3:22 am, Friday, 31 July 2026

আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের স্বপ্নকে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:06:27 am, Friday, 31 July 2026
  • 1
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

প্রশ্ন : আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু বলুন। উত্তর : আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সুদমুক্ত, নৈতিক ও শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং প্রবর্তনের পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইসলামী অর্থনীতি সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার অন্যতম পথ। বর্তমানে আমাদের রয়েছে ২২৬টি শাখা, ৮৯টি উপশাখা এবং প্রায় ৭াটোটি এজেন্ট পয়েন্ট, যা বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু আর্থিক লেনদেন নয়, বরং মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আর্থিক স্বস্তি এনে দেওয়া এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। প্রশ্ন : গৃহবিনিয়োগ নিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে? উত্তর : আবাসন শুধু একটি কাঠামো নয়; এটি নিরাপত্তা, পরিবার ও জীবনের স্বপ্নের প্রতীক। মানুষের এই মৌলিক চাহিদা পূরণে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক চালু করেছে শরীয়াহ্ভিত্তিক গৃহ-বিনিয়োগ সেবা। মধ্যবিত্ত, প্রবাসী ও পরিশ্রমী চাকরিজীবীরা যেন সহজে ও নিরাপদে নিজের আবাসন গড়ে তুলতে পারেন& এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের কাছে গৃহ-বিনিয়োগ কেবল আর্থিক কার্যক্রম নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব। আমরা মনে করি, একটি স্থায়ী আশ্রয় প্রতিটি পরিবারের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও উন্নতির ভিত্তি। প্রশ্ন : সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত গৃহ-বিনিয়োগ দেওয়া হয়? উত্তর : আমরা গ্রাহকের আয়, কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য ও প্রকল্পের আকার অনুযায়ী অর্থায়ন করে থাকি। আমাদের স্কিমে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহ-বিনিয়োগ করা যায়। যেমন& একজন চাকরিজীবী তার স্বল্প আয় দিয়েও ছোট ফ্ল্যাট বা আবাসন করার জন্য বিনিয়োগ নিতে পারেন। আবার বৃহৎ পরিসরে নির্মাণ করতে আগ্রহী গ্রাহকের জন্যও আমাদের বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন ও স্বপ্নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমাধান দেওয়া। প্রশ্ন : গৃহ-বিনিয়োগে কত শতাংশ সুদ ধার্য করেন? উত্তর : ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল পার্থক্য এখানেই। আমরা কোনো সুদ ধার্য করি না, কারণ ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক সুদ হারাম। এর পরিবর্তে আমরা শরীয়াহ্সম্মত মুনাফার হার নির্ধারণ করি। চুক্তির সময়ই গ্রাহককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় তাকে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত হয়। গ্রাহক নিশ্চিন্ত থাকেন& তার বিনিয়োগে কোনো লুকানো চার্জ বা অনিশ্চয়তা নেই। এভাবে আমরা শুধু শরীয়াহভিত্তিক সমাধানই দিচ্ছি না, বরং মানুষকে দিচ্ছি আত্মিক প্রশান্তি। প্রশ্ন : বিনিয়োগ আবেদন করার সময় কোন কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়? উত্তর : প্রাথমিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণপত্র, আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনে আমরা অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারি। আমরা গ্রাহকের সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিই। এ জন্যই আমাদের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। প্রশ্ন : বিনিয়োগ অনুমোদন ও প্রসেস হতে কত সময় লাগে? উত্তর : প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই গৃহ-বিনিয়োগ অনুমোদন সম্পন্ন হয়। তবে কাগজপত্র যাচাই, সম্পত্তির মূল্যায়ন এবং আইনি পর্যালোচনার ওপর সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য সবসময়& গ্রাহকের স্বপ্নকে দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা। প্রশ্ন : বিনিয়োগ গ্রহীতার যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়? উত্তর : আমরা শুধু ডকুমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিই না; বরং গ্রাহকের সার্বিক আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করি। এর