আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৯%

বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করলেন তাসনুভা তিশা

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:39:12 am, Saturday, 17 October 2026
  • 16

বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করলেন তাসনুভা তিশা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ তাসনুভা তিশা। অভিনয়জীবনের শুরুটা পরিকল্পিত না হলেও নিজের অভিনয়দক্ষতায় ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের মনে। শিহাব শাহীন পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’-তে তুশি চরিত্রে অভিনয় করে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

চরিত্রের বৈচিত্র্য, গল্প নির্বাচনে সচেতনতা ও অভিনয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা দিয়ে নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি কাজের সুযোগ, নাটকের মান, ওটিটি ও চলচ্চিত্রে সম্ভাবনা, নারী শিল্পীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মজীবী মা হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিবুল ইসলাম আফ্রিদি- মুক্তি পেয়েছে ‘মায়ার শহর’। শহরে জীবনের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও টানাপোড়েনের গল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। আর মায়া জীবনের নানা কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আশাবাদী থাকতে জানে। আমিও ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিবাচক দিক খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি।

তাই এই জায়গাটিতে চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেয়েছি। আপনি বলেছেন, ভালো গল্প ও চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করেন, আবার পরিচালকদের কাছে নিজে থেকে কাজ চাওয়াটা আপনার স্বভাবে নেই। এই অবস্থান কী কখনো সুযোগ হারানোর কারণ হয়েছে? আমার নির্মাতাদের সঙ্গে দেখা হলে বলি, ‘ভাই কাজ করবেন না নাকি, ভুলে গেছেন? ’ তবে নিজে থেকে ফোন করে কাজ চাওয়া আমার স্বভাবে নেই।

ভালো নির্মাতাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো, কিন্তু ফোন করে কাজ চাওয়াটা আমার হয়ে ওঠে না। আমার বিশ্বাস, কোনো গল্পে আমাকে প্রয়োজন হলে নির্মাতারাই যোগাযোগ করবেন। এখন পর্যন্ত এ কারণে আমার কাজে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে আমি স্পষ্টবাদী, যা বলি সরাসরি বলি। আমার এই স্বভাব কাজের ক্ষেত্রে বেশ খারাপ প্রভাব ফেলছে। হয়তো এ কারণেই গত বছর বা তার আগের বছরের তুলনায় এখন আমার কাজের গতি অনেকটাই কমেছে।

এখন ইউটিউবের ভিউ, ট্রেন্ডিং ও দর্শকসংখ্যা বড় বিবেচ্য বিষয়। আপনার অভিজ্ঞতায়, এসব সূচক কী কখনো গল্প ও অভিনয়ের মানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়? আমার কাছে গল্পের মান ও সংলাপই আসল। ভাইরাল হওয়া বা ট্রেন্ডিংয়ের জন্য এমন কিছু কখনো করব না, কেউ আমাকে দিয়েও করাতে পারবে না। তবে দর্শকসংখ্যা বাড়া অবশ্যই ভালো দিক। এখন মানুষ ছোট ছোট ভিডিও দেখতে দেখতে নাটকও খুঁজে দেখছেন।

যারা নি¤œমানের নাটক নির্মাণ করেন, তারা চাইলে আরও মানসম্মত কাজ করতে পারেন। এতে ভালো নাটকের সংখ্যাও বাড়বে। ওটিটিতে একটি চরিত্রকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, নাটকে সময় ও নির্মাণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে কোন মাধ্যমে নিজের সামর্থ্য বেশি প্রকাশ করতে পারেন? আমার কাছে ওটিটি, টেলিভিশন কিংবা ইউটিউব, সব মাধ্যমেই অভিনয়ের প্রচেষ্টা একই থাকে।

