কক্সবাজারে দিনদুপুরে চলন্ত গাড়ির গতিরোধ করে মাহমুদুল হক নামে এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দূপুরের পর সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়ার রশিদ মেম্বারের গ্যাস পাম্প ও সরকারি শিশু পরিবারের সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন৷ ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুপুরে ব্যক্তিগত নোয়া গাড়ি নিয়ে রামুর দিকে যাচ্ছিলেন মাহমুদুল হক। খরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা ছয়জন সশস্ত্র ব্যক্তি তার গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
এতে তার পিঠ, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মাহমুদুল হক লিংকরোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শহরের হাশেমিয়া মাদ্রাসা এলাকায় বসবাস করছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে এ হামলা চালানো হয়েছে।
লিংকরোড এলাকার এক বিএনপি নেতার সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওই নেতার হুমকি ও অত্যাচারে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাহমুদুল হকের অভিযোগ, বিএনপি নেতার ভাই জায়েদ, কিতাব আলী, ওয়াজেদ আলী এবং তাদের সহযোগী আবু নাছেরসহ ছয়জন পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।
হামলার পর স্থানীয়রা একজন হামলাকারীকে আটক করলেও স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা তাকে ছাড়িয়ে পালাতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ। তিনি বলেন, হামলার সঙ্গে তার বা তার সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ঘটনার সময় তিনি অন্য একটি স্থানে মসজিদের বৈঠকে ছিলেন। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে প্রকৃত ঘটনা এবং তার নির্দোষ থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। হামলার কারণ অনুসন্ধান ও অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল।
ওই ঘটনায়ও একই বিএনপি নেতার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।





















