আজ বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ২৯°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

এক বছরের মধ্যেই পতন হবে মোদি সরকার, দাবি রাহুল গান্ধীর

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:16:03 pm, Thursday, 5 November 2026
  • 7

এক বছরের মধ্যেই পতন হবে মোদি সরকার, দাবি রাহুল গান্ধীর

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যে পতন হতে পারে মোদি সরকারের।

তার মতে, সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভেতরে ভাঙন শুরু হয়েছে। রাহুলের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতির অভিযোগ, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। বিরোধী দলগুলোও বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, রাহুলের এই বক্তব্য কি রাজনৈতিক আক্রমণ, নাকি সত্যিই দুর্বল হয়ে পড়ছে মোদি সরকারের ক্ষমতার ভিত?

আন্দোলনে বাড়ছে সরকারের অস্বস্তি মোদি সরকারের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ক্ষোভ সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। আন্দোলন একপর্যায়ে পার্লামেন্ট পর্যন্ত গড়ায়।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। আন্দোলনে বেকারত্ব, কর্মসংস্থান ও সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে আসে। এরপর ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দাবি, তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের মধ্যে ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটার রয়েছেন। ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির চাপ ভারতের অর্থনীতি বড় হলেও তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষিত ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের বেকারত্বের হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের বছর এই হার ছিল ৭ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ওইসিডির ২০২৬ সালের জুনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।

আইএমএফের জুলাইয়ের পূর্বাভাসে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি না থাকলেও প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্নীতি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো।

বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, তদন্তকারী সংস্থার কার্যক্রম এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তিনি একে ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সরকার ও বিজেপি এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।

বিরোধীদের ঐক্য কতটা কার্যকর হবে? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও এনডিএ জোটের সমর্থনে সরকার গঠন করে। ফলে সরকার পরিচালনায় জোটের শরিকদের গুরুত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বাম দলসহ ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ১ নভেম্বরের দিল্লির সমাবেশ বিরোধীদের সম্মিলিত অবস্থানের একটি উদাহরণ।

তবে বিরোধীদের মধ্যে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নির্বাচনি কৌশলের সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই কি এক বছরের মধ্যে পতন? রাহুল গান্ধীর বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত—এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ভারতের বর্তমান লোকসভার স্বাভাবিক মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে, জোটের শরিকেরা সমর্থন প্রত্যাহার করলে কিংবা অনাস্থা ভোটে সরকার পরাজিত হলে আগেই ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে।

মোদি সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ জনঅসন্তোষ সামাল দেওয়া, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা বজায় রাখা। অন্যদিকে বিরোধীদেরও জনঅসন্তোষকে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প কর্মসূচি দিতে হবে। সব মিলিয়ে মোদি সরকার রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকলেও আগামী এক বছরের মধ্যে ক্ষমতা হারাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রাহুল গান্ধীর ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, হিন্দুস্তান টাইমস, আউটলুক ইন্ডিয়া, ওইসিডি ও আইএমএফ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এক বছরের মধ্যেই পতন হবে মোদি সরকার, দাবি রাহুল গান্ধীর

Update Time : 04:16:03 pm, Thursday, 5 November 2026

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর দাবি, আগামী এক বছরের মধ্যে পতন হতে পারে মোদি সরকারের।

তার মতে, সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ভেতরে ভাঙন শুরু হয়েছে। রাহুলের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ভারতে বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, দুর্নীতির অভিযোগ, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। বিরোধী দলগুলোও বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, রাহুলের এই বক্তব্য কি রাজনৈতিক আক্রমণ, নাকি সত্যিই দুর্বল হয়ে পড়ছে মোদি সরকারের ক্ষমতার ভিত?

আন্দোলনে বাড়ছে সরকারের অস্বস্তি মোদি সরকারের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আন্দোলন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ক্ষোভ সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ২০২৬ সালের জুন-জুলাইয়ে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে দিল্লিসহ বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। আন্দোলন একপর্যায়ে পার্লামেন্ট পর্যন্ত গড়ায়।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও ওঠে। আন্দোলনে বেকারত্ব, কর্মসংস্থান ও সরকারের জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে আসে। এরপর ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। ১ নভেম্বর নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়।

তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দাবি, তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের মধ্যে ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটার রয়েছেন। ভুলবশত কারও নাম বাদ পড়লে পুনরায় নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির চাপ ভারতের অর্থনীতি বড় হলেও তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাধ্যমিক বা তার বেশি শিক্ষিত ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সীদের বেকারত্বের হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আগের বছর এই হার ছিল ৭ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ওইসিডির ২০২৬ সালের জুনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে।

আইএমএফের জুলাইয়ের পূর্বাভাসে চলতি বছরের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ অর্থনীতি ভেঙে পড়ার পরিস্থিতি না থাকলেও প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুর্নীতি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ মোদি সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো।

বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, তদন্তকারী সংস্থার কার্যক্রম এবং বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ভেতরেও সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তিনি একে ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্রোহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সরকার ও বিজেপি এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।

বিরোধীদের ঐক্য কতটা কার্যকর হবে? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও এনডিএ জোটের সমর্থনে সরকার গঠন করে। ফলে সরকার পরিচালনায় জোটের শরিকদের গুরুত্ব বেড়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বাম দলসহ ইন্ডিয়া জোটের শরিকেরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। ১ নভেম্বরের দিল্লির সমাবেশ বিরোধীদের সম্মিলিত অবস্থানের একটি উদাহরণ।

তবে বিরোধীদের মধ্যে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও নির্বাচনি কৌশলের সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিই কি এক বছরের মধ্যে পতন? রাহুল গান্ধীর বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত—এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ভারতের বর্তমান লোকসভার স্বাভাবিক মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে, জোটের শরিকেরা সমর্থন প্রত্যাহার করলে কিংবা অনাস্থা ভোটে সরকার পরাজিত হলে আগেই ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে।

মোদি সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ জনঅসন্তোষ সামাল দেওয়া, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা বজায় রাখা। অন্যদিকে বিরোধীদেরও জনঅসন্তোষকে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প কর্মসূচি দিতে হবে। সব মিলিয়ে মোদি সরকার রাজনৈতিক চাপের মধ্যে থাকলেও আগামী এক বছরের মধ্যে ক্ষমতা হারাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রাহুল গান্ধীর ভবিষ্যদ্বাণী শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নেয় কি না, সেটিই এখন ভারতের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, হিন্দুস্তান টাইমস, আউটলুক ইন্ডিয়া, ওইসিডি ও আইএমএফ।