কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যকর তদারকি ছাড়া চলছে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম। অননুমোদিত এই কার্যক্রম বন্ধে এ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ। গত শনিবার আকাশে উড্ডয়নের সময় প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে এর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা। এরপরই যেন নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ঘটনার পর সাময়িকভাবে প্যারাসেইলিং বন্ধ, তদন্ত কমিটি গঠন এবং দায় নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জনমনেন প্রশ্ন, এতদিন কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? প্যারাসেইলিং একটি জনপ্রিয় অ্যাডভেঞ্চার বা রোমাঞ্চকর বিনোদনমূলক খেলা, যেখানে আকাশে ভেসে থাকার অনুভূতি পাওয়া যায়। সহজ কথায়, এতে একটি বিশেষভাবে তৈরি প্যারাসুটের সঙ্গে মানুষকে বেঁধে একটি দ্রুতগতির বোট বা যানবাহনের পেছনে টেনে নেওয়া হয়। পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রতিবছর লাখো পর্যটক ভ্রমণে আসেন। তাদের আকৃষ্ট করতে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে প্যারাসেইলিং, স্পিডবোট, বিচ বাইকসহ নানা ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের একটি বড় অংশ পরিচালিত হয় যথাযথ নীতিমালা, নিরাপত্তা মান ও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও কার্যকর নজরদারির অভাব ছিল স্পষ্ট। গত শনিবার দুপুরে দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেলিং দুর্ঘটনায় নিহত হন খুলনার বাসিন্দা অক্ষর সৌভিক রায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিন ধরে প্যারাসেইলিং পরিচালিত হয়ে আসছে। গত ১০ বছরে একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে পড়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১৯ পর্যটক। অভিযোগ রয়েছে, সৈকতে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী তিনটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই প্রয়োজনীয় অনুমোদন বা নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করেনি। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন কোনো অনুমোদন দেয়নি। প্রশাসনের অগোচরে চালু ছিল প্যারাসেইলিং। একজন পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্যারাসেইলিংয়ের সব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাসেইলিং একটি উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। আন্তর্জাতিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনায় আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ, প্রশিক্ষিত অপারেটর, নির্ধারিত ওজনসীমা এবং উদ্ধারকারী নৌযান প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, কক্সবাজারের সৈকতে পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রমের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও দায়িত্বশীল সংস্থার সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ নয়, কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে পরিচালিত সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রমের বৈধতা, নিরাপত্তা মান, তদারকি ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।
5:38 am, Tuesday, 4 August 2026
শিরোনাম :
























