নদীতে পানি নেই বললেই চলে, অথচ থামছে না ভাঙন। শুষ্ক মৌসুমে ঝিনাই নদীর এমন আকস্মিক ভাঙনে চরম বিপাকে পড়েছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের হেলেঞ্চাবাড়ী গ্রামের মানুষ। গত কয়েক দিনের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ বিঘা আবাদি জমি।
একের পর এক জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। শুধু ফসলি জমিই নয়, ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বসতবাড়ি, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকার একমাত্র নদী রক্ষা সড়ক। সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হেলাঞ্চাবাড়ী গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝিনাই নদীতে গত শনিবার থেকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। নদীতে পানির প্রবাহ কম থাকলেও প্রতিনিয়ত ভাঙছে নদীর পাড়।
এতে কৃষকদের আবাদ করা ভুট্টা, আলু, মরিচ, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। কয়েক দিনের ব্যবধানেই বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন অনেক কৃষক। স্থানীয় কৃষক জহুরুল ইসলাম, ইমান আলী ও মোফাজ্জল হোসেন জানান, ধারদেনা করে জমিতে ফসল আবাদ করেছিলেন তাঁরা। ফলন ঘরে তোলার আগেই নদীভাঙনে জমি বিলীন হয়ে যাওয়ায় তাঁদের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন ও শুভ মিয়াসহ অনেকে জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকার পরও এভাবে ভাঙন শুরু হওয়া তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
তাই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তাঁরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপ সিংহ বলেন, নদীভাঙনে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পেয়ে কৃষি বিভাগের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি প্রণোদনা পাওয়া গেলে তাঁদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা বলেন, অসময়ে নদীভাঙনে বেশ কয়েকজন কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।





















