আজ শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

স্পেনের গুহায় নিয়ান্ডারথালদের কাঠের তৈরি অস্ত্র ও পাত্রের সন্ধান, বদলে যাচ্ছে প্রাচীন ধারণা

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:02:44 pm, Friday, 9 October 2026
  • 13
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মানব ইতিহাসের প্রাচীন অধ্যায়ে নিয়ান্ডারথালদের জীবনযাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন মানুষের মনে এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, প্রাগৈতিহাসিক এই মানবদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কেবল পাথরের টুকরো বা হাতিয়ার তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

কিন্তু সম্প্রতি স্পেনের ক্যাটালোনিয়ায় অবস্থিত বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ‘আব্রিক রোমানি’-তে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গবেষণার এক ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে। এই গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে এমন চমকপ্রদ কিছু সত্য, যা প্রমাণ করে যে নিয়ান্ডারথালরা কেবল পাথর নয়, বরং কাঠের নিখুঁত কারুকার্য ও নানা ধরনের জটিল কাঠের আসবাবপত্র এবং অস্ত্র তৈরিতেও সমান পারদর্শী ছিলেন।

নিয়ান্ডারথালদের পরিচয় : নিয়ান্ডারথাল হলো আধুনিক মানুষের নিকটাত্মীয় এক বিলুপ্ত মানব প্রজাতি (উপপ্রজাতি), যারা আজ থেকে প্রায় ৪ লাখ বছর আগে ইউরোপ ও এশিয়ায় আবির্ভূত হয়ে প্রায় ৪ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ঠান্ডা পরিবেশে টিকে থাকার উপযোগী শক্তিশালী ও পেশীবহুল শরীর এবং আধুনিক মানুষের সমতুল্য বা বড় মস্তিষ্ক থাকা সত্ত্বেও তারা আগুন ব্যবহার, উন্নত হাতিয়ার তৈরি, জটিল সমাজ গঠন এবং প্রতীকী সংস্কৃতি চর্চায় দক্ষ ছিল।

আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাদের আন্তঃপ্রজনন ঘটায় বর্তমান সময়ের (আফ্রিকার বাইরের) মানব ডিএনএ-তে প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ রয়ে গেছে। পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কাঠের ইতিহাস : প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষকদের কাছে কাঠ নিয়ে কাজ করা এক অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এর মূল কারণ হলো, জৈব উপাদান হওয়ায় কাঠ খুব দ্রুত পচে যায় এবং হাজার হাজার বছর ধরে তা মাটির নিচে অবিকল অবস্থায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে।

তবে বার্সেলোনার ক্যালাপাদেস এলাকার আব্রিক রোমানি গুহাটি প্রকৃতির এক অপূর্ব নিয়মে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে। গুহাটির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (ট্রাভার্টিন) গঠিত হওয়ার কারণে গাছের কাঠ ও তার বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিসগুলো এক অবিশ্বাস্য উপায়ে সুরক্ষিত থেকে গেছে। যখন প্রাচীন কাঠের টুকরোগুলো পচে বা নষ্ট হয়ে যেত, ঠিক তার আগেই ট্রাভার্টিনের আস্তরণ সেই কাঠের নিখুঁত অবয়ব বা ছাঁচ ধরে রাখত।

ফলে হাজার বছর পর প্রত্নতাত্ত্বিকরা যখন কৌতূহলী চোখে মাটি খুঁড়েছেন, তখন তারা কেবল সাধারণ কাঠের অবশিষ্টাংশই পাননি, বরং পেয়েছেন নিখুঁত কারুকার্যখচিত বিভিন্ন উপকরণের ছাঁচ। কখনো কখনো এই ছাঁচগুলো এত নিখুঁত ও স্পষ্ট হয়েছে যে, আধুনিক মাইক্রোস্কোপের নিচে সেগুলোর ভেতরের হিস্টোলজিক্যাল বা কোষীয় বৈশিষ্ট্য পর্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রায় ৬০০টি কাঠের নিদর্শন : আইপিএইচইএস-সার্কা এর গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় প্রায় ৬ লাখ ২০০ থেকে ৪ লাখ বছর পুরনো প্রায় ৬০০টিরও বেশি কাঠের নিদর্শন ও সেগুলোর ছাঁচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মধ্য প্যালিওলিথিক যুগের গার্হস্থ্য ও সামাজিক পরিমণ্ডলে কাঠের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তার এক অভাবনীয় ও জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে এই গবেষণায়।