মধ্যে থাকে আয়-উৎসের স্থায়িত্ব, চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণ, কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা এবং পূর্ববর্তী আর্থিক আচরণ। আমাদের উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত হওয়া যে, গ্রাহক তার গৃহ-বিনিয়োগের দায়বদ্ধতা সহজে ও নিশ্চিন্তে বহন করতে পারেন। প্রশ্ন : চাকরিজীবী না ব্যবসায়ী& কে বেশি গৃহ-বিনিয়োগ পান? উত্তর : উভয় শ্রেণিই আমাদের কাছে সমানভাবে যোগ্য। চাকরিজীবীদের নিয়মিত আয়ের কারণে প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হয়। আবার ব্যবসায়ী যদি তার আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা প্রমাণ করতে পারেন, তবে তিনি উচ্চ অঙ্কের বিনিয়োগও পেতে পারেন। আমরা মূলত গ্রাহকের সক্ষমতা ও সততাকেই অগ্রাধিকার দিই। প্রশ্ন : কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে গৃহ-বিনিয়োগের চাহিদায় কি পরিবর্তন এসেছে? উত্তর : মহামারি মানুষের জীবনধারা ও অগ্রাধিকারে বড় পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন নিরাপদ, স্থায়ী ও নিজস্ব আবাসনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম তাদের কর্মজীবনের প্রারম্ভেই নিজের আবাসনের মালিক হতে আগ্রহী। আমরা এই নতুন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নমনীয় ও সহজ শর্তে গৃহ-বিনিয়োগ স্কিম চালু করেছি। প্রশ্ন : তরুণদের মধ্যে গৃহ-বিনিয়োগ নেওয়ার প্রবণতা কেমন? উত্তর : তরুণ প্রজন্ম আজ আরও সচেতন ও দূরদর্শী। তারা মনে করে, জীবনের শুরুতেই আবাসন নির্মাণ মানে নিরাপত্তা, সম্মান ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। আমাদের ব্যাংক এই তরুণদের আর্থিক সামর্থ্যরে সাথে সামঞ্জস্য রেখে নমনীয় শরীয়াহভিত্তিক প্যাকেজ প্রদান করছে। প্রশ্ন : বর্তমানে মানুষ কী ধরনের বাড়ি বেশি কিনছেন& সাধারণ না প্রিমিয়াম? উত্তর : বাংলাদেশের আবাসন বাজারে মূল চালিকাশক্তি হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণি। তাই বর্তমানে সাধারণ ও মাঝারি মানের ফ্ল্যাটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। তবে উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের মধ্যেও প্রিমিয়াম ফ্ল্যাটের চাহিদা রয়েছে। আমরা উভয় ক্ষেত্রেই শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করছি। প্রশ্ন : আপনারা কি নতুন কোনো গৃহ-বিনিয়োগ কর্মসূচি চালু করেছেন? করলে তা কতটা সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য? উত্তর : হ্যাঁ, আমরা সম্প্রতি এইচএইচজি সেমি পাকা বিনিয়োগ চালু করেছি, যা বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা স্বল্প খরচে ও দীর্ঘ মেয়াদে নিজের আবাসন গড়ে তুলতে পারছেন। প্রশ্ন : প্রথমবার গৃহ-বিনিয়োগ নিতে আসা গ্রাহকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী? উত্তর : প্রথমবার গৃহ-বিনিয়োগ নেওয়ার আগে গ্রাহকের উচিত& নিজের আর্থিক সামর্থ্য ভালোভাবে যাচাই করা, প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা, শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক বেছে নেওয়া, মুনাফার হার, কিস্তির সময়কাল ও শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া। প্রয়োজনে আমাদের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি পরামর্শ করলে তারা সর্বোচ্চ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। প্রশ্ন : অন্যান্য ব্যাংকও তো গৃহ-বিনিয়োগ দিচ্ছে। প্রতিযোগিতায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বিশেষত্ব কী? উত্তর : আমাদের বিশেষত্ব হলো& সুদমুক্ত ও শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ ব্যবস্থা, গ্রাহকের সাথে ন্যায্য ও স্বচ্ছ লেনদেন, দ্রুততম প্রসেসিং ও সহজ ডকুমেন্টেশন, প্রতিযোগিতামূলক মুনাফার হার এবং সর্বোপরি গ্রাহকের আস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। আমরা শুধু অর্থায়ন করি না, বরং গ্রাহকের স্বপ্ন পূরণের সাথী হয়ে উঠতে চাই। প্রশ্ন : ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে আপনারা কী ব্যবস্থা রেখেছেন? উত্তর : আমাদের ব্যাংক দেশব্যাপী বিস্তৃত। ঢাকা ও বড় শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আমাদের শাখা, সাব-ব্রাঞ্চ ও এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক গৃহ-বিনিয়োগ সুবিধা পাচ্ছেন। আমাদের এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস এম আবু জাফর, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