তবে ওটিটিতে বাজেট বেশি থাকায় মহড়া, দৃশ্যধারণের আগে চরিত্রের সাজসজ্জা যাচাইসহ বিভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, নাটকে কম বাজেট ও স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজ করতে হয়। আমি সব মাধ্যমেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে আমার কাছে ভালো গল্প, চিত্রনাট্য, দক্ষ নির্মাতা, সহশিল্পী এবং পেশাদার একটি দল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং আর্থিক বিষয়েও স্বচ্ছতা থাকতে হবে।

সিনেমায় কাজ করার ক্ষেত্রে বলেছেন, শুধু বড় পর্দায় অভিনয় করার জন্য কাজ করতে চান না; গল্প ও পুরো আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিনেত্রী হিসেবে কোন ধরনের চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পেলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন? এখন অনেক সুন্দর সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। আমি অবশ্যই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। নিজেকে খুব গ্ল্যামারাস মনে না করলেও, প্রয়োজনে সেইভাবেও নিজেকে উপস্থাপন করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

আমাদের চলচ্চিত্রে প্রযুক্তিগতভাবেও অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত নায়কদের সঙ্গে ভালো কোনো বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পেলে আমি অবশ্যই আগ্রহী। তবে শুধু সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সিনেমা করতে চাই না। একটি চলচ্চিত্রে কাজ করলে সেটি যেন ভালোভাবে করতে পারি, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নাটক এবং ওটিটিতে নারী চরিত্র কী এখন আগের তুলনায় বেশি স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে?

নাকি এখনো নারীকে মূলত প্রেমের গল্পের কেন্দ্রেই আটকে রাখা হয়? আমি অনেক আগে থেকেই প্রেমের গল্পের বাইরে বিভিন্ন ধরনের নাটকে কাজ করেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু গল্প খুব সুন্দর ও পরিবার নিয়ে দেখার মতো হলেও সেগুলো তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। এখন দর্শকরা দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে হাস্যরসাত্মক ও রোমান্টিক-কমেডি ধরনের নাটক বেশি পছন্দ করেন।

নারী চরিত্রকে শুধু প্রেমের গল্পে আটকে রাখা হয়েছে বলে মনে করি না। তবে আমাদেরসহ বিশ্বের অধিকাংশ চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্প এখনো নায়ককেন্দ্রিক। প্রতিষ্ঠিত নায়কেরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই এই অবস্থানে এসেছেন। বাস্তবতা হিসেবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখি, এতে আমার কোনো খারাপ লাগা নেই। একজন নারী অভিনেত্রীকে অভিনয়ের পাশাপাশি চেহারা, পোশাক, বয়স, ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে নিয়মিত মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়।

আপনার অভিজ্ঞতায়, এই বাড়তি নজরদারি কী একজন শিল্পীর কাজকে প্রভাবিত করে? আমি ব্যক্তিগত জীবন, বয়স ও চেহারা নিয়ে বরাবরই স্বচ্ছ। দর্শকদের শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে বিনোদন সাংবাদিকদের উচিত ব্যক্তিগত জীবনের নেতিবাচক বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন না করা। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সন্তান কিংবা শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করা নেতিবাচক প্রবণতা।

পেশাগত কোনো অনিয়মের খবর প্রকাশ করা এক বিষয়, আর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানানো আরেক বিষয়। শিল্পী ও বিনোদন সাংবাদিকেরা একই দলের অংশ। তাই সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যেন শিল্পীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নেতিবাচক ও অসম্মানজনক প্রচারণা বন্ধ হয়। শুটিংয়ের ব্যস্ততা ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা কতটা কঠিন?

