প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রায় ১৯ বছর আগে বগুড়ায় নির্মাণ করা হয়েছিল চারটি গ্রোয়ার্স মার্কেট। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাজারগুলোর ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সম্প্রতি সেগুলোর সংস্কারকাজ শুরু হলেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও দায়সারা কাজের অভিযোগ উঠেছে। এতে সংস্কারকাজের মান ও সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং শাজাহানপুর উপজেলার দুবলাগাড়ী হাটের গ্রোয়ার্স মার্কেটে সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়।
ভবনগুলোর বিভিন্ন দেয়ালে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং বিমের নিচে ফাটলের চিহ্ন রয়েছে। কোথাও কোথাও প্রধান ফটকও ভেঙে গেছে। দুবলাগাড়ী মার্কেটে কর্মরত মিস্ত্রি বিপ্লব বলেন, মির্জাপুর, আরডিএ ও দুবলাগাড়ী—এই তিনটি মার্কেটের কাজ তাঁরা তিন লাখ টাকা চুক্তিতে নিয়েছেন। তবে ঠিকাদার তাঁদের দৈনিক মজুরি ঠিকমতো দেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে বিপ্লব বলেন, এতে কোনো সমস্যা হবে না। আমিনুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহারের বদলে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। কোথাও ইটের গুঁড়ামিশ্রিত খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরোনো ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যথাযথভাবে মেরামত না করে জোড়াতালি দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরডিএ ও মির্জাপুর এলাকার আবদুল মান্নানসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রায় ১৯ বছর পর ভবনগুলো সংস্কার করা হচ্ছে। এ সময় নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হলে ভবনগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে আবারও প্রশ্ন দেখা দেবে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যথাযথভাবে মেরামত না করে শুধু দৃশ্যমান অংশে প্রলেপ দেওয়া হলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উত্তর-পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের (এনসিডিপি) আওতায় ২০০৭-০৮ অর্থবছরে বগুড়ায় চারটি গ্রোয়ার্স মার্কেট নির্মাণ করা হয়।
এতে ব্যয় হয় প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পরিচালনায় প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০০৯ সালে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়। কৃষি বিপণন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ভবনগুলোতে বড় ধরনের সংস্কার করা হয়নি। ফলে ভবনগুলোর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খান এন্টারপ্রাইজ ভবনগুলোর সংস্কারকাজ করছে। কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজের দেখভাল করছেন সারওয়ার আলম। তবে কাজের দরপত্র ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে তা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও তথ্য দেওয়া হয়নি। সংস্কারকাজের মান, ব্যবহৃত উপকরণ ও স্থানীয়দের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা সারওয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়।
তবে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। বগুড়ার সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গ্রোয়ার্স মার্কেটগুলো পরিচালিত হয়ে আসছে। এর আগে ভবনগুলোতে সংস্কারকাজ করা হয়নি। সম্প্রতি সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। মো. মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, ‘এ কাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে বগুড়া কৃষি বিপণন বিভাগ।
কাজ তদারকির জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালট্যান্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি। কোনো অনিয়ম হলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘কাজটি যেন সঠিকভাবে হয়, সে চেষ্টা করছি। আমরা কাজ বুঝে নিয়ে তারপর কাজ সমাপ্ত করব।






