আমাদের লক্ষ্য গ্রাহকের স্বপ্নকে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা

Update Time : 02:06:27 am, Friday, 31 July 2026

প্রশ্ন : আপনার প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু বলুন। উত্তর : আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সুদমুক্ত, নৈতিক ও শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং প্রবর্তনের পবিত্র উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইসলামী অর্থনীতি সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার অন্যতম পথ। বর্তমানে আমাদের রয়েছে ২২৬টি শাখা, ৮৯টি উপশাখা এবং প্রায় ৭াটোটি এজেন্ট পয়েন্ট, যা বাংলাদেশের শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু আর্থিক লেনদেন নয়, বরং মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আর্থিক স্বস্তি এনে দেওয়া এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা। প্রশ্ন : গৃহবিনিয়োগ নিয়ে আপনার প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে? উত্তর : আবাসন শুধু একটি কাঠামো নয়; এটি নিরাপত্তা, পরিবার ও জীবনের স্বপ্নের প্রতীক। মানুষের এই মৌলিক চাহিদা পূরণে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক চালু করেছে শরীয়াহ্ভিত্তিক গৃহ-বিনিয়োগ সেবা। মধ্যবিত্ত, প্রবাসী ও পরিশ্রমী চাকরিজীবীরা যেন সহজে ও নিরাপদে নিজের আবাসন গড়ে তুলতে পারেন& এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমাদের কাছে গৃহ-বিনিয়োগ কেবল আর্থিক কার্যক্রম নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব। আমরা মনে করি, একটি স্থায়ী আশ্রয় প্রতিটি পরিবারের স্থিতিশীলতা, শান্তি ও উন্নতির ভিত্তি। প্রশ্ন : সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত গৃহ-বিনিয়োগ দেওয়া হয়? উত্তর : আমরা গ্রাহকের আয়, কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য ও প্রকল্পের আকার অনুযায়ী অর্থায়ন করে থাকি। আমাদের স্কিমে ন্যূনতম ৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত গৃহ-বিনিয়োগ করা যায়। যেমন& একজন চাকরিজীবী তার স্বল্প আয় দিয়েও ছোট ফ্ল্যাট বা আবাসন করার জন্য বিনিয়োগ নিতে পারেন। আবার বৃহৎ পরিসরে নির্মাণ করতে আগ্রহী গ্রাহকের জন্যও আমাদের বিনিয়োগ সুবিধা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন ও স্বপ্নের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সমাধান দেওয়া। প্রশ্ন : গৃহ-বিনিয়োগে কত শতাংশ সুদ ধার্য করেন? উত্তর : ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মূল পার্থক্য এখানেই। আমরা কোনো সুদ ধার্য করি না, কারণ ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক সুদ হারাম। এর পরিবর্তে আমরা শরীয়াহ্সম্মত মুনাফার হার নির্ধারণ করি। চুক্তির সময়ই গ্রাহককে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় তাকে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে। ফলে লেনদেনে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত হয়। গ্রাহক নিশ্চিন্ত থাকেন& তার বিনিয়োগে কোনো লুকানো চার্জ বা অনিশ্চয়তা নেই। এভাবে আমরা শুধু শরীয়াহভিত্তিক সমাধানই দিচ্ছি না, বরং মানুষকে দিচ্ছি আত্মিক প্রশান্তি। প্রশ্ন : বিনিয়োগ আবেদন করার সময় কোন কোন ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়? উত্তর : প্রাথমিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র, চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণপত্র, আয়-ব্যয়ের হিসাব, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনে আমরা অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারি। আমরা গ্রাহকের সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিই। এ জন্যই আমাদের কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। প্রশ্ন : বিনিয়োগ অনুমোদন ও প্রসেস হতে কত সময় লাগে? উত্তর : প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই গৃহ-বিনিয়োগ অনুমোদন সম্পন্ন হয়। তবে কাগজপত্র যাচাই, সম্পত্তির মূল্যায়ন এবং আইনি পর্যালোচনার ওপর সময় কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। আমাদের লক্ষ্য সবসময়& গ্রাহকের স্বপ্নকে দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা। প্রশ্ন : বিনিয়োগ গ্রহীতার যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়? উত্তর : আমরা শুধু