আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৯%

প্রেমের টানে চীন থেকে যশোর এসে বয়সের বাধায় বিষণ্ন মনে ফিরলেন ইউ লিয়াংলিয়াং

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:35:52 am, Tuesday, 11 August 2026
  • 61

প্রেমের টানে চীন থেকে যশোর এসে বয়সের বাধায় বিষণ্ন মনে ফিরলেন ইউ লিয়াংলিয়াং

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অনলাইনে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং সেখান থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রেমের টানেই সুদূর চীন থেকে যশোরের মণিরামপুরে ছুটে এসেছিলেন ৪২ বছর বয়সি চীনা নাগরিক ও প্রকৌশলী ইউ লিয়াংলিয়াং। তবে বয়স কম হওয়া এবং পরিবারের সম্মতি না পাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বিষণ্ন মনেই ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।

জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলার হুরগাতী গ্রামের একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাট’ নামের একটি ফ্রি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাসের পরিচয়ে প্রথমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সেই বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। গত রোববার সকালে হঠাৎ করেই মেয়েটির বাড়িতে হাজির হন ইউ লিয়াংলিয়াং।

তিনি চীনের একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। চীনা নাগরিকের আকস্মিক আগমনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে মেয়েটির পরিবার। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমতে থাকে। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর নানা মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মেয়েটির বাবা এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন।

দুই ভাই-বোনের মধ্যে মেয়েটিই বড়। ওই মেয়েটি জানান, বন্ধুত্বের টানেই ওই চীনা নাগরিক আমার বাড়িতে এসেছেন। অনলাইন প্লাটফর্মে তিন মাস আগে পরিচয় হয়েছিল। বয়স অল্প হওয়ার কারণে পিতা-মাতা আামাকে দিতে অসম্মতি প্রকাশ করেছে। তারা রাজি থাকলে বিয়ে করতে আমার দ্বিমত ছিল না। মেয়েটির মা ও দাদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভিন্ন ধর্মের ৪২ বছর বয়সি ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তারা মেয়েকে বিয়ে দেবেন না।

বন্ধুত্বের কারণে চীনা নাগরিক তার বাড়িতে এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন। ইউ লিয়াংলিয়াং জানান, তার জন্মস্থান চীনের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল শানডং প্রদেশে। পীত সাগর ও রোহাই সাগরের তীরে অবস্থিত এই প্রদেশ। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তার বাবার নাম ইউ সংউই এবং মায়ের নাম কিউই জুয়েজুয়ান। ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের ব্যবহৃত পাসপোর্ট এবং তার সঙ্গে থাকা ভাষান্তর অ্যাপের মাধ্যমে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তিনি ২০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশে তার কোনো পরিচিত না থাকায় সরাসরি হুরগাতী গ্রামে ওই ছাত্রীর বাড়িতে চলে আসেন। ইউ লিয়াংলিয়াং জানান, বন্ধুত্বের টানেই তিনি বাংলাদেশে এসে মেয়েটির বাড়িতে হাজির হয়েছেন। তবে পরিবারের সম্মতি পেলে মেয়েটিকে তার ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল । কিন্তু মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হননি।

যে কারণে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে, চীনা নাগরিককে একনজর দেখতে হুরগাতী গ্রামে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। তবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এই লেখা পর্যন্ত ইউ লিয়াংলিয়াং বিষণ্ন মন নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রেমের টানে চীন থেকে যশোর এসে বয়সের বাধায় বিষণ্ন মনে ফিরলেন ইউ লিয়াংলিয়াং

Update Time : 11:35:52 am, Tuesday, 11 August 2026

অনলাইনে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এবং সেখান থেকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রেমের টানেই সুদূর চীন থেকে যশোরের মণিরামপুরে ছুটে এসেছিলেন ৪২ বছর বয়সি চীনা নাগরিক ও প্রকৌশলী ইউ লিয়াংলিয়াং। তবে বয়স কম হওয়া এবং পরিবারের সম্মতি না পাওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বিষণ্ন মনেই ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।

জানা গেছে, মণিরামপুর উপজেলার হুরগাতী গ্রামের একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাট’ নামের একটি ফ্রি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের পরিচয় হয়। প্রায় তিন মাসের পরিচয়ে প্রথমে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে সেই বন্ধুত্ব প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। গত রোববার সকালে হঠাৎ করেই মেয়েটির বাড়িতে হাজির হন ইউ লিয়াংলিয়াং।

তিনি চীনের একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। চীনা নাগরিকের আকস্মিক আগমনে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে মেয়েটির পরিবার। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ওই বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড়ও জমতে থাকে। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর নানা মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মেয়েটির বাবা এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন।

দুই ভাই-বোনের মধ্যে মেয়েটিই বড়। ওই মেয়েটি জানান, বন্ধুত্বের টানেই ওই চীনা নাগরিক আমার বাড়িতে এসেছেন। অনলাইন প্লাটফর্মে তিন মাস আগে পরিচয় হয়েছিল। বয়স অল্প হওয়ার কারণে পিতা-মাতা আামাকে দিতে অসম্মতি প্রকাশ করেছে। তারা রাজি থাকলে বিয়ে করতে আমার দ্বিমত ছিল না। মেয়েটির মা ও দাদি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভিন্ন ধর্মের ৪২ বছর বয়সি ওই চীনা নাগরিকের সঙ্গে তারা মেয়েকে বিয়ে দেবেন না।

বন্ধুত্বের কারণে চীনা নাগরিক তার বাড়িতে এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন। ইউ লিয়াংলিয়াং জানান, তার জন্মস্থান চীনের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল শানডং প্রদেশে। পীত সাগর ও রোহাই সাগরের তীরে অবস্থিত এই প্রদেশ। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তার বাবার নাম ইউ সংউই এবং মায়ের নাম কিউই জুয়েজুয়ান। ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের ব্যবহৃত পাসপোর্ট এবং তার সঙ্গে থাকা ভাষান্তর অ্যাপের মাধ্যমে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

তিনি ২০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশে তার কোনো পরিচিত না থাকায় সরাসরি হুরগাতী গ্রামে ওই ছাত্রীর বাড়িতে চলে আসেন। ইউ লিয়াংলিয়াং জানান, বন্ধুত্বের টানেই তিনি বাংলাদেশে এসে মেয়েটির বাড়িতে হাজির হয়েছেন। তবে পরিবারের সম্মতি পেলে মেয়েটিকে তার ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল । কিন্তু মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় পরিবার বিয়ে দিতে রাজি হননি।

যে কারণে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন তিনি। এদিকে, চীনা নাগরিককে একনজর দেখতে হুরগাতী গ্রামে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়। তবে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এই লেখা পর্যন্ত ইউ লিয়াংলিয়াং বিষণ্ন মন নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।