কর্মজীবী মায়েদের প্রতি আমাদের সমাজের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে কী ধরনের ব্যবধান দেখেন? শুটিং ও সংসার একসঙ্গে সামলানো কঠিন। একজন কর্মজীবী মা হিসেবে সবসময় সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার অপরাধবোধ কাজ করে। কাজের কারণে অনেক সময় সন্তানদের জন্মদিন, অসুস্থতার সময় কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানেও পাশে থাকতে পারি না। কিন্তু অভিনয় আমার পেশা।

আগে থেকেই শুটিংয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকে, তাই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হয়। এভাবেই অপরাধবোধ নিয়ে কাজ ও সংসার সামলে চলতে হয়। আমার মনে হয়, কর্মজীবী মায়েরা এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায় আসার পরিকল্পনা আছে? অবশ্যই, পরিচালনার ইচ্ছা আমার আছে। নাটক কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের কাজ নির্মাণে নির্দেশনা দিতে চাই।

তবে সেটা তখনই, যখন আর অভিনয় করব না। ‘আগস্ট ১৪’ গল্পটি প্রকাশের পর বেশ প্রশংসিত হয়েছিল, আর এই কাজের মধ্যদিয়ে আপনার অভিনয়ের একটি ভিন্ন দিকও দর্শকের সামনে এসেছে। সেখানে একটি সাহসী দৃশ্যেও দেখা গেছে। অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রের জন্য কোনো খারাপ লাগা এখন কাজ করে নাকি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন? ‘আগস্ট ১৪’ আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ।

এখনো এই কাজের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পাই, নেতিবাচক মন্তব্য নয়। কাজটি নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই, বরং আমি খুবই আনন্দিত। অনেকেই আমাকে কাজটি না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধান্তে কাজটি করেছি। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি খুশি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মানিকগঞ্জে বেশি দামে সার বিক্রি করায় ডিলারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা

বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজের আগ্রহ প্রকাশ করলেন তাসনুভা তিশা

Update Time : 01:39:12 am, Saturday, 17 October 2026

ছোট পর্দার পরিচিত মুখ তাসনুভা তিশা। অভিনয়জীবনের শুরুটা পরিকল্পিত না হলেও নিজের অভিনয়দক্ষতায় ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন দর্শকের মনে। শিহাব শাহীন পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘আগস্ট ১৪’-তে তুশি চরিত্রে অভিনয় করে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

চরিত্রের বৈচিত্র্য, গল্প নির্বাচনে সচেতনতা ও অভিনয়ের প্রতি দায়বদ্ধতা দিয়ে নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি কাজের সুযোগ, নাটকের মান, ওটিটি ও চলচ্চিত্রে সম্ভাবনা, নারী শিল্পীদের প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং কর্মজীবী মা হিসেবে ব্যক্তিগত জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিবুল ইসলাম আফ্রিদি- মুক্তি পেয়েছে ‘মায়ার শহর’। শহরে জীবনের সম্পর্ক, ভালোবাসা ও টানাপোড়েনের গল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? কাজের অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল। আর মায়া জীবনের নানা কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও আশাবাদী থাকতে জানে। আমিও ব্যক্তিগত জীবনে প্রতিকূলতার মধ্যেও ইতিবাচক দিক খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি।

তাই এই জায়গাটিতে চরিত্রটির সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেয়েছি। আপনি বলেছেন, ভালো গল্প ও চরিত্রের জন্য অপেক্ষা করেন, আবার পরিচালকদের কাছে নিজে থেকে কাজ চাওয়াটা আপনার স্বভাবে নেই। এই অবস্থান কী কখনো সুযোগ হারানোর কারণ হয়েছে? আমার নির্মাতাদের সঙ্গে দেখা হলে বলি, ‘ভাই কাজ করবেন না নাকি, ভুলে গেছেন? ’ তবে নিজে থেকে ফোন করে কাজ চাওয়া আমার স্বভাবে নেই।

ভালো নির্মাতাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো, কিন্তু ফোন করে কাজ চাওয়াটা আমার হয়ে ওঠে না। আমার বিশ্বাস, কোনো গল্পে আমাকে প্রয়োজন হলে নির্মাতারাই যোগাযোগ করবেন। এখন পর্যন্ত এ কারণে আমার কাজে তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে আমি স্পষ্টবাদী, যা বলি সরাসরি বলি। আমার এই স্বভাব কাজের ক্ষেত্রে বেশ খারাপ প্রভাব ফেলছে। হয়তো এ কারণেই গত বছর বা তার আগের বছরের তুলনায় এখন আমার কাজের গতি অনেকটাই কমেছে।

