আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭১%

গুলশান মাঠ দখলের বিরুদ্ধে বিশিষ্ট নাগরিকদের তীব্র প্রতিবাদ ও বিবৃতি

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:14:00 pm, Wednesday, 12 August 2026
  • 57

গুলশান মাঠ দখলের বিরুদ্ধে বিশিষ্ট নাগরিকদের তীব্র প্রতিবাদ ও বিবৃতি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক মাঠ ব্যবহারের জন্য গুলশান ইয়ুথ ক্লাব কর্তৃক নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি অবগত থাকার পরও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকা উদ্বেগজনক।

এটি আইনের লঙ্ঘন এবং নাগরিকদের অধিকার হরণের শামিল। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলনের পক্ষে ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা রতনা, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, নাঈম উল হাসান, আমিরুল রাজিব, অ্যাড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সুশান্ত সিনহা, মো. জাহাঙ্গীর আলম, ড. মোশাহিদা সুলতানা, ইব্রাহীম খলিল এবং আমিনুল ইসলাম।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাজউক চেয়ারম্যান মাঠ ব্যবহারের জন্য ক্লাব কর্তৃক অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে নাগরিকদের জন্য দেশের মাঠ ও পার্কগুলো বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দখলের অভিযোগ থাকা গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করা বিস্ময়কর এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী।

একটি ক্লাবের স্বার্থে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের এমন নতজানু নীতি সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। মাঠ ও পার্ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়; এগুলো জনগণের সম্পদ। অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত করা তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল। জনগণের খেলার মাঠ ও পার্ককে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে বেআইনি স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজউক ও গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্লাবটি বিভিন্ন সময়ে সুবিধা পেয়ে এসেছে। সম্প্রতি রাজউক সেই ক্লাবের সঙ্গেই পার্ক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চুক্তি করেছে, যা জনস্বার্থে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক দখল বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে একাধিক রিট মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে মাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আসছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যুবদলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে বহিষ্কার করা হবে: এমপি জালাল উদ্দিন

গুলশান মাঠ দখলের বিরুদ্ধে বিশিষ্ট নাগরিকদের তীব্র প্রতিবাদ ও বিবৃতি

Update Time : 10:14:00 pm, Wednesday, 12 August 2026

গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক মাঠ ব্যবহারের জন্য গুলশান ইয়ুথ ক্লাব কর্তৃক নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি অবগত থাকার পরও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নীরব ভূমিকা উদ্বেগজনক।

এটি আইনের লঙ্ঘন এবং নাগরিকদের অধিকার হরণের শামিল। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে মাঠ, পার্ক, জলাধার দখলমুক্ত আন্দোলনের পক্ষে ১২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন- সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দা রতনা, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, নাঈম উল হাসান, আমিরুল রাজিব, অ্যাড. সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সুশান্ত সিনহা, মো. জাহাঙ্গীর আলম, ড. মোশাহিদা সুলতানা, ইব্রাহীম খলিল এবং আমিনুল ইসলাম।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাজউক চেয়ারম্যান মাঠ ব্যবহারের জন্য ক্লাব কর্তৃক অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে নাগরিকদের জন্য দেশের মাঠ ও পার্কগুলো বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দখলের অভিযোগ থাকা গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে পার্ক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করা বিস্ময়কর এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী।

একটি ক্লাবের স্বার্থে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের এমন নতজানু নীতি সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। মাঠ ও পার্ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি নয়; এগুলো জনগণের সম্পদ। অর্থের বিনিময়ে নাগরিকদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত করা তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার শামিল। জনগণের খেলার মাঠ ও পার্ককে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার ও পরিচালনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে বেআইনি স্থাপনা নির্মাণ ও দখলের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজউক ও গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্লাবটি বিভিন্ন সময়ে সুবিধা পেয়ে এসেছে। সম্প্রতি রাজউক সেই ক্লাবের সঙ্গেই পার্ক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত চুক্তি করেছে, যা জনস্বার্থে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক দখল বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে একাধিক রিট মামলা হয়েছে। এসব মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে ক্লাবটি দীর্ঘদিন ধরে মাঠের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আসছে।