3:22 am, Friday, 31 July 2026

মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অংশীদার হতে চাই

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:16:15 am, Friday, 31 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বর্তমানে আপনার ব্যাংকের হোম লোন পোর্টফোলিওর আকার কত? গত এক বছরে প্রবৃদ্ধি কেমন ছিল? উত্তর : বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকের হোম লোন পোর্টফোলিওর পরিমাণ প্রায় ৬,৪১৮.৮০ কোটি টাকা (৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত)। গত এক বছর নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয়ের ক্রমবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার প্রভাবে দেশের আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা দৃশ্যমান। এর প্রভাব সরাসরি হোম লোন বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী যে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি, সুদের হারে স্থিতিশীলতা এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই খাত আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে। দেশে হোম লোনের চাহিদা বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে? কোন শ্রেণির গ্রাহকদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি? উত্তর : বাংলাদেশে হোম লোনের মৌলিক চাহিদা এখনো শক্তিশালী রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণ এবং নিজস্ব একটি বাড়ির স্বপ্ন পূরণের আগ্রহ এই চাহিদাকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং নির্মাণের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। বর্তমান বাজারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী, প্রথমবারের মতো বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে ইচ্ছুক গ্রাহক ও তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের আবাসনের প্রতি আগ্রহী ক্রেতারাও হোম লোনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করছেন। উচ্চ সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির কারণে হোম লোন বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে? উত্তর : উচ্চ সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকদের কিস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেকেই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় ভুগছেন। একই সঙ্গে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। তবে প্রকৃত আবাসনের প্রয়োজন যাদের রয়েছে তারা এখনো পরিকল্পিতভাবে হোম লোন নিচ্ছেন। ব্যাংক হিসেবে আমরা দ্রুত প্রসেসিং, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ এবং গ্রাহকবান্ধব শর্তের মাধ্যমে এই চাপ কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করছি। আবাসন খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকের ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? উত্তর : আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি, কারণ এই খাতের প্রবৃদ্ধি একই সঙ্গে অনেক শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকা-কে গতিশীল করে। হোম লোনের মাধ্যমে নির্মাণ শিল্প সচল থাকে এবং সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, ব্যক্তিগত সম্পদ গঠনে সহায়তা করে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক অবদান রাখে। তাই ব্যাংকের আবাসন অর্থায়ন শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। মধ্যবিত্ত ও প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য আপনার ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ কী? উত্তর : মধ্যবিত্ত এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী গ্রাহকদের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই আইএফআইসি আমার বাড়ি হোম লোনটি সহজ, দ্রুত এবং গ্রাহকবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, যাতে একজন যোগ্য গ্রাহক সহজ শর্তে এবং স্বল্প সময়ে নিজের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন। এই লক্ষ্যে আমরা আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করেছি। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যেই ঋণ অনুমোদনের সক্ষমতা রয়েছে। নতুন হোম লোনের ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ এবং অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো প্রসেসিং ফি নেওয়া হয় না। এ ছাড়া মর্টগেজকৃত সম্পত্তির জন্য আলাদা বিমা বাধ্যতামূলক নয় এবং কোনো গোপন চার্জও নেই। আমরা প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুবিধা এবং দেশের ১,৪০০-এর বেশি শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে সহজে আবেদন করার সুযোগ প্রদান করছি। পাশাপাশি ২২ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ পেশাজীবীদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে, যাতে তারা কর্মজীবনের শুরুতেই নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পান। নারী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তরুণ পেশাজীবীদের জন্য আলাদা কোনো হোম লোন পণ্য রয়েছে কি? উত্তর : আমাদের আলাদা নামে পৃথক পণ্য না থাকলেও আইএফআইসি আমার বাড়ি হোম লোন, বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির প্রয়োজন বিবেচনা করেই ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবীদের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতে আমরা ২২ থেকে ৩৫ বছর বয়সি গ্রাহকদের জন্য একটি বিশেষ সেগমেন্ট চালু করেছি। এই সেগমেন্টের আওতায় তারা ৫ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত হোম লোন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, যা কর্মজীবনের শুরুতেই নিজের বাড়ি কেনা বা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করে। নারী গ্রাহকদের জন্যও কোনো পৃথক সীমাবদ্ধতা বা বৈষম্য নেই; যোগ্যতা ও পরিশোধ সক্ষমতার ভিত্তিতে তারা একই প্রতিযোগিতামূলক শর্তে হোম লোন সুবিধা পেয়ে থাকেন। আমাদের লক্ষ্য হলো, সব ধরনের যোগ্য গ্রাহকের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য হোম ফাইন্যান্সিং সমাধান নিশ্চিত করা। বর্তমান সুদের হার কাঠামো হোম লোনের বাজারকে কতটা প্রভাবিত করছে? উত্তর : বর্তমান সুদের হার কাঠামো হোম লোনের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে পলিসি রেট বৃদ্ধি করেছে যা স্বাভাবিকভাবেই ঋণের সুদের হারেও প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে হোম লোনের চাহিদায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে যাদের প্রকৃত আবাসন প্রয়োজন, তারা এখনো পরিকল্পিতভাবে হোম লোন গ্রহণ করছেন। আমাদের বিশ্বাস, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে এবং মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে সহনশীল অবস্থানে ফিরে এলে সুদের হারও আরও স্থিতিশীল হবে। তখন হোম লোন বাজার আবারও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে। বর্তমানে আপনার ব্যাংকের হোম লোনে কী কী বিশেষ অফার বা সুবিধা রয়েছে? উত্তর : বর্তমানে আইএফআইসি আমার বাড়ি হোম লোনে গ্রাহকদের জন্য বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় সুবিধা রয়েছে, যা ঋণ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী করে তুলেছে। বর্তমানে চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ২৫ জুন থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নতুন হোম লোনের ক্ষেত্রে কোনো প্রসেসিং ফি নেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া আমাদের হোম লোনে সম্পত্তির ওপর অতিরিক্ত বিমা গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয় এবং কোনো গোপন চার্জও নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের সক্ষমতা রয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য সময় সাশ্রয়ী একটি সুবিধা। পাশাপাশি আমরা প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুযোগ এবং দেশের ১ হাজার ৪ শতাধিক শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে সহজে আবেদন করার সুবিধা প্রদান করছি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের জন্য একটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হোম ফাইন্যান্সিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আবাসন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কী এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠতে কী ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন? উত্তর : বর্তমানে আবাসন খাত বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে একই সঙ্গে জমির মূল্য, নির্মাণসামগ্রীর দাম এবং নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আবাসনের মোট খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানা ও দলিল-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও অনেক ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নকে সময়সাপেক্ষ করে তুলছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সমন্বিত নীতিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমূল্যের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, ভূমি রেকর্ড ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার আরও ডিজিটালাইজেশন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনার মতো উদ্যোগ বাজারকে আরও গতিশীল করতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা গেলে হোম লোনের চাহিদা ও আবাসন খাত উভয়ই নতুন করে গতি ফিরে পাবে। সাশ্রয়ী আবাসন সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলো কী ভূমিকা রাখতে পারে? উত্তর : সাশ্রয়ী আবাসনের সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যম ও নি-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সহজ শর্তে, দীর্ঘমেয়াদি এবং সাশ্রয়ী কিস্তিভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারলে আবাসন খাতের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী গ্রাহক, তরুণ পেশাজীবী এবং গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের পরিবারের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক হোম লোন পণ্য তৈরি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমার বাড়ির আওতায় গ্রাহকদের