পাকিস্তান ভারত সীমান্তে ২৫০টি চীনা-নির্মিত এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজার মোতায়েন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ১৫৫ মিলিমিটার ক্যালিবারের এই আর্টিলারি সিস্টেমগুলো পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে মোতায়েন করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অপারেশন সিঁদুর-এর পর সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইসলামাবাদের নেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এটি। এসএইচ-১৫ হাউইটজার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নরিনকো তৈরি করেছে। প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী জেনেস (Janes)-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি ৬×৬ চ্যাসিসের ওপর নির্মিত। এতে চার দরজাবিশিষ্ট সম্পূর্ণ আবদ্ধ ক্যাব এবং ছাদে একটি ১২.৭ মিলিমিটার মেশিনগান সংযুক্ত রয়েছে।
হাউইটজারটি ৪০০ হর্সপাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিনচালিত। এর পাওয়ার-টু-ওয়েট অনুপাত প্রতি টনে ১৫.৬৮ হর্সপাওয়ার। এটি ন্যাটো-মানের ১৫৫ মিলিমিটার গোলাবারুদ ব্যবহার করে সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। জেনেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবহৃত প্রজেক্টাইলের ধরন অনুযায়ী এর সর্বোচ্চ পাল্লা পরিবর্তিত হয়।
নরিনকোর দাবি, হাই-এক্সপ্লোসিভ এক্সটেন্ডেড-রেঞ্জ ফুল-বোর বেস-ব্লিড রকেট-অ্যাসিস্টেড প্রজেক্টাইল ব্যবহার করলে এসএইচ-১৫-এর সর্বোচ্চ পাল্লা ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই আর্টিলারি সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় ফায়ার-কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং হাইড্রোলিক স্ট্যাবিলাইজিং স্পেড রয়েছে। ফলে এটি দ্রুত মোতায়েন, প্রতি ৬০ সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ছয় রাউন্ড গোলাবর্ষণ এবং শত্রুপক্ষ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই অবস্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম।
বিশ্লেෂকদের মতে, এই মোতায়েন চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি উদাহরণ।



















