5:25 pm, Saturday, 1 August 2026

ইয়েমেনে বড় সামরিক অভিযানের ‘প্রস্তুতি নিচ্ছে’ সৌদি আরব

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:50:50 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-বাইদা প্রদেশে স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ-অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য সুয়েজ খালই এখন প্রধান বিকল্প। তবে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ। হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের ভেতরেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে সৌদি আরব ইরাকে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের জবাবে হুতিরা সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়েছে। সূত্র: ওয়াইনেট

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কক্সবাজার রুটে চলতি মাসেই চালু হচ্ছে আরও এক জোড়া নতুন ট্রেন : রেল প্রতিমন্ত্রী

ইয়েমেনে বড় সামরিক অভিযানের ‘প্রস্তুতি নিচ্ছে’ সৌদি আরব

Update Time : 02:50:50 pm, Saturday, 1 August 2026

মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যে ইয়েমেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন আল-বাইদা প্রদেশে স্থল অভিযান চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ-অভিযানের প্রস্তুতিও চলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু ইউনিট সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের অবরোধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক নৌ-জোট গঠনের চেষ্টা করছে রিয়াদ। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান ও জিবুতিসহ ১৪টি দেশ একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটকে সমর্থন জানিয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে। তাদের দাবি, ইয়েমেনের ওপর সৌদি অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে। এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানি আরও চাপে পড়েছে। হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব দুই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য সুয়েজ খালই এখন প্রধান বিকল্প। তবে এটি দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল পথ। হুতিরা সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজের পাশাপাশি সৌদি আরবের ভেতরেও একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে ইয়ানবু বন্দরে তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে সৌদি আরব ইরাকে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানে হামলা চালায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হোদেইদা বন্দরেও সৌদি হামলার খবর পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বিমান হামলা ও নৌ অবরোধের জবাবে হুতিরা সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনায় সেই স্থিতাবস্থা ভেঙে পড়েছে। সূত্র: ওয়াইনেট