছেড়েছেন মাছ ধরার নৌকা, কেউ ফেলে এসেছেন কৃষিজমি, আবার কেউ বন্ধ করে দিয়েছেন নিজেদের ব্যবসা।

ঘর ছেড়ে পালানো এসব মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া নিরাপত্তা। কিন্তু অনেকের কাছেই সেই নিরাপত্তার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। তেমনি একজন আয়েশা মুহাম্মদ।

আয়েশা মুহাম্মদ নামের এক বাস্তুচ্যুত নারী বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে, তিন ছেলে এখনো সেখানে আটকা আছে। তারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়, কিন্তু বের হতে পারছে না। খাবার ও পানীয় আনতে বাজারেও যেতে পারছে না। তাদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, গুলি চালানো হচ্ছে। তাই তারা ঘরের ভেতরেই আটকে আছে।’

স্বজনদের কাছে ফিরতে না পারার এই অসহায়ত্বই এখন বহু পরিবারের বাস্তবতা।

একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘যুদ্ধ থেকে বাঁচতে আমরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়িয়েছি। শেষ পর্যন্ত শুধু প্রাণটুকু নিয়ে বের হতে পেরেছি, সবকিছু পেছনে ফেলে এসেছি। এখন আমাদের অবস্থা দেখুন, আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, ভেতর থেকে ভেঙে পড়েছি।’

বারবার জায়গা বদলালেও মিলছে না নিরাপত্তা। অনিশ্চয়তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে খাবার, আশ্রয় ও জীবিকার সংকট। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, আল-মাআফির জেলায় সোমবার পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

বাস্তুচ্যুত শিবির ইউনিটের স্থানীয় কর্মকর্তা বাসসাম আল-হাদ্দাদ বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য যে পরিমাণ সম্পদ প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার অনেক বাইরে চলে গেছে। তার ওপর, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এত মানুষ এখানে এসে পৌঁছেছেন। আমরা সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে কাজ করছি।’

শুধু দেশের ভেতরেই নয়, নিরাপত্তার আশায় ইয়েমেন ছেড়ে প্রতিবেশী জিবুতিতেও পৌঁছাচ্ছেন অনেকে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর পেরিয়ে সেখানে আশ্রয় নিচ্ছেন তারা।

নতুন শরণার্থীদের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা। তবে ইয়েমেনে সহিংসতা অব্যাহত থাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের এই স্রোত আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।