চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরীকে আধুনিক, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় ‘খুলশী রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ’ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, কারিগরি বৈশিষ্ট্য, ব্যয়, জনসেবা ও ভবিষ্যৎ উপযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা শেষে তিনি এ কথা বলেন। পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন পর্যালোচনা করে মেয়র বলেন, খুলশী রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা হাজারো মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে প্রস্তাবিত খুলশী রেলওয়ে ওভারপাস। একই সঙ্গে দেওয়ানহাটের প্রায় সাড়ে চার দশক পুরোনো জরাজীর্ণ ওভারপাসটি ভেঙে না ফেলে আধুনিক রেট্রোফিটিং ও শক্তিশালীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এর আয়ুষ্কাল আরও ৩০ বছরের বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে সিটি কর্পোরেশনের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নগরবাসী দ্রুত সুফল ভোগ করতে পারবেন। সভায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ডিলাইট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালট্যান্টস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা প্রকল্পটির বিভিন্ন কারিগরি দিক, বাস্তবায়ন কৌশল, সম্ভাব্য ব্যয় এবং ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। চসিক সূত্র জানায়, নগরের খুলশী রেলগেট লেভেল ক্রসিংয়ে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিরসনে ১১০ কোটি ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে চার লেনবিশিষ্ট একটি ওভারপাস নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পে ২০০ মিটার দীর্ঘ মূল ওভারপাস (প্রস্থ ১৯.১০ মিটার), ৫০০ মিটার র্যাম্প (প্রস্থ ১৮.৬০ মিটার), ২ হাজার ২৮০ মিটার দীর্ঘ ও ৫.৫০ মিটার প্রশস্ত সার্ভিস রোড এবং সমান দৈর্ঘ্যের ফুটপাত-কাম-ড্রেন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ৩ দশমিক ২৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। ওভারপাস চালু হলে দ্রুতগতির যানবাহন ওভারপাস ব্যবহার করবে এবং স্থানীয় যানবাহন যেমন রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল নিচের সার্ভিস রোড দিয়ে চলাচল করবে। ফলে রেলক্রসিংয়ে শতভাগ যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত প্রায় ৪৫ বছর পুরোনো দেওয়ানহাট ওভারপাসের বর্তমান অবস্থা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। উপস্থাপনায় কংক্রিট ক্ষয়, রডে মরিচা এবং সারফেস ক্র্যাকিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়। প্রতিদিন ভারী কন্টেইনার ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে ওভারপাসটি বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সমস্যা সমাধানে মেয়রের সামনে তিনটি বিকল্প ও রেট্রোফিটিং কৌশল উপস্থাপন করা হয়। এসব পদ্ধতি বাস্তবায়ন করলে কোনো উচ্ছেদ ছাড়াই পিলারের লোড বহনক্ষমতা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে, ব্যয় কম হবে এবং ওভারপাসটির কার্যক্ষমতা আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হবে। পর্যালোচনা শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দেওয়ানহাট ওভারপাসের রেট্রোফিটিং ও স্ট্রেনদেনিং পরিকল্পনার কার্যকারিতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। সভায় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
8:47 pm, Monday, 3 August 2026
শিরোনাম :
নগরীকে আধুনিক মেগাসিটি গড়ে তুলতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি : চসিক মেয়র
-
MIT ERP
- Update Time : 07:22:19 pm, Monday, 3 August 2026
- 4
Tag :
Popular Post




















