প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গৃহবন্দি করা হয়েছে। তাঁর পদত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।
বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে উয়েনো ব্যাংকের পতনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের জেরে শুক্রবার সান্তিয়াগো পেনিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর কয়েক মিনিট আগে নিজ দলের সদস্যসহ আইন প্রণেতারা তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন।
বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পদত্যাগ প্রস্তাব গ্রহণ না করে অভিশংসন ও অসদাচরণের অভিযোগে বিচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর ফলে, সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাওয়া আজীবন সিনেট সদস্যপদ এবং দায়মুক্তির সুবিধাও হারাবেন সান্তিয়াগো পেনিয়া।
খবরে বলা হয়, গত বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ছিল পেনিয়ার হাতে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
ডিজিটাল ব্যাংকটির পতন এবং প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেটি জব্দ করার ঘটনায় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের সঞ্চয়ের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন।
ফলে আনুমানিক ৩০ লাখ আমানতকারী তাদের সঞ্চয় ও পেনশনের অর্থ তুলতে পারছেন না। এ ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে রাজধানী আসুনসিওনে।
অভিশংসনের অভিযোগে বলা হয়েছে, পেনিয়া স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি কার্যক্রমে কারসাজি করেছেন, পেনশন তহবিলের অর্থ অন্য খাতে সরিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ঘিরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বাসভঙ্গ, প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা আদায় এবং তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শনিবার পেনিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলি সিলভিয়া মার্গারিটা গনজালেজ ভেস্টার।
পেনিয়াকে অভিশংসনের প্রস্তাবের পক্ষে সিনেটের ৪৫ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন ভোট দেন। একজন আইনপ্রণেতা অনুপস্থিত ছিলেন।
পরে সিনেটের প্রেসিডেন্ট বাসিলিও নুনিয়েজ বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলার দায়ে পেনিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এরপর প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। ২০২৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পেনিয়া দুঃখ প্রকাশ বলেন, ‘আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’
দেশটিতে ২০২৩ সালের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দল কলোরাডো পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন পেনিয়া। ওই নির্বাচনে তিনি মধ্য-বামপন্থী এক প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছিলেন।
পেনিয়ার পর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় পরবর্তী অবস্থানে থাকা ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া থেকে সরে এসেছে কলোরাডো পার্টি।





















