ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন সড়ক ও অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেগুলোর উন্নয়নের ফলে সর্বাধিক মানুষ উপকৃত হবেন।
এ জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সবচেয়ে ভালো জানেন। কোথায় সড়ক সংস্কার প্রয়োজন, কোথায় নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে, কোন এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই কিংবা কোন অবকাঠামোর অভাবে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন—এসব বিষয় স্থানীয় পর্যায় থেকেই চিহ্নিত করতে হবে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রেস্ট হাউজে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই উন্নয়নের সুফল যেন সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়। এমন কোনো সড়ক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সড়ক ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের তালিকা তৈরি করবেন। সেই তালিকা আমার কাছে দিলে আমি তা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে পাঠাব এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করব।
১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ বাকি সড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় সড়কবাতির প্রয়োজন রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে আলোকায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজের তথ্যও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরের বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক, নালা-নর্দমা ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগে ছিলেন, সেসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছি না, প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছেন কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জনগণের প্রয়োজন ও স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে উন্নয়নকাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডেও ইতোমধ্যে অনেকগুলো সড়কের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। আরও বেশ কিছু কাজ চলমান রয়েছে এবং নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সভায় চসিকের প্রকৌশল বিভাগের তৈরি উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন দুই ওয়ার্ডে বিগত সময়ে সম্পন্ন, চলমান ও পরিকল্পনাধীন উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়। প্রশাসক বলেন, স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
কোন সড়কটির উন্নয়ন আগে হওয়া প্রয়োজন, কোথায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে কিংবা কোথায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি—এসব বিষয়ে এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা আমাদের পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত করতে সাহায্য করে। তাই আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি। কুলগাঁও বাস টার্মিনাল সম্পর্কে প্রশাসক বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে কুলগাঁও বাস টার্মিনাল উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
টার্মিনালটি চালু হলে এলাকার পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং গণপরিবহনসেবা আরও সুশৃঙ্খল করার পথ সুগম হবে। সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান প্রমুখ।
























