আজ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি এবং তা থেকে প্রতিরোধের উপায়

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:49:57 am, Wednesday, 4 November 2026
  • 10

ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি এবং তা থেকে প্রতিরোধের উপায়

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে স্ট্রokের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি মস্তিষ্ক। শরীরের চলাফেরা, চিন্তাভাবনা, স্মৃতিশক্তি, কথা বলা ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে মস্তিষ্ক। এর স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ। কিন্তু কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে দেখা দেয় ব্রেন স্ট্রোক।

এটি একটি গুরুতর জরুরি অবস্থা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোক শুধু বয়স্ক মানুষের রোগ নয়। যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ধূমপান, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। অনেক সময় প্রাথমিক লক্ষণ বুঝতে না পারায় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।

ফলে রোগীর স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ব্রেন স্ট্রোকের ধরন ব্রেন স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের। ইস্কেমিক স্ট্রোক : মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এই ধরনের স্ট্রোক হয়। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হেমোরেজিক স্ট্রোক : মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে মস্তিষ্কের ভেতরে বা চারপাশে রক্তক্ষরণ হয়।

একে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলা হয়। দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এর অন্যতম ঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে স্ট্রোকের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একে ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বলা হয়। উপসর্গ দ্রুত সেরে গেলেও এটি ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ উচ্চ রক্তচাপ।

দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে রক্তনালি বন্ধ হওয়া কিংবা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ডায়াবেটিসও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা দীর্ঘদিন থাকলে রক্তনালির ক্ষতি হয় এবং রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনিতে চর্বি জমে রক্তনালি সরু হয়ে যায়।

ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়। হৃদরোগের মধ্যে বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের কারণে হৃদযন্ত্রে রক্ত জমাট বেঁধে তা মস্তিষ্কে পৌঁছে স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এ ছাড়া স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

বয়স বৃদ্ধি ও পরিবারের নিকটাত্মীয়দের স্ট্রোকের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। স্ট্রোকের লক্ষণ যেভাবে চিনবেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত হঠাৎ কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে পারেÑ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া। শরীরের এক পাশের হাত বা পা দুর্বল কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া। কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।

অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া। হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হওয়া। হঠাৎ ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে অসুবিধা হওয়া। কোনো কারণ ছাড়াই তীব্র মাথাব্যথা হওয়া। স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করতে লক্ষ্য করুন- হাসতে বললে মুখের এক পাশ বেঁকে যাচ্ছে কি না দেখুন। দুই হাত তুলতে বললে একটি হাত নিচে নেমে যাচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। কথা বলতে বললে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না দেখুন।

এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। উপসর্গ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় সব ধরনের স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ : নিয়মিত রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করুন। ধূমপান পরিহার : স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার : প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।

অতিরিক্ত লবণ, চিনি, তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন। নিয়মিত ব্যায়াম : প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুম : শরীরের উপযোগী ওজন বজায় রাখুন। প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। স্ট্রোক হলে কী করবেন? স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করা যাবে না। রোগীকে দ্রুত স্ট্রোকের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এমন হাসপাতালে নিতে হবে। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখা জরুরি।

কারণ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে খাবার, পানি কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ স্ট্রোক রক্তনালি বন্ধ হওয়ার কারণে হয়েছে, নাকি রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছে, তা পরীক্ষা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।

হাসপাতালে সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে স্ট্রোকের ধরন নির্ণয় করা হয়। ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত রোগীকে রক্তের জমাট গলানোর ওষুধ কিংবা বিশেষ পদ্ধতিতে জমাট অপসারণের চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা মস্তিষ্কের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কোরিয়ার ইউনিভার্সিটিতে প্রদর্শিত হলো এআই প্রযুক্তির বাংলাদেশি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘গ্যাপ’

ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি এবং তা থেকে প্রতিরোধের উপায়

Update Time : 05:49:57 am, Wednesday, 4 November 2026

উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে স্ট্রokের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি মস্তিষ্ক। শরীরের চলাফেরা, চিন্তাভাবনা, স্মৃতিশক্তি, কথা বলা ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করে মস্তিষ্ক। এর স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত রক্ত ও অক্সিজেন সরবরাহ। কিন্তু কোনো কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে দেখা দেয় ব্রেন স্ট্রোক।

এটি একটি গুরুতর জরুরি অবস্থা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্ট্রোক শুধু বয়স্ক মানুষের রোগ নয়। যেকোনো বয়সেই এটি হতে পারে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ধূমপান, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। অনেক সময় প্রাথমিক লক্ষণ বুঝতে না পারায় চিকিৎসা নিতে দেরি হয়।

ফলে রোগীর স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ব্রেন স্ট্রোকের ধরন ব্রেন স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের। ইস্কেমিক স্ট্রোক : মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এই ধরনের স্ট্রোক হয়। এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হেমোরেজিক স্ট্রোক : মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে মস্তিষ্কের ভেতরে বা চারপাশে রক্তক্ষরণ হয়।

একে হেমোরেজিক স্ট্রোক বলা হয়। দীর্ঘদিনের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এর অন্যতম ঝুঁকির কারণ। এ ছাড়া সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল কমে গিয়ে স্ট্রোকের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। একে ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক (টিআইএ) বলা হয়। উপসর্গ দ্রুত সেরে গেলেও এটি ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে। স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ উচ্চ রক্তচাপ।

দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মস্তিষ্কের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে রক্তনালি বন্ধ হওয়া কিংবা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। ডায়াবেটিসও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তে অতিরিক্ত শর্করা দীর্ঘদিন থাকলে রক্তনালির ক্ষতি হয় এবং রক্ত চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনিতে চর্বি জমে রক্তনালি সরু হয়ে যায়।

ধূমপান রক্তনালির ক্ষতি করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়। হৃদরোগের মধ্যে বিশেষ করে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের কারণে হৃদযন্ত্রে রক্ত জমাট বেঁধে তা মস্তিষ্কে পৌঁছে স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এ ছাড়া স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।

বয়স বৃদ্ধি ও পরিবারের নিকটাত্মীয়দের স্ট্রোকের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। স্ট্রোকের লক্ষণ যেভাবে চিনবেন স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত লক্ষণ শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত হঠাৎ কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে পারেÑ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া। শরীরের এক পাশের হাত বা পা দুর্বল কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া। কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অসুবিধা হওয়া।

অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া। হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা হওয়া। হঠাৎ ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে অসুবিধা হওয়া। কোনো কারণ ছাড়াই তীব্র মাথাব্যথা হওয়া। স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করতে লক্ষ্য করুন- হাসতে বললে মুখের এক পাশ বেঁকে যাচ্ছে কি না দেখুন। দুই হাত তুলতে বললে একটি হাত নিচে নেমে যাচ্ছে কি না লক্ষ্য করুন। কথা বলতে বললে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না দেখুন।

এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। উপসর্গ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় সব ধরনের স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ : নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করুন।

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন। ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ : নিয়মিত রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করুন। ধূমপান পরিহার : স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করুন। স্বাস্থ্যকর খাবার : প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।

অতিরিক্ত লবণ, চিনি, তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন। নিয়মিত ব্যায়াম : প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করার চেষ্টা করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুম : শরীরের উপযোগী ওজন বজায় রাখুন। প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। স্ট্রোক হলে কী করবেন? স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করা যাবে না। রোগীকে দ্রুত স্ট্রোকের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে এমন হাসপাতালে নিতে হবে। লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখা জরুরি।

কারণ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে খাবার, পানি কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে নিজে থেকে অ্যাসপিরিন বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ স্ট্রোক রক্তনালি বন্ধ হওয়ার কারণে হয়েছে, নাকি রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণের কারণে হয়েছে, তা পরীক্ষা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।

হাসপাতালে সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে স্ট্রোকের ধরন নির্ণয় করা হয়। ইস্কেমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত রোগীকে রক্তের জমাট গলানোর ওষুধ কিংবা বিশেষ পদ্ধতিতে জমাট অপসারণের চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা মস্তিষ্কের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।