ইন্টারনেটের কল্যাণে বিশ্ব এখন এক বিশ্বগ্রামে পরিণত হয়েছে। মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বের নানা প্রান্তের তথ্য ও বিনোদন সহজেই হাতের নাগালে পাচ্ছেন। বর্তমানে ইউটিউব ও বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নিজ দেশের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের তৈরি ওয়েব সিরিজ এবং চলচ্চিত্রও দেখছেন দর্শকরা।
বাংলাদেশের মানুষও এর ব্যতিক্রম নন। সম্প্রতি পাকিস্তানি একটি নাটকের আবু বকর নামের চরিত্রটি অনেক বাংলাদেশির নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরিত্রটি নিয়ে নিজেদের মতামতও জানাচ্ছেন অনেকে। চরিত্রটি জনপ্রিয় পাকিস্তানি উর্দু টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘দার-এ-নাজাত’-এর। ২০২৬ সালের ১ আগস্ট নাটকটির প্রচার শুরু হয়। এটি প্রচারিত হচ্ছে এআরওয়াই ডিজিটালে।
নাটকটিতে আবু বকর চরিত্রে শেহেরিয়ার মুনাওয়ার, জারিয়াব হাবিব চরিত্রে দুর-এ-ফিশান সেলিম এবং জামিল হুসাইন চরিত্রে নামির নওয়াজ খান অভিনয় করেছেন। আকর্ষণীয় গল্প ও অপ্রত্যাশিত নানা মোড়ের কারণে দর্শকদের মনোযোগ কেড়েছে নাটকটি। কে এই শেহেরিয়ার মুনাওয়ার? শেহেরিয়ার মুনাওয়ার পাকিস্তানের একজন অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, পরিচালক ও প্রযোজক।
১৯৮৮ সালের ৯ আগস্ট করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিনোদনজগতে পা রাখার আগে করাচির ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে ফিন্যান্স ও মার্কেটিং বিষয়ে পড়াশোনা করেন। মডেলিং ও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ২০১২ সালে ‘মেরে দর্দ কো জো জুবান মিলে’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার।
এই অভিনয় তাকে শুরুতেই পরিচিতি এনে দেয়। এ জন্য তিনি হুম অ্যাওয়ার্ডে সেরা টেলিভিশন সেনসেশন পুরস্কারও পান। তার বাবা এয়ার কমোডর মুনাওয়ার আলম সিদ্দিকী পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি ব্যবসায় যুক্ত হন। তার মা আমিনা মুনাওয়ার সিদ্দিকী গৃহিণী। মুনাওয়ারের বাবা হুম নেটওয়ার্কের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। এই নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করেন তার ফুফু সুলতানা সিদ্দিকী।
সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্কে হারুন রশিদের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শেহেরিয়ার মুনাওয়ার জানান, আবু বকর চরিত্রটির বেশ কিছু বড় দুর্বলতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, সে সব সময় অন্যদের খুশি রাখতে চায়। চরিত্রটির দুর্বলতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুনাওয়ার বলেন, বাস্তব জীবনেও তিনি অন্যদের খুশি রাখতে চান এবং কাউকে ‘না’ বলা তার জন্য কঠিন।
তার মতে, আবু বকরের মধ্যে অন্যদের রক্ষাকর্তা হয়ে ওঠার প্রবণতাও রয়েছে। কারণ, তার মা তাকে এমনভাবে বড় করেছেন যে ছোটবেলা থেকেই তার মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে, কোনটি সঠিক কাজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভাবুন তো, এই মানুষটি কতটা চাপের মধ্যে জীবন কাটায়। ’ সাক্ষাৎকারে চরিত্রটি নিয়ে আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য দেন এই অভিনেতা। তার ভাষ্য, আবু বকর যতটা প্রকাশ করেছে, জারিয়াবের প্রতি তার ভালো লাগা তার চেয়ে অনেক আগে থেকেই।
অন্তত চরিত্রটিকে তিনি সেভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। মুনাওয়ার জানান, নাটকের প্রধান নারী চরিত্রটির প্রতি আবু বকরের আগ্রহ শুরু থেকেই ছিল। মায়ের সঙ্গে সে জারিয়াবের বাড়িতে যেত এবং হয়তো আড়ালে থেকে তাকে এক-আধবার দেখত। অভিনেতার মতে, জারিয়াব ও আবু বকরের ব্যক্তিত্বের সংঘাত তাকে এক দ্বিধার মধ্যে ফেলেছে। একদিকে তার মন যা চায়, অন্যদিকে তার বুদ্ধি জানে সেটি বিপজ্জনক।
দর্শকদের কাছে আবু বকরের ভালো লাগার বিষয়টি বোঝানোর জন্য নাটকের বিভিন্ন জায়গায় ইঙ্গিতও রেখেছেন বলে জানান মুনাওয়ার। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার তারা যখন একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে যায়, তখন আবু বকর জারিয়াবকে বলে, তুমি পাস্তা পছন্দ করো, তাই না? জারিয়াব জানতে চায়, সে কীভাবে জানল। আবু বকর উত্তর দেয়, খালা কিশওয়ার একবার বলেছিলেন।
মেয়েটিকে ভালো না বাসলে আমি কেন বিষয়টি মনে রাখব? আমি পুরো নাটকেই এমন ইঙ্গিত ছড়িয়ে দিয়েছি।





