এখন ইউটিউবের ভিউ, ট্রেন্ডিং ও দর্শকসংখ্যা বড় বিবেচ্য বিষয়। আপনার অভিজ্ঞতায়, এসব সূচক কী কখনো গল্প ও অভিনয়ের মানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়? আমার কাছে গল্পের মান ও সংলাপই আসল। ভাইরাল হওয়া বা ট্রেন্ডিংয়ের জন্য এমন কিছু কখনো করব না, কেউ আমাকে দিয়েও করাতে পারবে না। তবে দর্শকসংখ্যা বাড়া অবশ্যই ভালো দিক। এখন মানুষ ছোট ছোট ভিডিও দেখতে দেখতে নাটকও খুঁজে দেখছেন।

যারা নি¤œমানের নাটক নির্মাণ করেন, তারা চাইলে আরও মানসম্মত কাজ করতে পারেন। এতে ভালো নাটকের সংখ্যাও বাড়বে। ওটিটিতে একটি চরিত্রকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, নাটকে সময় ও নির্মাণের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে কোন মাধ্যমে নিজের সামর্থ্য বেশি প্রকাশ করতে পারেন? আমার কাছে ওটিটি, টেলিভিশন কিংবা ইউটিউব, সব মাধ্যমেই অভিনয়ের প্রচেষ্টা একই থাকে।

তবে ওটিটিতে বাজেট বেশি থাকায় মহড়া, দৃশ্যধারণের আগে চরিত্রের সাজসজ্জা যাচাইসহ বিভিন্ন প্রস্তুতির সুযোগ থাকে। অন্যদিকে, নাটকে কম বাজেট ও স্বল্প সময়ের মধ্যে কাজ করতে হয়। আমি সব মাধ্যমেই কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে আমার কাছে ভালো গল্প, চিত্রনাট্য, দক্ষ নির্মাতা, সহশিল্পী এবং পেশাদার একটি দল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং আর্থিক বিষয়েও স্বচ্ছতা থাকতে হবে।

সিনেমায় কাজ করার ক্ষেত্রে বলেছেন, শুধু বড় পর্দায় অভিনয় করার জন্য কাজ করতে চান না; গল্প ও পুরো আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। একজন অভিনেত্রী হিসেবে কোন ধরনের চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পেলে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পারবেন? এখন অনেক সুন্দর সিনেমা নির্মিত হচ্ছে। আমি অবশ্যই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই। নিজেকে খুব গ্ল্যামারাস মনে না করলেও, প্রয়োজনে সেইভাবেও নিজেকে উপস্থাপন করতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

আমাদের চলচ্চিত্রে প্রযুক্তিগতভাবেও অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত নায়কদের সঙ্গে ভালো কোনো বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পেলে আমি অবশ্যই আগ্রহী। তবে শুধু সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সিনেমা করতে চাই না। একটি চলচ্চিত্রে কাজ করলে সেটি যেন ভালোভাবে করতে পারি, সেটাই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের নাটক এবং ওটিটিতে নারী চরিত্র কী এখন আগের তুলনায় বেশি স্বাধীন, বহুমাত্রিক ও বাস্তবসম্মত হয়ে উঠছে?

