যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা করছে দেশটি, যার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ১৩ জন মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হাসান।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক শতাব্দীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এটিই হবে প্রথম প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের পক্ষে কাজ করা আইনজীবী জন মিলস এ সিদ্ধান্তকে আধুনিক সময়ে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন।
একই সঙ্গে তিনি এর আইনি বৈধতা নিয়েও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখার সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। তার ভাষায়, ‘আমরা নিশ্চিত করব, মানুষ যেন এটি দেখতে পারে। এ ধরনের কাজের পরিণতি কতটা কঠোর হতে পারে, তা সবার বোঝা উচিত। ’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে পেন্টাগন জানায়, নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
এর মধ্য দিয়ে ছয় দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। রক্ষণশীল টেলিভিশন চ্যানেল রিয়েল আমেরিকাস ভয়েসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য সেনাদের একটি ফায়ারিং স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। তার মতে, এভাবেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত। হাসান শেষ কোনো ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কি না কিংবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, ‘এসব বিষয়ে কিছু যায় আসে না।
৩ ডিসেম্বর আমরা তাকে দেখব। ’ পেন্টাগনের এক মুখপাত্র গত সোমবার জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সুপারিশে সম্মতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে জনসমক্ষে আনার পরিকল্পনাকে ট্রাম্প সমর্থন করেন কি না, তা জানতে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চেয়েছে বিবিসি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বিশ্বের ১৭টি দেশে ২ হাজার ৭০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
তবে এর মধ্যে মাত্র দুটি দেশে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালে ইরানে প্রকাশ্যে ১১টি এবং আফগানিস্তানে ছয়টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কে এই নিদাল হাসান? নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ও পেশায় একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জন সেনাকে হত্যা করেন তিনি।
এ ঘটনায় আহত হন আরও ৩২ জন। হামলার সময় সেনারা বিভিন্ন স্থানে মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনার সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন হাসান। পরে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিচার চলাকালে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন হাসান। তিনি জানান, আফগানিস্তানসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে মার্কিন সেনাবাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি ওই সেনাদের হত্যা করেছিলেন।
২০১৩ সালের আগস্টে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মেজর নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।


