গবেষকরা জানান, এই বিশাল সংগ্রহশালায় দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বিভিন্ন সরঞ্জাম যেমন—গাছের বাকলের তৈরি বাটি (পাত্র), কাঠ দিয়ে তৈরি বিশেষ আকৃতির কাঠামো বা খিলান, মাটির গভীরে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ লাঠি, এবং নিখুঁতভাবে তৈরি শক্তিশালী শিকারী অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, নিয়ান্ডারথালরা কাঠ কাটার প্রযুক্তি, এর নমনীয়তা এবং কাঠামোগত উপযোগিতা সম্পর্কে অত্যন্ত ওয়াকিবহাল ছিলেন।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত কাতালান ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান প্যালিওকোলজি অ্যান্ড সোশ্যাল ইভোলিউশনের প্রত্নতাত্ত্বিক এবং গবেষণার সহ-লেখক এম. গেমা চাকোন বলেছেন, ‘খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন নিয়ান্ডারথালদের আমাদের চেয়ে কম জটিল বা আদিম হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তাদের আচরণ আধুনিক মানুষের অত্যন্ত কাছাকাছি ছিল।

’ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, গুহাটির ভেতর রান্নাঘর, শোবার জায়গা এবং অগ্নিকুণ্ডের নির্দিষ্ট বিন্যাস দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং পরিকল্পিত জীবনযাপন করত। গুহাটির বিভিন্ন অংশে আলাদা করা জোন বা এলাকা ইঙ্গিত দেয় যে তারা কাজের জায়গা এবং বিশ্রামের জায়গা আলাদা রাখতে জানত। ২.৪৫ মিটার দীর্ঘ শক্তিশালী ভল্ল : আব্রিক রোমানি গুহার ‘আর’ লেয়ার থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি বিশাল কাঠের ভল্ল (স্পিয়ার) এই গবেষণার অন্যতম আকর্ষণ।

এর মধ্যে একটি ভল্লের দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৪৫ মিটার (প্রায় ৮ ফুট)। এটি মূলত একটি শক্তিশালী পুশিং স্পিয়ার (ঠেলে আঘাত করার অস্ত্র) হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, যা খুব কাছ থেকে শিকার ধরার কাজে ব্যবহার করা হতো। অপর ভল্লটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৯৯ মিটার, যার অগ্রভাগটিও অত্যন্ত সুচালো এবং নিখুঁতভাবে খোদাই করা। বিশেষ করে এই অস্ত্রগুলোর পাশে হরিণের হাড়গোড়, অন্যান্য কাঠের টুকরো এবং আগুনের চুল্লির উপস্থিতি একই স্থানে নিয়ান্ডারথালদের বহুমুখী কার্যকলাপের প্রমাণ দেয়।

এর আগে ইউরোপের জার্মানিতে অবস্থিত শোনিংগেন এবং লেহরিংগেন এর মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে কিছু প্রাচীন কাঠের অস্ত্র পাওয়া গেলেও আব্রিক রোমানির এই নতুন আবিষ্কার সেই সীমিত তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ ও পোক্ত করল। এছাড়া এই একই সাইট থেকে এর আগে নিয়ান্ডারথালদের তৈরি হাড়ের তৈরি ভল্লের অগ্রভাগও আবিষ্কার করেছিলেন গবেষকরা, যা তাদের বহুমুখী কারুশিল্পের সাক্ষ্য দেয়।

আধুনিক প্রত্নতত্ত্বে রহস্যময় ‘হাতুড়ি’ : উদ্ধারকৃত শত শত নিদর্শনের মধ্যে একটি বিশেষ বস্তু গবেষকদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে এবং তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গুহাটির ‘পি’ লেয়ার থেকে উদ্ধার হওয়া এই অদ্ভুত অস্ত্র (হাতিয়ার), যেটি এক টুকরো কাঠ থেকেই নিখুঁতভাবে খোদাই করে বানানো হয়েছিল। এর এক প্রান্তে প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার লম্বা একটি সুনির্দিষ্ট হাতল রয়েছে এবং অন্য প্রান্তটি ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত ও তীক্ষ্ণ হয়ে একটি অনন্য আকার ধারণ করেছে, যা অনেকটা আধুনিক কালের হাতুড়ির (গদা) মতো দেখায়।

