5:21 am, Monday, 3 August 2026

পাহাড়ে গবেষণা কেন্দ্র থেকে সেগুনগাছ চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:01:21 am, Monday, 3 August 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

খাগড়াছড়ির রামগড়ে পাহাড়ি অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বাগান থেকে বড় বড় সেগুনগাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কড়া পাহারা ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে সরকারি গবেষণা কেন্দ্র থেকে গাছ কেটে পাচার হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র রহস্য ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, এই সরকারি গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শ্রমিক ও ১২ আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া গবেষণা কেন্দ্রের ঠিক পাশেই রয়েছে বিজিবির একটি চেকপোস্ট। এত কড়াকড়ি এবং বহুমুখী নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার পরেও কীভাবে রাতের আঁধারে বা দিনে বড় সাইজের সেগুনগাছ কেটে ট্রাকে বা গাড়িতে করে পাচার করা হলো? সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মিলছে না। গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাগানের ভেতরের বেশ কিছু বড় সেগুনগাছ কেটে ফেলা হয়। তবে গাছ কাটার সময় দায়িত্বরত শ্রমিক, আনসার সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউই বিষয়টি টের পাননি বলে দাবি করেছেন। গত শুক্রবার ঘটনাটি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পান এবং পড়ে থাকা কিছু অংশ উদ্ধার করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকালের দিকে বাগানের ভেতর থেকে একটি গাড়িতে করে কাঠ বা গাছ নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তারা দেখতে পেয়েছিলেন। মূলত এর পরই এলাকায় গাছ চুরির বিষয়টি চাউর হয়। তবে ঠিক কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে ভেতরের কোনো সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও ২০২৩ সালে রামগড় পাহাড়ি অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গাছ কেটে বিক্রির জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি বাগানে বারবার এমন চুরির ঘটনা ঘটলেও অতীতে দাপ্তরিকভাবে কী ধরনের কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি অতীতের সেই অনিয়ম ও চুরির বিষয়গুলোকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে সরকারি সম্পদ চুরির এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে রামগড় পাহাড়ি অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমদাদুল হক জানান, তিনি বর্তমানে স্টেশনের বাইরে অবস্থান করছেন এবং গাছ কাটার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে বিষয়টি শোনার পর তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পাহাড়ে গবেষণা কেন্দ্র থেকে সেগুনগাছ চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

Update Time : 04:01:21 am, Monday, 3 August 2026

খাগড়াছড়ির রামগড়ে পাহাড়ি অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বাগান থেকে বড় বড় সেগুনগাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কড়া পাহারা ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে সরকারি গবেষণা কেন্দ্র থেকে গাছ কেটে পাচার হলো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র রহস্য ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, এই সরকারি গবেষণা কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শ্রমিক ও ১২ আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া গবেষণা কেন্দ্রের ঠিক পাশেই রয়েছে বিজিবির একটি চেকপোস্ট। এত কড়াকড়ি এবং বহুমুখী নিরাপত্তা বেষ্টনী থাকার পরেও কীভাবে রাতের আঁধারে বা দিনে বড় সাইজের সেগুনগাছ কেটে ট্রাকে বা গাড়িতে করে পাচার করা হলো? সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর মিলছে না। গবেষণা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাগানের ভেতরের বেশ কিছু বড় সেগুনগাছ কেটে ফেলা হয়। তবে গাছ কাটার সময় দায়িত্বরত শ্রমিক, আনসার সদস্য কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কেউই বিষয়টি টের পাননি বলে দাবি করেছেন। গত শুক্রবার ঘটনাটি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার সত্যতা পান এবং পড়ে থাকা কিছু অংশ উদ্ধার করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সকালের দিকে বাগানের ভেতর থেকে একটি গাড়িতে করে কাঠ বা গাছ নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য তারা দেখতে পেয়েছিলেন। মূলত এর পরই এলাকায় গাছ চুরির বিষয়টি চাউর হয়। তবে ঠিক কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে ভেতরের কোনো সিন্ডিকেটের হাত রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও ২০২৩ সালে রামগড় পাহাড়ি অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গাছ কেটে বিক্রির জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। সরকারি বাগানে বারবার এমন চুরির ঘটনা ঘটলেও অতীতে দাপ্তরিকভাবে কী ধরনের কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি অতীতের সেই অনিয়ম ও চুরির বিষয়গুলোকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভেতরে সরকারি সম্পদ চুরির এই ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে রামগড় পাহাড়ি অঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমদাদুল হক জানান, তিনি বর্তমানে স্টেশনের বাইরে অবস্থান করছেন এবং গাছ কাটার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে বিষয়টি শোনার পর তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।