ডকুমেন্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিই না; বরং গ্রাহকের সার্বিক আর্থিক অবস্থার মূল্যায়ন করি। এর মধ্যে থাকে আয়-উৎসের স্থায়িত্ব, চাকরি বা ব্যবসার প্রমাণ, কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা এবং পূর্ববর্তী আর্থিক আচরণ। আমাদের উদ্দেশ্য হলো নিশ্চিত হওয়া যে, গ্রাহক তার গৃহ-বিনিয়োগের দায়বদ্ধতা সহজে ও নিশ্চিন্তে বহন করতে পারেন। প্রশ্ন : চাকরিজীবী না ব্যবসায়ী& কে বেশি গৃহ-বিনিয়োগ পান? উত্তর : উভয় শ্রেণিই আমাদের কাছে সমানভাবে যোগ্য। চাকরিজীবীদের নিয়মিত আয়ের কারণে প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হয়। আবার ব্যবসায়ী যদি তার আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা প্রমাণ করতে পারেন, তবে তিনি উচ্চ অঙ্কের বিনিয়োগও পেতে পারেন। আমরা মূলত গ্রাহকের সক্ষমতা ও সততাকেই অগ্রাধিকার দিই। প্রশ্ন : কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে গৃহ-বিনিয়োগের চাহিদায় কি পরিবর্তন এসেছে? উত্তর : মহামারি মানুষের জীবনধারা ও অগ্রাধিকারে বড় পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন নিরাপদ, স্থায়ী ও নিজস্ব আবাসনের দিকে বেশি ঝুঁকছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্ম তাদের কর্মজীবনের প্রারম্ভেই নিজের আবাসনের মালিক হতে আগ্রহী। আমরা এই নতুন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নমনীয় ও সহজ শর্তে গৃহ-বিনিয়োগ স্কিম চালু করেছি। প্রশ্ন : তরুণদের মধ্যে গৃহ-বিনিয়োগ নেওয়ার প্রবণতা কেমন? উত্তর : তরুণ প্রজন্ম আজ আরও সচেতন ও দূরদর্শী। তারা মনে করে, জীবনের শুরুতেই আবাসন নির্মাণ মানে নিরাপত্তা, সম্মান ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। আমাদের ব্যাংক এই তরুণদের আর্থিক সামর্থ্যরে সাথে সামঞ্জস্য রেখে নমনীয় শরীয়াহভিত্তিক প্যাকেজ প্রদান করছে। প্রশ্ন : বর্তমানে মানুষ কী ধরনের বাড়ি বেশি কিনছেন& সাধারণ না প্রিমিয়াম? উত্তর : বাংলাদেশের আবাসন বাজারে মূল চালিকাশক্তি হলো মধ্যবিত্ত শ্রেণি। তাই বর্তমানে সাধারণ ও মাঝারি মানের ফ্ল্যাটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। তবে উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের মধ্যেও প্রিমিয়াম ফ্ল্যাটের চাহিদা রয়েছে। আমরা উভয় ক্ষেত্রেই শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করছি। প্রশ্ন : আপনারা কি নতুন কোনো গৃহ-বিনিয়োগ কর্মসূচি চালু করেছেন? করলে তা কতটা সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য? উত্তর : হ্যাঁ, আমরা সম্প্রতি এইচএইচজি সেমি পাকা বিনিয়োগ চালু করেছি, যা বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা স্বল্প খরচে ও দীর্ঘ মেয়াদে নিজের আবাসন গড়ে তুলতে পারছেন। প্রশ্ন : প্রথমবার গৃহ-বিনিয়োগ নিতে আসা গ্রাহকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী? উত্তর : প্রথমবার গৃহ-বিনিয়োগ নেওয়ার আগে গ্রাহকের উচিত& নিজের আর্থিক সামর্থ্য ভালোভাবে যাচাই করা, প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা, শরীয়াহভিত্তিক ব্যাংক বেছে নেওয়া, মুনাফার হার, কিস্তির সময়কাল ও শর্তগুলো ভালোভাবে বুঝে নেওয়া। প্রয়োজনে আমাদের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি পরামর্শ করলে তারা সর্বোচ্চ দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। প্রশ্ন : অন্যান্য ব্যাংকও তো গৃহ-বিনিয়োগ দিচ্ছে। প্রতিযোগিতায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বিশেষত্ব কী? উত্তর : আমাদের বিশেষত্ব হলো& সুদমুক্ত ও শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ ব্যবস্থা, গ্রাহকের সাথে ন্যায্য ও স্বচ্ছ লেনদেন, দ্রুততম প্রসেসিং ও সহজ ডকুমেন্টেশন, প্রতিযোগিতামূলক মুনাফার হার এবং সর্বোপরি গ্রাহকের আস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া। আমরা শুধু অর্থায়ন করি না, বরং গ্রাহকের স্বপ্ন পূরণের সাথী হয়ে উঠতে চাই। প্রশ্ন : ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে আপনারা কী ব্যবস্থা রেখেছেন? উত্তর : আমাদের ব্যাংক দেশব্যাপী বিস্তৃত। ঢাকা ও বড় শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও আমাদের শাখা, সাব-ব্রাঞ্চ ও এজেন্ট পয়েন্টের মাধ্যমে শরীয়াহভিত্তিক গৃহ-বিনিয়োগ সুবিধা পাচ্ছেন। আমাদের এই সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস এম আবু জাফর, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।