আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭১%

জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের হাত-পা কর্তন, এক বছর পর ভাতিজাকে হত্যা

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:56:29 pm, Wednesday, 2 September 2026
  • 43

জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের হাত-পা কর্তন, এক বছর পর ভাতিজাকে হত্যা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হাত-পা কেটে পঙ্গু করার পরও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় এক বছর পর একই পরিবারের প্রবাসী ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পুলিশের গাফিলতি ও বিচারহীনতার সুযোগে অভিযুক্তরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গুরুতর আহত ইসহাক মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা। লিপি বেগম জানান, সিরাজদিখান উপজেলার পূর্ব কোলাগ্রামে স্থানীয় সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং দুই ছেলে বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লার সঙ্গে ইসহাক মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

তার অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৮ মার্চ রোজার দিনে সিদ্দিক মোল্লার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ইসহাক মোল্লার ডান পা কেটে আলাদা করে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি অর্থের বিনিময়ে চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লিপি বেগম বলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী তার স্বামী ইলিয়াস মোল্লা দেশে ফিরে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু সেই চেষ্টাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন ইলিয়াস হুইলচেয়ারে বসা পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে নিয়ে রাস্তায় যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশায় এসে সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ইলিয়াসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় এবং ইসহাক মোল্লার ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলা হয়।

আহত দুজনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইলিয়াস মারা যান। ইলিয়াস হত্যা মামলায় সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লা গ্রেপ্তার হন। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

তবে লিপি বেগমের অভিযোগ, ঘটনার এক মাসের মাথায় রওশন আরা জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে লিপি বেগম বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও হত্যা ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি দ্রুত বিচার, আসামিদের জামিন বাতিল এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা: আটক ২

জামিনে বেরিয়ে ভাইয়ের হাত-পা কর্তন, এক বছর পর ভাতিজাকে হত্যা

Update Time : 04:56:29 pm, Wednesday, 2 September 2026

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হাত-পা কেটে পঙ্গু করার পরও মূল আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় এক বছর পর একই পরিবারের প্রবাসী ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পুলিশের গাফিলতি ও বিচারহীনতার সুযোগে অভিযুক্তরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন নিহত ইলিয়াস মোল্লার স্ত্রী লিপি বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গুরুতর আহত ইসহাক মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যরা। লিপি বেগম জানান, সিরাজদিখান উপজেলার পূর্ব কোলাগ্রামে স্থানীয় সিদ্দিক মোল্লা, তার স্ত্রী রওশন আরা এবং দুই ছেলে বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লার সঙ্গে ইসহাক মোল্লার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

তার অভিযোগ, ২০২৫ সালের ৮ মার্চ রোজার দিনে সিদ্দিক মোল্লার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ইসহাক মোল্লার ডান পা কেটে আলাদা করে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি অর্থের বিনিময়ে চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লিপি বেগম বলেন, মালয়েশিয়া প্রবাসী তার স্বামী ইলিয়াস মোল্লা দেশে ফিরে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু সেই চেষ্টাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ জুন ইলিয়াস হুইলচেয়ারে বসা পঙ্গু চাচা ইসহাক মোল্লাকে নিয়ে রাস্তায় যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি অটোরিকশায় এসে সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। ইলিয়াসকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয় এবং ইসহাক মোল্লার ডান হাতের দুটি আঙুল কেটে ফেলা হয়।

আহত দুজনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে ২০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইলিয়াস মারা যান। ইলিয়াস হত্যা মামলায় সিদ্দিক মোল্লা, রওশন আরা, বিপ্লব ও বিদ্যুৎ মোল্লা গ্রেপ্তার হন। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

তবে লিপি বেগমের অভিযোগ, ঘটনার এক মাসের মাথায় রওশন আরা জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। মামলা প্রত্যাহার না করলে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে লিপি বেগম বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও হত্যা ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি দ্রুত বিচার, আসামিদের জামিন বাতিল এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।