আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:30:54 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 11

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর (শনিবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। ছাত্রকল্যাণবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাছেত মিয়া, গবেষণাবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

পরে দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন পরিচালক, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, নতুন ছাত্র হলের প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। ’ তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও সেক্টর কমান্ডার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমতা কখনোই মুখ্য ছিল না। বরং ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তির মধ্য দিয়ে মুক্তিলাভের পর জনগণের অর্পিত দায়িত্বকে তিনি দেশসেবার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

তাঁর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। উপাচার্য আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দেশ গড়ার স্বপ্ন, আদর্শ, জনকল্যাণের অঙ্গীকার এবং অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়নে তাঁদের উত্তরসূরি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর সরকারের খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষক কার্ড প্রবর্তন ও কৃষি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি দেশের অর্থনীতি এবং গ্রামীণ জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ‘এখন সময় এসেছে দেশ গড়ার’—এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপাচার্য বলেন, একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সফল করতে দল-মতনির্বিশেষে সবার আন্তরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তির সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জ্ঞান, মেধা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে চারটি শ্রেণিতে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য। ছাত্রকল্যাণবিষয়ক পরিচালক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ: ডিএমপি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

Update Time : 02:30:54 pm, Sunday, 8 November 2026

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ৭ নভেম্বর (শনিবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। ছাত্রকল্যাণবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা ও উন্নয়নবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল বাছেত মিয়া, গবেষণাবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রেজিস্ট্রার মো. আবদুল্লাহ মৃধা, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

পরে দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও জাতীয় জীবনে এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন পরিচালক, প্রক্টর, রেজিস্ট্রার, নতুন ছাত্র হলের প্রভোস্ট, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। ’ তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও সেক্টর কমান্ডার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে ক্ষমতা কখনোই মুখ্য ছিল না। বরং ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ শক্তির মধ্য দিয়ে মুক্তিলাভের পর জনগণের অর্পিত দায়িত্বকে তিনি দেশসেবার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

তাঁর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা। উপাচার্য আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার দেশ গড়ার স্বপ্ন, আদর্শ, জনকল্যাণের অঙ্গীকার এবং অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়নে তাঁদের উত্তরসূরি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর সরকারের খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, কৃষক কার্ড প্রবর্তন ও কৃষি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি দেশের অর্থনীতি এবং গ্রামীণ জীবনমানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ‘এখন সময় এসেছে দেশ গড়ার’—এ প্রত্যয় ব্যক্ত করে উপাচার্য বলেন, একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সফল করতে দল-মতনির্বিশেষে সবার আন্তরিক সহযোগিতা, নিষ্ঠা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তিনি বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তির সংগ্রামের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জ্ঞান, মেধা, সততা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আলোচনা সভা শেষে দিবসটি উপলক্ষে চারটি শ্রেণিতে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপাচার্য। ছাত্রকল্যাণবিষয়ক পরিচালক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।