চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়ধসসহ বহুমাত্রিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারে প্রশিক্ষিত তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘আগাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণদের কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) এ সংলাপের আয়োজন করে। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রশিক্ষিত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারের কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাঁদের কার্যক্রমকে স্থানীয় সরকারের নিয়মিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি।
’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নিরাপদ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তোলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নগরবাসী ও তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনাক্ষী এবং ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরোয়ার, সিডিএর সাবেক প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহীনুল ইসলাম খান, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশিদুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, ফিরোজশাহ সিটি করপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, বানীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাঈন উদ্দিন, দৈনিক চাঁটগার বাণীর প্রধান সম্পাদক মো. ইউসুফ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রণব বল, ইপসার ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার ড. শামসুন্নাহার লোপা, পরিচালক (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট) নাছিম বানু, পরিচালক (অর্থ) পলাশ চৌধুরী এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) জাবেদ মিয়াদাঁদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইপসার পরিচালক (সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট) নাছিম বানু। প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন সেভ দ্য চিলড্রেনের জাবেদ মিয়াদাঁদ। ইপসার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও আরবান রেজিলিয়েন্স ফোকাল সানজিদা আক্তার।
স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন উম্মে হুমাইয়ারা সায়কা আবসার। মেট ক্লাবের কার্যক্রম তুলে ধরেন অনিকেত, মুনতাহিনা জয়া ও আফরা ইমরোজ। এ ছাড়া রিসার্চ ফেলোশিপের গবেষণালব্ধ ফলাফল ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন ইপসার মনিটরিং অফিসার এস এম শাহরিয়ার আলম। সংলাপে চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবক ডেটাবেজ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গুরুত্ব পায়।
এতে স্বেচ্ছাসেবকদের অবস্থান, যোগাযোগের তথ্য, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার বিবরণ সংরক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগের সময় দ্রুত তাঁদের শনাক্ত করে কাজে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি মেট ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও বাঁশখালী উপজেলার ১০৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে সনদ ও পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য, ইপসা সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায়, জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের (জিএফএফও) অর্থায়নে এবং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের (রাইমস) কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ‘চাইল্ড সেন্টারড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ফর বেটার প্রিপেয়ার্ডনেস অব কমিউনিটিস অ্যান্ড লোকাল ইনস্টিটিউশন ইন নর্দান অ্যান্ড কোস্টাল এরিয়াস অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বাঁশখালী উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে।





