এই কাঠের তৈরি সরঞ্জামের গায়ে লম্বা লম্বি স্ক্র্যাপ করার (চেঁছে ফেলার দাগ) স্পষ্ট রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এটি প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যাওয়া কোনো ডাল নয়, বরং সচেতনভাবে মানুষের হাতে তৈরি একটি নিখুঁত হাতিয়ার। তবে প্রশ্ন উঠেছে এর সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিয়ে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, এটি হয়তো ভারী কোনো আঘাত হানার কাজে বা শিকারকে কাবু করার জন্য ব্যবহার করা হতো।

আবার নৃতাত্ত্বিক উপমা টেনে গবেষকরা এও বলছেন যে, এ ধরনের অনন্য শিল্পকর্ম কেবল ব্যবহারিক কাজেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; এর পেছনে কোনো গভীর সামাজিক, প্রতীকী বা সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও থাকতে পারে—যদিও এর সঠিক অর্থ উদ্ঘাটনের জন্য আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। এই বস্তুটির ব্যবহার সম্পর্কে ড. গেমা চাকোন বলেন, ‘এটি শিকারের কাজে ব্যবহার হতে পারে, অথবা হাড় ভাঙা কিংবা পাথর খোদাই করার জন্য হাতুড়ি বা ঘাতক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আমরা নিশ্চিতভাবে শুধু এটুকু জানি যে এটি কোনো প্রাকৃতিক আকৃতি নয়। ’ গার্হস্থ্য সংস্কৃতিতে কাঠের ভূমিকা : প্রচলিত ধারণায় নিয়ান্ডারথালদের জীবনযাপনকে অত্যন্ত পাশবিক, স্থূল ও পাথর-নির্ভর বলে মনে করা হতো। কিন্তু আব্রিক রোমানি গুহার এই গবেষণা সেই ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। গবেষক দলের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, প্যালিওলিথিক যুগের ডিনারে বা রান্নাঘরে কিংবা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে পাথরের পাশাপাশি কাঠের ব্যবহার ছিল সুদূরপ্রসারী।

খাবার সংরক্ষণ করা, গুহার ভেতরে বিভিন্ন অস্থায়ী কাঠামো বা বেড়া তৈরি করা, এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য ছোটখাটো পাত্র বা ট্রে তৈরি করা—সবকিছুতেই কাঠের আধিক্য ছিল। এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, প্রাগৈতিহাসিক মানবকুল কেবল বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়নি, বরং স্থানীয় পরিবেশের উপাদানগুলোকে কাজে লাগিয়ে তারা এক সমৃদ্ধ ‘কাঠের যুগ’ -এর সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল।

নিয়ান্ডারথালদের মস্তিষ্ক এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এই গবেষণা। প্রত্নতাত্ত্বিক মোড় পরিবর্তন : স্পেনের আব্রিক রোমানি গুহা থেকে প্রাপ্ত এই প্রায় ৬০০টি কাঠের নিদর্শনের যৌথ বিশ্লেষণ মানব বিবর্তন ও প্রাগৈতিহাসিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

এটি শুধু নিয়ান্ডারথালদের টিকে থাকার কৌশলকেই উন্মোচন করেনি, বরং আমাদের এই বার্তা দিয়েছে যে, প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে কেবল পাথর বা হাড়ের দিকে নজর দিলেই চলবে না; বরং যেসব জায়গায় অনুকূল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ রয়েছে, সেখানে জৈব উপাদান ও কাঠের ইতিহাস উদ্ধারে আরও বেশি জোর দেওয়া উচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের আরও গবেষণা প্রাচীন মানব সভ্যতার অজানা অনেক গোপন রহস্য বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে আসবে, যা আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে এক সম্পূর্ণ নতুন ও উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি দান করবে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মূল্যায়ন : এই আবিষ্কার প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতত্ত্বে এক নতুন বিপ্লব ঘটালেও এর সঙ্গে জড়িত গবেষকদের বেশ কিছু পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যানিমেক মিল্কস (এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন) বলেন, ‘আমাদের কাছে তাদের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ খুবই সীমিত।