জন্য একটি পৃথক সেমি পাকা সেগমেন্ট রয়েছে। এই সেগমেন্টের আওতায় যেসব বাড়ির দেয়াল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ইটের তৈরি, মেঝে সিমেন্টের এবং ছাদ টিন দিয়ে তৈরি সেসব বাড়িকে সেমি পাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের আবাসনের জন্য যোগ্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন কর্মসূচি কেবল শহরকেন্দ্রিক আবাসন চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের মানুষের জন্যও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক আবাসন অর্থায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে। আগামী ৩-৫ বছরে হোম লোন ব্যবসা নিয়ে আপনার ব্যাংকের পরিকল্পনা কী? উত্তর : আগামী ৩-৫ বছরে আমাদের লক্ষ্য হলো আইএফআইসি আমার বাড়িকে দেশের অন্যতম শীর্ষ এবং সবচেয়ে গ্রাহকবান্ধব হোম ফাইন্যান্সিং সমাধান হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করা। আমরা হোম লোন পোর্টফোলিওর টেকসই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এমন সব উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই, যা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আবাসন অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য, দ্রুত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকের ১ হাজার ৪ শতাধিক শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আমাদের সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ফলে শহর, আধা-শহর এবং গ্রামীণ সব অঞ্চলের গ্রাহকরাই সহজে আমাদের হোম লোন সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন। আগামী দিনে আমরা হোম লোন প্রক্রিয়াকে আরও বেশি ডিজিটাল করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো লোন প্রসেস কে ডিজিটাল করা, যার মাধ্যমে একজন গ্রাহক দেশের যেকোনো স্থান থেকে শাখা বা উপশাখায় সরাসরি না গিয়েও অনলাইনে হোম লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সহজেই সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত করার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশে আবাসনের মৌলিক চাহিদা আগামী দিনগুলোতেও শক্তিশালী থাকবে। তাই উদ্ভাবনী পণ্য, প্রযুক্তনির্ভর সেবা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমরা আরও বেশি মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অংশীদার হতে চাই। হেলাল আহমেদ চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস ও হেড অব অপারেশনস আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অংশীদার হতে চাই

Update Time : 02:16:15 am, Friday, 31 July 2026

বর্তমানে আপনার ব্যাংকের হোম লোন পোর্টফোলিওর আকার কত? গত এক বছরে প্রবৃদ্ধি কেমন ছিল? উত্তর : বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকের হোম লোন পোর্টফোলিওর পরিমাণ প্রায় ৬,৪১৮.৮০ কোটি টাকা (৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত)। গত এক বছর নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ সুদের হার, নির্মাণ ব্যয়ের ক্রমবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার প্রভাবে দেশের আবাসন খাতের প্রবৃদ্ধিতে স্থবিরতা দৃশ্যমান। এর প্রভাব সরাসরি হোম লোন বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী যে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি, সুদের হারে স্থিতিশীলতা এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই খাত আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে। দেশে হোম লোনের চাহিদা বর্তমানে কী অবস্থায় রয়েছে? কোন শ্রেণির গ্রাহকদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি? উত্তর : বাংলাদেশে হোম লোনের মৌলিক চাহিদা এখনো শক্তিশালী রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির সম্প্রসারণ এবং নিজস্ব একটি বাড়ির স্বপ্ন পূরণের আগ্রহ এই চাহিদাকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমানে উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং নির্মাণের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নিচ্ছেন। বর্তমান বাজারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী, প্রথমবারের মতো বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে ইচ্ছুক গ্রাহক ও তরুণ পেশাজীবীদের মধ্যে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের আবাসনের প্রতি আগ্রহী ক্রেতারাও হোম লোনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গঠন করছেন। উচ্চ সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির কারণে হোম লোন বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে? উত্তর : উচ্চ সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকদের কিস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেকেই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় ভুগছেন। একই সঙ্গে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। তবে প্রকৃত আবাসনের প্রয়োজন যাদের রয়েছে তারা এখনো পরিকল্পিতভাবে হোম লোন নিচ্ছেন। ব্যাংক হিসেবে আমরা দ্রুত প্রসেসিং, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ এবং গ্রাহকবান্ধব শর্তের মাধ্যমে এই চাপ কিছুটা লাঘব করার চেষ্টা করছি। আবাসন খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকের ভূমিকা আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন? উত্তর : আবাসন খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি, কারণ এই খাতের প্রবৃদ্ধি একই সঙ্গে অনেক শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকা-কে গতিশীল করে। হোম লোনের মাধ্যমে নির্মাণ শিল্প সচল থাকে এবং সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, ব্যক্তিগত সম্পদ গঠনে সহায়তা করে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক অবদান রাখে। তাই ব্যাংকের আবাসন অর্থায়ন শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। মধ্যবিত্ত ও প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য আপনার ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ কী? উত্তর : মধ্যবিত্ত এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী গ্রাহকদের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখেই আইএফআইসি আমার বাড়ি হোম লোনটি সহজ, দ্রুত এবং গ্রাহকবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, যাতে একজন যোগ্য গ্রাহক সহজ শর্তে এবং স্বল্প সময়ে নিজের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন। এই লক্ষ্যে আমরা আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করেছি। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যেই ঋণ অনুমোদনের সক্ষমতা রয়েছে। নতুন হোম লোনের ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ এবং অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো প্রসেসিং ফি নেওয়া হয় না। এ ছাড়া মর্টগেজকৃত সম্পত্তির জন্য আলাদা বিমা বাধ্যতামূলক নয় এবং কোনো গোপন চার্জও নেই। আমরা প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুবিধা এবং দেশের ১,৪০০-এর বেশি শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে সহজে আবেদন করার সুযোগ প্রদান করছি। পাশাপাশি ২২ থেকে ৩৫ বছর বয়সি তরুণ পেশাজীবীদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে, যাতে তারা কর্মজীবনের শুরুতেই নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পান। নারী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তরুণ পেশাজীবীদের জন্য আলাদা কোনো হোম লোন পণ্য রয়েছে কি? উত্তর : আমাদের আলাদা নামে পৃথক পণ্য না থাকলেও আইএফআইসি আমার বাড়ি হোম লোন, বিভিন্ন গ্রাহক শ্রেণির প্রয়োজন বিবেচনা করেই ডিজাইন করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবীদের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতে আমরা ২২ থেকে ৩৫ বছর বয়সি গ্রাহকদের জন্য একটি বিশেষ সেগমেন্ট চালু করেছি। এই সেগমেন্টের আওতায় তারা ৫ লাখ থেকে ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত হোম লোন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, যা কর্মজীবনের শুরুতেই নিজের বাড়ি কেনা বা নির্মাণের সুযোগ সৃষ্টি করে। নারী গ্রাহকদের জন্যও কোনো পৃথক সীমাবদ্ধতা বা বৈষম্য নেই; যোগ্যতা ও পরিশোধ সক্ষমতার ভিত্তিতে তারা একই প্রতিযোগিতামূলক শর্তে হোম লোন সুবিধা পেয়ে থাকেন। আমাদের লক্ষ্য হলো, সব ধরনের যোগ্য গ্রাহকের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহজলভ্য হোম ফাইন্যান্সিং সমাধান নিশ্চিত করা। বর্তমান সুদের হার কাঠামো হোম লোনের বাজারকে কতটা প্রভাবিত করছে? উত্তর : বর্তমান সুদের হার কাঠামো হোম লোনের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে পলিসি রেট বৃদ্ধি করেছে যা স্বাভাবিকভাবেই ঋণের সুদের হারেও প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে হোম লোনের চাহিদায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তবে যাদের প্রকৃত আবাসন প্রয়োজন, তারা এখনো পরিকল্পিতভাবে হোম লোন গ্রহণ করছেন। আমাদের বিশ্বাস, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলে এবং মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে সহনশীল অবস্থানে ফিরে এলে সুদের হারও আরও স্থিতিশীল হবে। তখন হোম লোন বাজার আবারও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে আসবে। বর্তমানে আপনার ব্যাংকের হোম লোনে কী কী বিশেষ অফার বা সুবিধা রয়েছে? উত্তর : বর্তমানে আইএফআইসি আমার বাড়ি হোম লোনে গ্রাহকদের জন্য বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় সুবিধা রয়েছে, যা ঋণ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী করে তুলেছে। বর্তমানে চলমান বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ২৫ জুন থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত নতুন হোম লোনের ক্ষেত্রে কোনো প্রসেসিং ফি নেওয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া আমাদের হোম লোনে সম্পত্তির ওপর অতিরিক্ত বিমা গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয় এবং কোনো গোপন চার্জও নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকলে মাত্র দুই কর্মদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের সক্ষমতা রয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য