আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

বাকেরগঞ্জে জমি বিরোধে হামলার ৯ দিন পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন আনোয়ারের মৃত্যু

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:41:40 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 9

বাকেরগঞ্জে জমি বিরোধে হামলার ৯ দিন পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন আনোয়ারের মৃত্যু

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হওয়ার নয় দিন পর মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হোসেনের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মঞ্জু হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি আনোয়ার নিজের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে মঞ্জু হাওলাদারের ছেলে নাসিম হাওলাদার ও দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার এতে বাধা দেন।

এ বিরোধের জের ধরেই তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি স্বজনদের। নিহতের ছেলে আসিফ হাওলাদার ও মেয়ে নুপুর আক্তার জানান, গত ২৯ অক্টোবর রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাদের বাবা। পথে চাচাতো ভাই নাসিম হাওলাদারের নেতৃত্বে সোহেল হাওলাদার, সমীর হাওলাদার ও নয়ন খানসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

তাদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাগ্নে মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার মামাকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

হামলায় তার মাথার খুলি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসার প্রয়োজনে খুলির অংশ খুলে সংরক্ষণ করা হয়। জটিল অস্ত্রোপচারের পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

বরিশালের পুলিশ সুপার এজেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে। হামলার ঘটনার নয় দিন আগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ: ডিএমপি

বাকেরগঞ্জে জমি বিরোধে হামলার ৯ দিন পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন আনোয়ারের মৃত্যু

Update Time : 02:41:40 pm, Sunday, 8 November 2026

বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার শিকার হওয়ার নয় দিন পর মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার (৫২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। নিহত আনোয়ার হোসেন উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, জমিজমা নিয়ে আনোয়ার হোসেনের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মঞ্জু হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি আনোয়ার নিজের জমিতে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলে মঞ্জু হাওলাদারের ছেলে নাসিম হাওলাদার ও দেলোয়ার হাওলাদারের ছেলে সোহেল হাওলাদার এতে বাধা দেন।

এ বিরোধের জের ধরেই তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে দাবি স্বজনদের। নিহতের ছেলে আসিফ হাওলাদার ও মেয়ে নুপুর আক্তার জানান, গত ২৯ অক্টোবর রাতে এশার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তাদের বাবা। পথে চাচাতো ভাই নাসিম হাওলাদারের নেতৃত্বে সোহেল হাওলাদার, সমীর হাওলাদার ও নয়ন খানসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে মাথায় কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

তাদের চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আনোয়ারকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার তার মৃত্যু হয়। নিহতের ভাগ্নে মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার মামাকে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

হামলায় তার মাথার খুলি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসার প্রয়োজনে খুলির অংশ খুলে সংরক্ষণ করা হয়। জটিল অস্ত্রোপচারের পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।

বরিশালের পুলিশ সুপার এজেড এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন নামে একজনের মৃত্যুর খবর তিনি শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে। হামলার ঘটনার নয় দিন আগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।