এই আবিষ্কার আমাদের তাদের জীবনযাত্রার কল্পনা করতে সাহায্য করছে। ’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কাঠ পচে গিয়ে বালিতে কেবল ফাঁপা গহ্বর তৈরি করায় আধুনিক কাঠের মতো বিস্তারিত কাটার দাগ বা সূক্ষ্ম টেক্সচার সব সময় নিখুঁতভাবে পাওয়া যায় না। ১৯৯৫ সাল থেকেই গবেষকরা এই ফাঁপা জায়গাগুলোতে রজন ঢেলে নিখুঁত কাস্ট বা অবয়ব তৈরি করে আসছেন, যা তাদের কাজের পরিধি কিছুটা সহজ করেছে।

অন্যদিকে, লোয়ার স্যাক্সনি হেরিটেজ প্রোটেকশন অফিসের প্রত্নতাত্ত্বিক ডার্ক লেডার সংশয় প্রকাশ করে বলেন, কাঠের গায়ে পরিষ্কার কাটার দাগ বা স্পষ্ট প্রমাণের অনুপস্থিতিতে প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যাওয়া কাঠ আর মানুষের তৈরি হাতিয়ার আলাদা করা বেশ কঠিন কাজ। তবে তিনিও স্বীকার করেন, আব্রিক রোমানি গুহার আবিষ্কারগুলো প্রাগৈতিহাসিক গবেষণায় এক অনন্য মাইলফলক স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই রহস্যগুলো আরও ভালোভাবে উন্মোচন করা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ময়মনসিংহ মেডিকেলে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু

স্পেনের গুহায় নিয়ান্ডারথালদের কাঠের তৈরি অস্ত্র ও পাত্রের সন্ধান, বদলে যাচ্ছে প্রাচীন ধারণা

Update Time : 04:02:44 pm, Friday, 9 October 2026

মানব ইতিহাসের প্রাচীন অধ্যায়ে নিয়ান্ডারথালদের জীবনযাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতদিন মানুষের মনে এই ভ্রান্ত ধারণা ছিল যে, প্রাগৈতিহাসিক এই মানবদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কেবল পাথরের টুকরো বা হাতিয়ার তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

কিন্তু সম্প্রতি স্পেনের ক্যাটালোনিয়ায় অবস্থিত বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ‘আব্রিক রোমানি’-তে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গবেষণার এক ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান জার্নাল সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে। এই গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে এমন চমকপ্রদ কিছু সত্য, যা প্রমাণ করে যে নিয়ান্ডারথালরা কেবল পাথর নয়, বরং কাঠের নিখুঁত কারুকার্য ও নানা ধরনের জটিল কাঠের আসবাবপত্র এবং অস্ত্র তৈরিতেও সমান পারদর্শী ছিলেন।

নিয়ান্ডারথালদের পরিচয় : নিয়ান্ডারথাল হলো আধুনিক মানুষের নিকটাত্মীয় এক বিলুপ্ত মানব প্রজাতি (উপপ্রজাতি), যারা আজ থেকে প্রায় ৪ লাখ বছর আগে ইউরোপ ও এশিয়ায় আবির্ভূত হয়ে প্রায় ৪ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ঠান্ডা পরিবেশে টিকে থাকার উপযোগী শক্তিশালী ও পেশীবহুল শরীর এবং আধুনিক মানুষের সমতুল্য বা বড় মস্তিষ্ক থাকা সত্ত্বেও তারা আগুন ব্যবহার, উন্নত হাতিয়ার তৈরি, জটিল সমাজ গঠন এবং প্রতীকী সংস্কৃতি চর্চায় দক্ষ ছিল।

আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে তাদের আন্তঃপ্রজনন ঘটায় বর্তমান সময়ের (আফ্রিকার বাইরের) মানব ডিএনএ-তে প্রায় ১ থেকে ২ শতাংশ নিয়ান্ডারথাল ডিএনএ রয়ে গেছে। পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কাঠের ইতিহাস : প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষকদের কাছে কাঠ নিয়ে কাজ করা এক অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এর মূল কারণ হলো, জৈব উপাদান হওয়ায় কাঠ খুব দ্রুত পচে যায় এবং হাজার হাজার বছর ধরে তা মাটির নিচে অবিকল অবস্থায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব বললেই চলে।

তবে বার্সেলোনার ক্যালাপাদেস এলাকার আব্রিক রোমানি গুহাটি প্রকৃতির এক অপূর্ব নিয়মে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে। গুহাটির আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (ট্রাভার্টিন) গঠিত হওয়ার কারণে গাছের কাঠ ও তার বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিসগুলো এক অবিশ্বাস্য উপায়ে সুরক্ষিত থেকে গেছে। যখন প্রাচীন কাঠের টুকরোগুলো পচে বা নষ্ট হয়ে যেত, ঠিক তার আগেই ট্রাভার্টিনের আস্তরণ সেই কাঠের নিখুঁত অবয়ব বা ছাঁচ ধরে রাখত।

ফলে হাজার বছর পর প্রত্নতাত্ত্বিকরা যখন কৌতূহলী চোখে মাটি খুঁড়েছেন, তখন তারা কেবল সাধারণ কাঠের অবশিষ্টাংশই পাননি, বরং পেয়েছেন নিখুঁত কারুকার্যখচিত বিভিন্ন উপকরণের ছাঁচ। কখনো কখনো এই ছাঁচগুলো এত নিখুঁত ও স্পষ্ট হয়েছে যে, আধুনিক মাইক্রোস্কোপের নিচে সেগুলোর ভেতরের হিস্টোলজিক্যাল বা কোষীয় বৈশিষ্ট্য পর্যন্ত স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

প্রায় ৬০০টি কাঠের নিদর্শন : আইপিএইচইএস-সার্কা এর গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় প্রায় ৬ লাখ ২০০ থেকে ৪ লাখ বছর পুরনো প্রায় ৬০০টিরও বেশি কাঠের নিদর্শন ও সেগুলোর ছাঁচ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মধ্য প্যালিওলিথিক যুগের গার্হস্থ্য ও সামাজিক পরিমণ্ডলে কাঠের ঠিক কী ভূমিকা ছিল, তার এক অভাবনীয় ও জীবন্ত চিত্র ফুটে উঠেছে এই গবেষণায়।

গবেষকরা জানান, এই বিশাল সংগ্রহশালায় দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বিভিন্ন সরঞ্জাম যেমন—গাছের বাকলের তৈরি বাটি (পাত্র), কাঠ দিয়ে তৈরি বিশেষ আকৃতির কাঠামো বা খিলান, মাটির গভীরে খোঁড়াখুঁড়ির জন্য ব্যবহৃত বিশেষ লাঠি, এবং নিখুঁতভাবে তৈরি শক্তিশালী শিকারী অস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, নিয়ান্ডারথালরা কাঠ কাটার প্রযুক্তি, এর নমনীয়তা এবং কাঠামোগত উপযোগিতা সম্পর্কে অত্যন্ত ওয়াকিবহাল ছিলেন।

গবেষণার সঙ্গে যুক্ত কাতালান ইনস্টিটিউট অফ হিউম্যান প্যালিওকোলজি অ্যান্ড সোশ্যাল ইভোলিউশনের প্রত্নতাত্ত্বিক এবং গবেষণার সহ-লেখক এম. গেমা চাকোন বলেছেন, ‘খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন নিয়ান্ডারথালদের আমাদের চেয়ে কম জটিল বা আদিম হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তাদের আচরণ আধুনিক মানুষের অত্যন্ত কাছাকাছি ছিল।

’ তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, গুহাটির ভেতর রান্নাঘর, শোবার জায়গা এবং অগ্নিকুণ্ডের নির্দিষ্ট বিন্যাস দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় যে তারা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং পরিকল্পিত জীবনযাপন করত। গুহাটির বিভিন্ন অংশে আলাদা করা জোন বা এলাকা ইঙ্গিত দেয় যে তারা কাজের জায়গা এবং বিশ্রামের জায়গা আলাদা রাখতে জানত। ২.৪৫ মিটার দীর্ঘ শক্তিশালী ভল্ল : আব্রিক রোমানি গুহার ‘আর’ লেয়ার থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি বিশাল কাঠের ভল্ল (স্পিয়ার) এই গবেষণার অন্যতম আকর্ষণ।

এর মধ্যে একটি ভল্লের দৈর্ঘ্য প্রায় ২.৪৫ মিটার (প্রায় ৮ ফুট)। এটি মূলত একটি শক্তিশালী পুশিং স্পিয়ার (ঠেলে আঘাত করার অস্ত্র) হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল, যা খুব কাছ থেকে শিকার ধরার কাজে ব্যবহার করা হতো। অপর ভল্লটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৯৯ মিটার, যার অগ্রভাগটিও অত্যন্ত সুচালো এবং নিখুঁতভাবে খোদাই করা। বিশেষ করে এই অস্ত্রগুলোর পাশে হরিণের হাড়গোড়, অন্যান্য কাঠের টুকরো এবং আগুনের চুল্লির উপস্থিতি একই স্থানে নিয়ান্ডারথালদের বহুমুখী কার্যকলাপের প্রমাণ দেয়।

এর আগে ইউরোপের জার্মানিতে অবস্থিত শোনিংগেন এবং লেহরিংগেন এর মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে কিছু প্রাচীন কাঠের অস্ত্র পাওয়া গেলেও আব্রিক রোমানির এই নতুন আবিষ্কার সেই সীমিত তালিকাকে আরও সমৃদ্ধ ও পোক্ত করল। এছাড়া এই একই সাইট থেকে এর আগে নিয়ান্ডারথালদের তৈরি হাড়ের তৈরি ভল্লের অগ্রভাগও আবিষ্কার করেছিলেন গবেষকরা, যা তাদের বহুমুখী কারুশিল্পের সাক্ষ্য দেয়।

আধুনিক প্রত্নতত্ত্বে রহস্যময় ‘হাতুড়ি’ : উদ্ধারকৃত শত শত নিদর্শনের মধ্যে একটি বিশেষ বস্তু গবেষকদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে এবং তাক লাগিয়ে দিয়েছে। গুহাটির ‘পি’ লেয়ার থেকে উদ্ধার হওয়া এই অদ্ভুত অস্ত্র (হাতিয়ার), যেটি এক টুকরো কাঠ থেকেই নিখুঁতভাবে খোদাই করে বানানো হয়েছিল। এর এক প্রান্তে প্রায় ১৬ সেন্টিমিটার লম্বা একটি সুনির্দিষ্ট হাতল রয়েছে এবং অন্য প্রান্তটি ক্রমান্বয়ে প্রশস্ত ও তীক্ষ্ণ হয়ে একটি অনন্য আকার ধারণ করেছে, যা অনেকটা আধুনিক কালের হাতুড়ির (গদা) মতো দেখায়।

এই কাঠের তৈরি সরঞ্জামের গায়ে লম্বা লম্বি স্ক্র্যাপ করার (চেঁছে ফেলার দাগ) স্পষ্ট রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে এটি প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যাওয়া কোনো ডাল নয়, বরং সচেতনভাবে মানুষের হাতে তৈরি একটি নিখুঁত হাতিয়ার। তবে প্রশ্ন উঠেছে এর সুনির্দিষ্ট ব্যবহার নিয়ে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, এটি হয়তো ভারী কোনো আঘাত হানার কাজে বা শিকারকে কাবু করার জন্য ব্যবহার করা হতো।

আবার নৃতাত্ত্বিক উপমা টেনে গবেষকরা এও বলছেন যে, এ ধরনের অনন্য শিল্পকর্ম কেবল ব্যবহারিক কাজেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে; এর পেছনে কোনো গভীর সামাজিক, প্রতীকী বা সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও থাকতে পারে—যদিও এর সঠিক অর্থ উদ্ঘাটনের জন্য আরও গভীর গবেষণা প্রয়োজন। এই বস্তুটির ব্যবহার সম্পর্কে ড. গেমা চাকোন বলেন, ‘এটি শিকারের কাজে ব্যবহার হতে পারে, অথবা হাড় ভাঙা কিংবা পাথর খোদাই করার জন্য হাতুড়ি বা ঘাতক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

আমরা নিশ্চিতভাবে শুধু এটুকু জানি যে এটি কোনো প্রাকৃতিক আকৃতি নয়। ’ গার্হস্থ্য সংস্কৃতিতে কাঠের ভূমিকা : প্রচলিত ধারণায় নিয়ান্ডারথালদের জীবনযাপনকে অত্যন্ত পাশবিক, স্থূল ও পাথর-নির্ভর বলে মনে করা হতো। কিন্তু আব্রিক রোমানি গুহার এই গবেষণা সেই ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। গবেষক দলের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, প্যালিওলিথিক যুগের ডিনারে বা রান্নাঘরে কিংবা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে পাথরের পাশাপাশি কাঠের ব্যবহার ছিল সুদূরপ্রসারী।

