6:50 am, Tuesday, 4 August 2026

পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:25:58 am, Tuesday, 4 August 2026
  • 1

পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অহেতুক ও অতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ না করে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের চাষাবাদ ও দৈনন্দিন জীবনে পানির সংকট অন্যতম বড় সমস্যা। রাঙ্গামাটির একটি দুর্গম এলাকায় স্বাধীনতার পর থেকে নারীরা ১,২০০ ফুট নিচে নেমে খাবার পানি সংগ্রহ করতেন। বিষয়টি জানার পর তিনি রাঙ্গামাটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হয়।

অতীতে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অহেতুক অতিরিক্ত প্রকল্প না নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি কৃষি ও ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণ, অর্গানিক ফলের বাগান বৃদ্ধি, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলার পাড়াকেন্দ্রে নারীদের জন্য ওয়াশরুম সুবিধা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য নিরাপদ সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং মডেল পাড়াকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও রেকর্ডকৃত পাঠদানের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষকের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য জেলাভিত্তিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ ও স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনার কথাও সভায় তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত পাঁচটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করার অনুরোধ করেন।

সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষক দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, রাঙ্গামাটিতে সংযোগ সড়কসহ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি-বাঘমারা ও হেমরঞ্জন পাড়া সড়ক নির্মাণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

এ ছাড়া সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত ২১টি প্রকল্পের মধ্যে সরকারের বর্তমান নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১৬টি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পাহাড়িদের জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগের আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

Update Time : 05:25:58 am, Tuesday, 4 August 2026

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অহেতুক ও অতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ না করে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান ও সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের চাষাবাদ ও দৈনন্দিন জীবনে পানির সংকট অন্যতম বড় সমস্যা। রাঙ্গামাটির একটি দুর্গম এলাকায় স্বাধীনতার পর থেকে নারীরা ১,২০০ ফুট নিচে নেমে খাবার পানি সংগ্রহ করতেন। বিষয়টি জানার পর তিনি রাঙ্গামাটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হয়।

অতীতে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অহেতুক অতিরিক্ত প্রকল্প না নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে তিনি কৃষি ও ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সম্প্রসারণ, অর্গানিক ফলের বাগান বৃদ্ধি, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ এবং ড্রাই ফ্রুটস প্রসেসিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসব উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের ২৬টি উপজেলার পাড়াকেন্দ্রে নারীদের জন্য ওয়াশরুম সুবিধা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য নিরাপদ সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা এবং মডেল পাড়াকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

আধুনিক শিক্ষা বিস্তারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্ট্রাল স্যাটেলাইটভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও রেকর্ডকৃত পাঠদানের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজি শিক্ষকের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। ক্রীড়া উন্নয়নের জন্য জেলাভিত্তিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে খেলার মাঠ ও স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনার কথাও সভায় তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে কোল্ড স্টোরেজ, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্তত পাঁচটি নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করার অনুরোধ করেন।

সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষক দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, রাঙ্গামাটিতে সংযোগ সড়কসহ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান প্রকল্প, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি-বাঘমারা ও হেমরঞ্জন পাড়া সড়ক নির্মাণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।

এ ছাড়া সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত ২১টি প্রকল্পের মধ্যে সরকারের বর্তমান নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ১৬টি প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।