সময় সাশ্রয়ী একটি সুবিধা। পাশাপাশি আমরা প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুযোগ এবং দেশের ১ হাজার ৪ শতাধিক শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে সহজে আবেদন করার সুবিধা প্রদান করছি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের জন্য একটি দ্রুত, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত হোম ফাইন্যান্সিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। আবাসন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কী এবং সেগুলো কাটিয়ে উঠতে কী ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন? উত্তর : বর্তমানে আবাসন খাত বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির কারণে একই সঙ্গে জমির মূল্য, নির্মাণসামগ্রীর দাম এবং নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় আবাসনের মোট খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানা ও দলিল-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতাও অনেক ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নকে সময়সাপেক্ষ করে তুলছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সমন্বিত নীতিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমূল্যের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, ভূমি রেকর্ড ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার আরও ডিজিটালাইজেশন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনার মতো উদ্যোগ বাজারকে আরও গতিশীল করতে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা গেলে হোম লোনের চাহিদা ও আবাসন খাত উভয়ই নতুন করে গতি ফিরে পাবে। সাশ্রয়ী আবাসন সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলো কী ভূমিকা রাখতে পারে? উত্তর : সাশ্রয়ী আবাসনের সম্প্রসারণে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যম ও নি-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সহজ শর্তে, দীর্ঘমেয়াদি এবং সাশ্রয়ী কিস্তিভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারলে আবাসন খাতের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহী গ্রাহক, তরুণ পেশাজীবী এবং গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের পরিবারের জন্য প্রয়োজনভিত্তিক হোম লোন পণ্য তৈরি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমার বাড়ির আওতায় গ্রাহকদের জন্য একটি পৃথক সেমি পাকা সেগমেন্ট রয়েছে। এই সেগমেন্টের আওতায় যেসব বাড়ির দেয়াল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ইটের তৈরি, মেঝে সিমেন্টের এবং ছাদ টিন দিয়ে তৈরি সেসব বাড়িকে সেমি পাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ধরনের আবাসনের জন্য যোগ্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। আমাদের বিশ্বাস, এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন কর্মসূচি কেবল শহরকেন্দ্রিক আবাসন চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং গ্রামীণ ও আধা-শহরাঞ্চলের মানুষের জন্যও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে প্রাতিষ্ঠানিক আবাসন অর্থায়নের আওতায় আনা সম্ভব হবে। আগামী ৩-৫ বছরে হোম লোন ব্যবসা নিয়ে আপনার ব্যাংকের পরিকল্পনা কী? উত্তর : আগামী ৩-৫ বছরে আমাদের লক্ষ্য হলো আইএফআইসি আমার বাড়িকে দেশের অন্যতম শীর্ষ এবং সবচেয়ে গ্রাহকবান্ধব হোম ফাইন্যান্সিং সমাধান হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করা। আমরা হোম লোন পোর্টফোলিওর টেকসই প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি এমন সব উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই, যা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য আবাসন অর্থায়নকে আরও সহজলভ্য, দ্রুত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। বর্তমানে আইএফআইসি ব্যাংকের ১ হাজার ৪ শতাধিক শাখা ও উপশাখার মাধ্যমে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আমাদের সেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ফলে শহর, আধা-শহর এবং গ্রামীণ সব অঞ্চলের গ্রাহকরাই সহজে আমাদের হোম লোন সুবিধা গ্রহণ করতে পারছেন। আগামী দিনে আমরা হোম লোন প্রক্রিয়াকে আরও বেশি ডিজিটাল করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো লোন প্রসেস কে ডিজিটাল করা, যার মাধ্যমে একজন গ্রাহক দেশের যেকোনো স্থান থেকে শাখা বা উপশাখায় সরাসরি না গিয়েও অনলাইনে হোম লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সহজেই সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার পাশাপাশি গ্রাহকসেবার মান ধারাবাহিকভাবে উন্নত করার ওপরও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, বাংলাদেশে আবাসনের মৌলিক চাহিদা আগামী দিনগুলোতেও শক্তিশালী থাকবে। তাই উদ্ভাবনী পণ্য, প্রযুক্তনির্ভর সেবা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমরা আরও বেশি মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অংশীদার হতে চাই। হেলাল আহমেদ চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস ও হেড অব অপারেশনস আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি