যশোরে গেটম্যানবিহীন রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মো. আতিয়ার রহমান (৫৫) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ছোট মেঘলা রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, ট্রেনটি কোনো হর্ন না দিয়েই রেলক্রসিংয়ে চলে আসে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান না থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যানবাহন ও পথচারীরা। নিহত আতিয়ার রহমান যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত মুজিবারের ছেলে। তিনি আফিল গ্রুপের ফিড কোম্পানির ট্রাকচালক ছিলেন। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে যশোরের কোতোয়ালি থানাধীন গাজীর দরগা থেকে জয়কৃষ্ণপুরগামী সড়কের ছোট মেঘলা রেলক্রসিং পার হচ্ছিলেন আতিয়ার রহমান।
এ সময় ট্রেনের উপস্থিতি খেয়াল না করেই রেললাইন পার হওয়ার সময় বেনাপোল থেকে খুলনাগামী একটি চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও আফিল গ্রুপের সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, আতিয়ার রহমান হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। পরে তার মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। স্থানীয়রা জানান, ছোট মেঘলা রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে হয়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটি কোনো হর্ন না দিয়েই রেলক্রসিং অতিক্রম করছিল বলে দাবি তাদের।
তাদের ধারণা, হর্ন না দেওয়ার কারণেও দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে দ্রুত গেটম্যান নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। যশোর জিআরপি (রেলওয়ে) পুলিশের উপপরিদর্শক লিটন জানান, বেনাপোল থেকে খুলনাগামী ট্রেনের ধাক্কায় আফিল গ্রুপের ট্রাকচালক আতিয়ার রহমানের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।






















