দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি কিংবা সংগঠনের বদনাম করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
তিনি বলেছেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অন্যায় করলে শুধু বক্তব্য দিয়ে দায়িত্ব শেষ করা হবে না। প্রয়োজনে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, বিএনপিকে ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও নেতিবাচক প্রচারণা বন্ধ করতে হলে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। দলের কোনো নেতা-কর্মী কিংবা পদধারী ব্যক্তি অন্যায় করলে তার দায় সংগঠন নেবে না।
ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ নগরীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদেরও এসব কাজে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন, নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে কেউ সংগঠনের ক্ষতি করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তিনি ও কমিটির সদস্যসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মিল্টন বলেন, কাউন্সিলর হতে আগ্রহী অনেকেই নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানাচ্ছেন। তবে এবার শুধু প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা থাকলেই হবে না, এলাকার মানুষের জন্য কে কতটা কাজ করেছেন, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে।
দলের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছেন এবং এলাকায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের কর্মকাণ্ড ও অতীত ভূমিকা মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, দলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড বিভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অতীতে যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা বা তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের এখন সরে দাঁড়ানো উচিত।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে এর দায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককেই নিতে হবে। নিজের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার কাছে তিন লাখ টাকা চাওয়ার অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।
অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তার কাছে কোনো কাজ চাননি এবং তিনি কাউকে কোনো কাজও দেননি। ওই অভিযোগের পক্ষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণ উপস্থাপন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।






















