দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, পাসপোর্ট জালিয়াতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ একাধিক মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সরকার নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে যেসব মামলায় ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছিল, সেসব মামলার প্রাথমিক নথিপত্র পর্যালোচনার পর ঢাকার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে দুবাই পুলিশ। বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি বিষয় নিয়ে আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বিবিসি বাংলাকে জানান, দুদক প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ করেছে। এসব নথি শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে তা দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, দুবাই পুলিশের চাওয়া যাবতীয় নথিপত্র সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত নথিপত্র পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে সরবরাহ করা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। আইনজীবীদের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এগুলো হলো—অপরাধের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, দুই দেশের আইনের মধ্যে সামঞ্জস্যতা, আদালতে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা। সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওলারা আফরিনের মতে, এসব বিষয় বিবেচনা করেই ইউএইর আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলে কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হয়। তবে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে এ ধরনের কোনো চুক্তি নেই। ভারত ও থাইল্যান্ড ছাড়া অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। ফলে বেনজীর আহমেদকে কোন আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরানো হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন বেনজীর আহমেদ। তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। আইজিপি পদ থেকে অবসরের পর তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শুরুর পর ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। বর্তমানে বেনজীর আহমেদকে ঘিরে আইনি প্রক্রিয়া, নথিপত্র আদান-প্রদান এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ওপরই নির্ভর করছে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরবর্তী পদক্ষেপ।
10:55 pm, Friday, 31 July 2026
শিরোনাম :
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কতদিন লাগবে?
-
MIT ERP
- Update Time : 08:46:13 pm, Friday, 31 July 2026
- 3
Tag :
Popular Post