খাবার সংরক্ষণ করা, গুহার ভেতরে বিভিন্ন অস্থায়ী কাঠামো বা বেড়া তৈরি করা, এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য ছোটখাটো পাত্র বা ট্রে তৈরি করা—সবকিছুতেই কাঠের আধিক্য ছিল। এই গবেষণা প্রমাণ করে যে, প্রাগৈতিহাসিক মানবকুল কেবল বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়নি, বরং স্থানীয় পরিবেশের উপাদানগুলোকে কাজে লাগিয়ে তারা এক সমৃদ্ধ ‘কাঠের যুগ’ -এর সংস্কৃতি গড়ে তুলেছিল।

নিয়ান্ডারথালদের মস্তিষ্ক এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে এই গবেষণা। প্রত্নতাত্ত্বিক মোড় পরিবর্তন : স্পেনের আব্রিক রোমানি গুহা থেকে প্রাপ্ত এই প্রায় ৬০০টি কাঠের নিদর্শনের যৌথ বিশ্লেষণ মানব বিবর্তন ও প্রাগৈতিহাসিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

এটি শুধু নিয়ান্ডারথালদের টিকে থাকার কৌশলকেই উন্মোচন করেনি, বরং আমাদের এই বার্তা দিয়েছে যে, প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে কেবল পাথর বা হাড়ের দিকে নজর দিলেই চলবে না; বরং যেসব জায়গায় অনুকূল ভূতাত্ত্বিক পরিবেশ রয়েছে, সেখানে জৈব উপাদান ও কাঠের ইতিহাস উদ্ধারে আরও বেশি জোর দেওয়া উচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, সামনের দিনগুলোতে এ ধরনের আরও গবেষণা প্রাচীন মানব সভ্যতার অজানা অনেক গোপন রহস্য বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে আসবে, যা আমাদের আদিম পূর্বপুরুষদের জীবনযাত্রা সম্পর্কে এক সম্পূর্ণ নতুন ও উন্নত দৃষ্টিভঙ্গি দান করবে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের মূল্যায়ন : এই আবিষ্কার প্রাগৈতিহাসিক প্রত্নতত্ত্বে এক নতুন বিপ্লব ঘটালেও এর সঙ্গে জড়িত গবেষকদের বেশ কিছু পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ রিডিংয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যানিমেক মিল্কস (এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন) বলেন, ‘আমাদের কাছে তাদের দৈনন্দিন জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ খুবই সীমিত।

এই আবিষ্কার আমাদের তাদের জীবনযাত্রার কল্পনা করতে সাহায্য করছে। ’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কাঠ পচে গিয়ে বালিতে কেবল ফাঁপা গহ্বর তৈরি করায় আধুনিক কাঠের মতো বিস্তারিত কাটার দাগ বা সূক্ষ্ম টেক্সচার সব সময় নিখুঁতভাবে পাওয়া যায় না। ১৯৯৫ সাল থেকেই গবেষকরা এই ফাঁপা জায়গাগুলোতে রজন ঢেলে নিখুঁত কাস্ট বা অবয়ব তৈরি করে আসছেন, যা তাদের কাজের পরিধি কিছুটা সহজ করেছে।

অন্যদিকে, লোয়ার স্যাক্সনি হেরিটেজ প্রোটেকশন অফিসের প্রত্নতাত্ত্বিক ডার্ক লেডার সংশয় প্রকাশ করে বলেন, কাঠের গায়ে পরিষ্কার কাটার দাগ বা স্পষ্ট প্রমাণের অনুপস্থিতিতে প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে যাওয়া কাঠ আর মানুষের তৈরি হাতিয়ার আলাদা করা বেশ কঠিন কাজ। তবে তিনিও স্বীকার করেন, আব্রিক রোমানি গুহার আবিষ্কারগুলো প্রাগৈতিহাসিক গবেষণায় এক অনন্য মাইলফলক স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই রহস্যগুলো আরও ভালোভাবে উন্মোচন করা সম্ভব হবে।