নাকি এখনো নারীকে মূলত প্রেমের গল্পের কেন্দ্রেই আটকে রাখা হয়? আমি অনেক আগে থেকেই প্রেমের গল্পের বাইরে বিভিন্ন ধরনের নাটকে কাজ করেছি। এর মধ্যে বেশ কিছু গল্প খুব সুন্দর ও পরিবার নিয়ে দেখার মতো হলেও সেগুলো তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। এখন দর্শকরা দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে হাস্যরসাত্মক ও রোমান্টিক-কমেডি ধরনের নাটক বেশি পছন্দ করেন।

নারী চরিত্রকে শুধু প্রেমের গল্পে আটকে রাখা হয়েছে বলে মনে করি না। তবে আমাদেরসহ বিশ্বের অধিকাংশ চলচ্চিত্র ও নাট্যশিল্প এখনো নায়ককেন্দ্রিক। প্রতিষ্ঠিত নায়কেরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই এই অবস্থানে এসেছেন। বাস্তবতা হিসেবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই দেখি, এতে আমার কোনো খারাপ লাগা নেই। একজন নারী অভিনেত্রীকে অভিনয়ের পাশাপাশি চেহারা, পোশাক, বয়স, ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়ে নিয়মিত মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়।

আপনার অভিজ্ঞতায়, এই বাড়তি নজরদারি কী একজন শিল্পীর কাজকে প্রভাবিত করে? আমি ব্যক্তিগত জীবন, বয়স ও চেহারা নিয়ে বরাবরই স্বচ্ছ। দর্শকদের শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকাটা স্বাভাবিক। তবে বিনোদন সাংবাদিকদের উচিত ব্যক্তিগত জীবনের নেতিবাচক বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন না করা। বিয়ে, বিচ্ছেদ, সন্তান কিংবা শারীরিক গঠন নিয়ে কটাক্ষ করা নেতিবাচক প্রবণতা।

পেশাগত কোনো অনিয়মের খবর প্রকাশ করা এক বিষয়, আর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানানো আরেক বিষয়। শিল্পী ও বিনোদন সাংবাদিকেরা একই দলের অংশ। তাই সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যেন শিল্পীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে নেতিবাচক ও অসম্মানজনক প্রচারণা বন্ধ হয়। শুটিংয়ের ব্যস্ততা ও সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখা কতটা কঠিন?

কর্মজীবী মায়েদের প্রতি আমাদের সমাজের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে কী ধরনের ব্যবধান দেখেন? শুটিং ও সংসার একসঙ্গে সামলানো কঠিন। একজন কর্মজীবী মা হিসেবে সবসময় সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার অপরাধবোধ কাজ করে। কাজের কারণে অনেক সময় সন্তানদের জন্মদিন, অসুস্থতার সময় কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানেও পাশে থাকতে পারি না। কিন্তু অভিনয় আমার পেশা।

আগে থেকেই শুটিংয়ের তারিখ নির্ধারিত থাকে, তাই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হয়। এভাবেই অপরাধবোধ নিয়ে কাজ ও সংসার সামলে চলতে হয়। আমার মনে হয়, কর্মজীবী মায়েরা এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পাবেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনায় আসার পরিকল্পনা আছে? অবশ্যই, পরিচালনার ইচ্ছা আমার আছে। নাটক কিংবা অন্য যেকোনো ধরনের কাজ নির্মাণে নির্দেশনা দিতে চাই।

তবে সেটা তখনই, যখন আর অভিনয় করব না। ‘আগস্ট ১৪’ গল্পটি প্রকাশের পর বেশ প্রশংসিত হয়েছিল, আর এই কাজের মধ্যদিয়ে আপনার অভিনয়ের একটি ভিন্ন দিকও দর্শকের সামনে এসেছে। সেখানে একটি সাহসী দৃশ্যেও দেখা গেছে। অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রের জন্য কোনো খারাপ লাগা এখন কাজ করে নাকি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন? ‘আগস্ট ১৪’ আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ।

এখনো এই কাজের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে প্রশংসা পাই, নেতিবাচক মন্তব্য নয়। কাজটি নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই, বরং আমি খুবই আনন্দিত। অনেকেই আমাকে কাজটি না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি নিজের সিদ্ধান্তে কাজটি করেছি। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি খুশি।